বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

যেকোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো:

12.1.

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশ

12.2.

বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ

12.3.

একুশের চেতনা ও বর্তমান বাংলাদেশ

12.4.

বাংলাদেশের পোশাকশিল্প

12.5.

করোনা-উত্তর বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

১২.১. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশ

ভূমিকা:
বাংলাদেশ বহু জাতি, ধর্ম ও বর্ণের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ ভূখণ্ডের মানুষ পরস্পর সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়াই বাংলার ঐতিহ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ দেশের সামাজিক স্থায়িত্ব ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বরূপ:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলতে বোঝায় বিভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আচারের বিষয়, কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সবাই সমান নাগরিক। এই চেতনা ধারণ করাই সম্প্রীতির মূল সুর।

বাংলার ঐতিহ্যে সম্প্রীতি:
প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি সমাজ সম্প্রীতির চর্চা করে আসছে। বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বাংলার সমাজ কাঠামো। লালন সাঁই, হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিমের মরমি দর্শন এবং রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্যকর্মে সম্প্রীতি ও মানবধর্মের বাণীই সর্বোচ্চ স্থান পেয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম গেয়েছেন:
"মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান,
মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।"

মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা:
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়েই রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের সংবিধান, যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে অন্যতম মূলনীতি হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক জীবনে উৎসবের সর্বজনীনতা:
বাংলাদেশে ধর্মীয় উৎসবগুলো কেবল নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ঈদের আনন্দ, দুর্গোৎসবের উল্লাস, বড়দিনের উৎসব কিংবা বুদ্ধপূর্ণিমা—সবই পরিণত হয় সর্বজনীন উৎসবে। 'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার'—এই প্রবাদটি বাংলাদেশের জনজীবনের প্রকৃত প্রতিফলন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্তরায় ও বর্তমান সংকট:
তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য তথ্যের প্রচার এবং ধর্মান্ধ মহলের সংকীর্ণ স্বার্থান্বেষী তৎপরতার কারণে মাঝে মাঝে সম্প্রীতির আবহে ছন্দপতন ঘটে। পরমতসহিষ্ণুতার অভাব ও কুসংস্কার সম্প্রীতির পরিবেশকে বিনষ্ট করতে চায়।

সম্প্রীতি রক্ষায় করণীয়:
১. নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার শিক্ষা নিশ্চিত করা।
২. গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ও গুজবের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
৩. ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
৪. রাষ্ট্র কর্তৃক আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

উপসংহার:
একটি দেশের সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে তার সামাজিক ঐক্যের ওপর। সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসার ভিত্তিতেই আমরা গড়ে তুলতে পারি এক বৈষম্যহীন, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ। ঐক্য ও সম্প্রীতির এই চিরন্তন ধারা রক্ষা করা আমাদের সকলের জাতীয় দায়িত্ব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন