বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

7.

(ক) শীতের কোনো এক সকালের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর।অথবা,(খ) “মাদকের অপর নাম মৃত্যু”- শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের উপযোগী একটি ভাষণ তৈরি কর।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(ক) শীতের এক সকালের অভিজ্ঞতা:

কুয়াশার চাদরে মোড়ানো শীতের এক ভোরে ঘুম ভাঙল পাখির কিচিরমিচির আর শীতল বাতাসের পরশে। জানলা খুলতেই চোখে পড়ল চারপাশ গাঢ় কুয়াশায় ঢাকা, যেন সমস্ত প্রকৃতি রূপালি চাদর জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে। ঘাসের ডগায় ও গাছের পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুগুলো মুক্তার দানার মতো জ্বলজ্বল করছিল।

শীতের এই সকালে হাঁটতে বের হয়ে দেখলাম গ্রামের মেঠোপথে খেজুরের রস নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন গাছিরা। রাস্তার পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। তাদের চোখেমুখে উষ্ণতার আনন্দ। দূরে মাঠের সরিষা ফুলের হলুদ রং কুয়াশার ভেতর এক মায়াবী দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে। বাড়ি ফিরে চুলার পাড়ে বসে মায়ের হাতের গরম ভাপা পিঠা আর খেজুরের ঝোলা গুড়ের স্বাদ এক অপূর্ব তৃপ্তি এনে দিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা ভেদ করে মিষ্টি রোদের আলো ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। শীতের এই স্নিগ্ধ ও শান্ত সকালটি আমার স্মৃতিতে এক চিরন্তন সৌন্দর্যের রূপ হয়ে বেঁচে থাকবে।

অথবা,

(খ) “মাদকের অপর নাম মৃত্যু”- শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের ভাষণ:

শ্রদ্ধেয় সভাপতি, উপস্থিত সম্মানিত সুধীবৃন্দ এবং আমার প্রিয় সহপাঠী ও তরুণ বন্ধুরা— সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভ অপরাহ্ন।

আজকের এই সচেতনতামূলক সভার আলোচনার বিষয়— “মাদকের অপর নাম মৃত্যু”। বিষয়টি কেবল একটি প্রতিপাদ্য নয়, বরং আজকের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক চরম নির্মম বাস্তবতা।

প্রিয় সুধী,
মাদকাসক্তি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম এক সর্বনাশা ব্যাধি। এর বিষাক্ত ছোবল তরুণদের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে এক নিমেষে ধ্বংস করে দেয়। সাময়িক কৌতূহল বা বন্ধুদের প্ররোচনায় একজন ব্যক্তি যখন মাদকের জগতে পা বাড়ায়, তখন সে ধীরে ধীরে নিজের আত্মনিয়ন্ত্রণ হারায়। মাদক শুধু একজন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যই নষ্ট করে না, বরং নিঃস্ব করে একটি পুরো পরিবারকে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক বিপর্যয় এবং নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হয়ে অবশেষে সামাজিক অপরাধে লিপ্ত হয়। এভাবেই মাদক জীবনকে তিলে তিলে ঠেলে দেয় নিঃশব্দ মৃত্যুর অতল গহ্বরে।

বন্ধুরা,
তারুণ্য হচ্ছে সৃষ্টির, তারুণ্য হচ্ছে দেশ গড়ার। এই শক্তি কোনো বিষাক্ত দ্রব্যের কাছে পরাস্ত হতে পারে না। মাদককে রুখতে হলে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; আমাদের পরিবারে নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে এবং তরুণদের সুস্থ সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলামুখী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রাখতে হবে। আসুন, আমরা সমস্বরে আওয়াজ তুলি— ‘মাদককে না বলুন, জীবনকে ভালোবাসুন’। মাদকাসক্তি মুক্ত এক সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

সবাইকে ধন্যবাদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন