অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
9সামিহা তার অর্থনীতি ক্লাস থেকে জানতে পারে যে, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক বাণিজ্য নাকি বৈদেশিক সাহায্য বেশি ভূমিকা রাখে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ফলে একটি দেশের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। সে এ বিষয়ে স্যারের সাথে একমত হয় যে, বৈদেশিক সাহায্য দীর্ঘমেয়াদে পরনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করে; কিন্তু বৈদেশিক বাণিজ্য এরূপ ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে না।
- ক)(1)
সংরক্ষণ বাণিজ্য কী?
- খ)(2)
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হওয়ার শর্তগুলো কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদিশিক বাণিজ্য কীভাবে ভূমিকা রাখে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে তুমি কি মনে কর অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যই অধিক কার্যকর? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশীয় শিল্পকে বিদেশি প্রতিযোগিতার হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সরকার যখন শুল্ক, কোটা বা অন্য কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করে, তখন তাকে সংরক্ষণ বাণিজ্য (Protectionism) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হওয়ার প্রধান শর্তগুলো হলো:
১. অন্তত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের উপস্থিতি থাকতে হবে।
২. দেশগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবায়ু ও উৎপাদন খরচের মধ্যে পার্থক্য থাকতে হবে (তুলনামূলক ব্যয় সুবিধা)।
৩. বিভিন্ন দেশের মধ্যে উৎপাদনের উপাদানসমূহের গতিশীলতার অভাব বা অনমনীয়তা থাকতে হবে।
৪. ভিন্ন ভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা ও লেনদেনের মাধ্যম থাকতে হবে এবং বাণিজ্য পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি বজায় থাকতে হবে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ফলে একটি দেশের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি দেশ তার উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদকদের বাজার সম্প্রসারিত হয় এবং অর্থনীতিতে বৃহৎ মাত্রার উৎপাদনের সুবিধা পাওয়া যায়। রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে, যা বিনিয়োগ বাড়িয়ে তোলে এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। একই সাথে, যেসকল মূলধনি যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও উন্নত প্রযুক্তি দেশের অভ্যন্তরে পাওয়া যায় না, তা বাণিজ্যের মাধ্যমে সহজে আমদানি করা সম্ভব হয়। এর ফলে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। অতএব, উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে সংগতি রেখে বলা যায় যে, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য একটি দেশের উন্নয়নকে বেগবান করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যই অধিক কার্যকর।
বৈদেশিক সাহায্য স্বল্পমেয়াদে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সংকটকালীন ঘাটতি মেটাতে সহায়ক হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নকে স্বনির্ভর করতে পারে না। বরং বৈদেশিক সাহায্যের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কঠোর শর্তাবলি যুক্ত থাকে। এর ফলে ঋণ পরিশোধের বোঝা তৈরি হয়, বৈদেশিক ঋণের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি থাকে এবং জাতিগতভাবে পরনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
অন্যদিকে, বৈদেশিক বাণিজ্য স্বনির্ভর অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করে। বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশীয় দক্ষতার বিকাশ ঘটে, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরিত হয়। উদ্দীপকেও স্পষ্ট বলা হয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশীয় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং এটি বৈদেশিক সাহায্যের মতো কোনো ক্ষতিকর পরনির্ভরশীলতা তৈরি করে না। বাণিজ্যের অর্জিত আয় কোনো দায় বা ঋণের সৃষ্টি করে না, বরং দেশের নিজস্ব সম্পদ বাড়ায়।
সুতরাং, দীর্ঘমেয়াদি ও মর্যাদাপূর্ণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন বজায় রাখার ক্ষেত্রে 'সাহায্য নয়, বরং বাণিজ্য' (Trade, not Aid)-ই সর্বাধিক কার্যকর পথ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও