গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

রুবিনা, সুমি ও রুমি তিন বান্ধবী। তারা রাঙ্গামাটি রামনগর স্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসেছে। রুবিনা মায়ের তৈরি একটি খবং নামের পোশাক পরেছে। সুমি পরেছে রেশমগুটি থেকে তৈরি পোশাক। আর জ্যামিতিক নকশার ঐতিহ্যবাহী একটি শাড়ি পরেছে রুমি।

  1. ক)

    রাখাইন শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    বেনারসি শাড়ির পরিবর্তিত রূপ কাতান— বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    রুবিনা কোন উপজাতি সম্প্রদায়ের অধিবাসী? এই উপজাতির পোশাক অত্যন্ত বৈচিত্র্যমণ্ডিত ও ঐতিহ্যবাহী— ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সুমি ও রুমির পরিহিত শাড়ি দুটো নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের দ্বারা আমাদের আকৃষ্ট করে— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'রাখাইন' শব্দের অর্থ হলো রক্ষণশীল বা যারা কোনো ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বেনারসি শাড়ির সুতা, বুনন ও নকশায় আধুনিকায়ন ও পরিবর্তন এনে কাতান শাড়ির বিকাশ ঘটেছে। ঐতিহ্যবাহী বেনারসি সাধারণত রেশমি সুতায় ভারী জরি ও ঘন নকশায় প্রস্তুত করা হতো, যা বেশ ভারী হতো। পরবর্তীকালে বেনারসির বুননপদ্ধতিকে ভিত্তি করে কিছুটা হালকা, আরামদায়ক এবং সাধারণ সুতার বৈচিত্র্যময় মেলবন্ধনে আধুনিক যুগের উপযোগী করে কাতান শাড়ি তৈরি শুরু হয়। এজন্য কাতানকে বেনারসির পরিবর্তিত রূপ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত রুবিনা বাংলাদেশের পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ‘চাকমা’ সম্প্রদায়ের অধিবাসী। কারণ চাকমাদের নারীদের ঐতিহ্যবাহী মাথার পাগড়ি বা কাপড়ের নাম হলো 'খবং'।

    চাকমাদের পোশাক অত্যন্ত বৈচিত্র্যমণ্ডিত ও ঐতিহ্যবাহী। চাকমা নারীরা নিজেদের হাতে তৈরি 'পিনন' (কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত পরিধেয় ঘেরযুক্ত বস্ত্র) এবং 'হাদি' (বুকের ওপর জড়িয়ে পরা ওড়নাসদৃশ বস্ত্র) পরিধান করেন। এছাড়া মাথায় বিশেষ ধরনের কাপড় বাঁধেন যাকে 'খবং' বলা হয়। তাদের পোশাকে ব্যবহৃত রঙ (বিশেষ করে লাল, কালো ও নীল) এবং নিজস্ব তাঁতে বোনা জ্যামিতিক নকশার নকশিকাজ চাকমা সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও শিল্পকলার পরিচয় বহন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুমি রেশমগুটি থেকে তৈরি পোশাক (সিল্ক/রেশমি শাড়ি) এবং রুমি জ্যামিতিক নকশার ঐতিহ্যবাহী শাড়ি (জামদানি শাড়ি) পরেছে। এই দুটি শাড়ির নিজস্ব বুননকৌশল ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য বাঙালি সংস্কৃতিতে অনন্য।

    ১. সুমির রেশমি শাড়ি: রেশমপোকার গুটি (ককুন) থেকে প্রাপ্ত সুতা দিয়ে রাজশাহী বা অন্যান্য অঞ্চলের সিল্ক শাড়ি তৈরি হয়। এটি অত্যন্ত মসৃণ, কোমল, উজ্জ্বল এবং পরতে আরামদায়ক। সিল্কের নিজস্ব প্রাকৃতিক আভা পোশাকটিকে আভিজাত্যপূর্ণ ও উৎসবের উপযোগী করে তোলে।

    ২. রুমির জামদানি শাড়ি: জামদানি হলো ঐতিহ্যবাহী মসলিনের উত্তরসূরি। এতে তাঁতে হাতে তৈরি নিখুঁত জ্যামিতিক ও উদ্ভিজ্জ মোটিফের নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। জামদানির প্রতিটি সুতা ও নকশার বিন্যাস সূক্ষ্ম ও নান্দনিক কারুকার্যে সমৃদ্ধ, যা বিশ্বখ্যাত ও ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত।

    সুতরাং, সিল্কের মসৃণ আভিজাত্য এবং জামদানির নিখুঁত জ্যামিতিক কারুশিল্প—উভয় শাড়িরই নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও সৌন্দর্য আমাদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন