অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

তৈরি পোশাক খাত থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এই শিল্পে প্রায় ৩৫ লক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং অনেক ধরনের পশ্চাত সংযোগ শিল্প গড়ে ওঠেছে। তাছাড়া এ খাত সাধারণত জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি এ খাতের সমৃদ্ধির জন্য শিল্পোদ্যোক্তাগণ অধিকতর মানসম্পন্ন পোশাক তৈরির পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

  1. ক)

    সংরক্ষিত শিল্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    রপ্তানি বৃদ্ধি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে - ব্যাখ্যা কর?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত উৎপাদন খাতটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত খাতটির সমস্যা সমাধানে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের অভ্যন্তরীণ বা দেশীয় শিল্পকে বৈদেশিক ও অসম প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র কর্তৃক শুল্ক, কোটা বা বিশেষ সংরক্ষণমূলক নীতির আওতায় পরিচালিত শিল্পকে সংরক্ষিত শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রপ্তানি বৃদ্ধি পেলে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত চাহিদা মেটানোর জন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং নতুন নতুন কারখানা বা শিল্প ইউনিট স্থাপন করে। উৎপাদন বৃদ্ধির এ প্রক্রিয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও পরিবহনসহ বিভিন্ন স্তরে প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, যার ফলে অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত উৎপাদন খাতটি হলো বাংলাদেশের 'তৈরি পোশাক শিল্প' (RMG Sector)। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ খাতটির গুরুত্ব অপরিসীম।

    প্রথমত, উদ্দীপক অনুযায়ী এ খাত থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ এবং এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখে।
    দ্বিতীয়ত, এ শিল্পে প্রায় ৩৫ লক্ষ শ্রমিকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে, যার একটি বড় অংশই গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারী শ্রমিক। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে এটি অনন্য অবদান রাখছে।
    তৃতীয়ত, তৈরি পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে সুতা কাটা, ডায়িং, প্রিন্টিং, প্যাকেজিং, বোতাম ও জিপার তৈরিসহ নানাবিধ পশ্চাৎপদ সংযোগ শিল্প (backward linkage industries) এবং ব্যাংকিং, বিমা ও শিপিংয়ের মতো অগ্রগামী খাত বিকশিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এটি জাতীয় আয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলেও এটি কাঁচামালের আমদানি নির্ভরতা, অবকাঠামোগত ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতা, শ্রম অসন্তোষ এবং জ্বালানি সংকটের মতো নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন। এ খাতটির সমস্যা সমাধানে আমার মতামত নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ: বর্তমানে বাংলাদেশ প্রধানত অল্প কয়েকটি মৌলিক পোশাক (যেমন টি-শার্ট, ট্রাউজার) রপ্তানি করে। তাই উচ্চমূল্যের ও ফ্যাশনেবল পোশাক (মানসম্পন্ন পোশাক) উৎপাদনে জোর দিতে হবে।
    ২. বাজারের সম্প্রসারণ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার নতুন নতুন সম্ভাবনাময় বাজারে রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
    ৩. কাঁচামাল ও পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পের উন্নয়ন: তুলা ও সুতার জন্য আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশেই কাঁচামাল উৎপাদনের সুযোগ ও স্পিনিং মিল সম্প্রসারণ করতে হবে।
    ৪. শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন: চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শ্রমিকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।
    ৫. অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ: নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ করে 'লিড টাইম' হ্রাস করতে হবে।

    পরিশেষে, উল্লেখিত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন