বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

9.

(ক) সারমর্ম লেখ:বিপদে মোরে রক্ষা করো, এ নহে মোর প্রার্থনা- বিপদে আমি না যেন করি ভয়।দুঃখ-তাপে ব্যথিত চিতে নাই-বা দিলে সান্ত্বনা, দুঃখ যেন, করিতে পারি জয়।সহায় মোর না যদি জুটে, নিজের বল না যেন টুটে-সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা- নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা- তরিতে পারি শক্তি যেন রয়।অথবা, (খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর: রাত যত গভীর হয়, প্রভাত তত নিকটে আসে।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(ক) সারমর্ম:
বিপদ ও দুঃখ-কষ্ট মানুষের জীবনে অবশ্যম্ভাবী। তাই সৃষ্টিকর্তার কাছে দুর্যোগ থেকে মুক্তি বা অযাচিত সান্ত্বনা কামনা না করে নিজের মনোবল অক্ষুণ্ন রাখা এবং সংকটকে বীরের মতো মোকাবেলা করার শক্তি অর্জন করাই মানুষের পরম প্রার্থনা হওয়া উচিত। আত্মশক্তির জোরেই সকল প্রতিকূলতা ও বঞ্চনা জয় করা সম্ভব।

অথবা,

(খ) ভাব-সম্প্রসারণ:
রাত যত গভীর হয়, প্রভাত তত নিকটে আসে।

মূলভাব: দুঃখ ও সুখ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চরম অন্ধকারের পরেই যেমন সূর্যের আলো উদ্ভাসিত হয়, তেমনি জীবনের চরম দুঃখ-কষ্ট ও হতাশার পরই সাফল্যের সোনালি সকাল নেমে আসে।

সম্প্রসারিত ভাব: প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়মে দিন ও রাত্রির আবর্তন ঘটে। গভীর অন্ধকার দেখে মানুষ কখনো আশা হারায় না; কারণ সে জানে, রাত্রি যত নিবিড় ও তিমিরাচ্ছন্ন হয়, ভোরের আগমনী বার্তা তত কাছে চলে আসে। পূর্ব দিগন্তে রক্তিম সূর্য উঠে অন্ধকার দূর করে নবজীবনের উন্মেষ ঘটায়।

মানবজীবনও এই প্রাকৃতিক নিয়মের ব্যতিক্রম নয়। জীবন কখনোই একমুখী সরলরেখায় চলে না; এখানে আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশা ও আলো-আঁধারের লুকোচুরি সারাক্ষণ বিরাজমান। জীবনে প্রতিকূলতা ও বিপদের মেঘ যখন খুব ঘন হয়ে আসে, তখন অনেকেই হতাশায় নিমজ্জিত হন এবং ভেঙে পড়েন। কিন্তু ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে অপেক্ষা করলে দেখা যায় যে, চরমতম সংকটের পরই সমাধানের পথ উন্মোচিত হয়। জগতের সকল মহৎ অর্জন ও বিজয়ের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ত্যাগ, সাধনা ও দুঃখের ইতিহাস। তীব্র কষ্টের রাত পার না হলে সফলতার আনন্দময় সকালকে স্পর্শ করা যায় না।

মন্তব্য: সুতরাং, জীবনের যেকোনো চরম দুর্যোগ ও দুঃসময়ে মনোবল না হারিয়ে আশাবাদী থাকা উচিত। অন্ধকারকে জয় করার অদম্য বিশ্বাসই মানুষকে আলোর তীরে পৌঁছে দেয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন