জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শ্রেণি-ক: চতুষ্পদী প্রাণী যাদের হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।শ্রেণি-খ: চতুষ্পদী প্রাণী যাদের হৃদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
- ক)(1)
হিমোসিল কী?
- খ)(2)
শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' শ্রেণির বৈশিষ্ট্য লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'খ' শ্রেণির প্রাণী 'ক' শ্রেণির প্রাণী অপেক্ষা উন্নত ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্বের প্রাণীদের রক্তপূর্ণ ও মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত নয় এমন সিলোমীয় দেহগহ্বরকে হিমোসিল (Haemocoel) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রার ওঠানামার সাথে পরিবর্তিত হয়, তাদের শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী বা পোইকিলোথার্মিক (Poikilothermic/Ectothermic) প্রাণী বলে। মাছ, উভচর এবং সরীসৃপ শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। প্রতিকূল শীতে নিজেদের বাঁচাতে এরা প্রায়ই শীতনিদ্রা (Hibernation) যাপন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শ্রেণি 'ক' হলো উভচর (Amphibia)। নিম্নে উভচর শ্রেণির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা হলো:
১. এরা একটোথার্মিক বা শীতল রক্তবিশিষ্ট চতুষ্পদী প্রাণী।
২. এদের ত্বক গ্রন্থিময়, মসৃণ, আর্দ্র এবং কোনো বহিঃকঙ্কাল বা আঁইশ থাকে না।
৩. এদের হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (দুটি অলিন্দ এবং একটি নিলয় নিয়ে গঠিত)।
৪. জীবনচক্রে রূপান্তর দেখা যায়; লার্ভা দশায় ফুলকা ও পরিণত অবস্থায় ফুসফুস, ত্বক এবং মুখবিবরীয় গলবিলীয় শ্লেষ্মাঝিল্লির সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
৫. এরা অসমোরেগুলেশন ও প্রজননের জন্য সাধারণত মিঠাপানির ওপর নির্ভরশীল এবং এদের ডিম জেলি দ্বারা আবৃত থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' শ্রেণি হলো উভচর (Amphibia) এবং 'খ' শ্রেণি হলো স্তন্যপায়ী (Mammalia)। বিবর্তনীয় ও গঠনগত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে 'খ' শ্রেণির প্রাণী 'ক' শ্রেণির তুলনায় অনেক বেশি উন্নত।
নিম্নে এর তুলনামূলক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
১. হৃদপিণ্ড ও রক্ত সংবহন: উভচরের হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হওয়ায় অলিন্দে অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনবিহীন রক্ত আংশিক মিশ্রিত হয়। কিন্তু স্তন্যপায়ীদের হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়), ফলে অক্সিজেনসমৃদ্ধ ও অক্সিজেনহীন রক্ত সম্পূর্ণ পৃথক থাকে এবং সংবহনতন্ত্র অত্যন্ত দক্ষ।
২. তাপ নিয়ন্ত্রণ: উভচর শীতল রক্তবিশিষ্ট (Poikilothermic), যা পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু স্তন্যপায়ী প্রাণীরা উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট (Endothermic/Homoiothermic), যা দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা সর্বদা নির্দিষ্ট রাখতে পারে।
৩. বহিঃকঙ্কাল ও শ্বসন: উভচরের ত্বক নগ্ন ও সংবেদনশীল হলেও স্তন্যপায়ীদের দেহ লোম দ্বারা আবৃত থাকে এবং ফুসফুসের মধ্যচ্ছদা (Diaphragm) ও অ্যালভিওলাসের মাধ্যমে অধিক দক্ষ শ্বসন ঘটে।
৪. স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক: স্তন্যপায়ীদের সেরিব্রাম ও সেরিবেলাম অত্যন্ত উন্নত এবং জটিল মস্তিষ্ক গঠন বিশিষ্ট, যা উভচর প্রাণীর তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক।
৫. প্রজনন ও অপত্যের যত্ন: উভচর ডিম পাড়ে এবং পানিতে বহিঃনিষেক ঘটায়, ডিম্বাণুর সুরক্ষার অভাব থাকে। অন্যদিকে স্তন্যপায়ীরা জরায়ুজ (Viviparous), এদের অভ্যন্তরীণ নিষেক ঘটে এবং অমরা (Placenta)-র মাধ্যমে ভ্রূণের পুষ্টি নিশ্চিত হয়। সন্তান জন্মের পর মা মাতৃদুগ্ধ পান করিয়ে লালন-পালন করে।অতএব, রক্ত সংবহন, শারীরিক গঠন, অভিযোজন ক্ষমতা ও বংশবৃদ্ধির উচ্চতর কৌশলের কারণে 'খ' শ্রেণি (স্তন্যপায়ী) 'ক' শ্রেণি (উভচর) অপেক্ষা অধিক উন্নত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও