ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. মুহিত তার জীবনের সকল সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একটি কারখানা স্থাপন করেন। ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করে তিনি কারখানাটি 'আলফা' এবং 'বিটা' নামক দুইটি বিমা কোম্পানির সাথে বিমাচুক্তি করেন। একটি দুর্ঘটনায় কারখানার ২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুক্তি মোতাবে কোম্পানি যৌথভাবে মি. মুহিতকে সমান হারে ক্ষতিপুরণ প্রদান করে। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি মি. মুহিত ৫০ হাজার টাকার বিক্রি করে দেন। সংবাদ উভয় বিমা কোম্পানি এই বিক্রয়মূল্যের ওপর দাবি উপস্থাপন করে।

  1. ক)

    বিমা কী?

    (1)
  2. খ)

    বিমাকে পরম সদ্বিশ্বাসের চুক্তি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    বিমচুক্তির কোন নীতির আলোকে বিমা কোম্পানি মি. মুহিতকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত উভয় বিমা কোম্পানির বিক্রয়মূল্যের ওপর দাবি উপস্থাপনের মৌপ্তিকতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিমা হলো বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতার মধ্যে সম্পাদিত এমন একটি চুক্তি, যার মাধ্যমে প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাকারী নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা ঘটার কারণে উদ্ভূত আর্থিক ক্ষতি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিমাচুক্তিতে উভয় পক্ষকেই বিমাযোগ্য বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সব সত্য ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সততার সাথে প্রকাশ করতে হয় বলে একে পরম সদ্বিশ্বাসের চুক্তি বলা হয়।

    সাধারণ চুক্তির মতো বিমা চুক্তিতে শুধু সাধারণ সততা বজায় রাখলেই চলে না, বরং বিমাগ্রহীতাকে বিমাকৃত সম্পত্তি বা জীবনের যাবতীয় ঝুঁকি সম্পর্কিত তথ্য অকপটে প্রকাশ করতে হয় এবং বিমাকারীকেও চুক্তির শর্তাবলি স্পষ্টভাবে জানাতে হয়। কোনো পক্ষ কোনো তথ্য গোপন বা বিকৃত করলে চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়। এজন্য একে পরম সদ্বিশ্বাসের (Utmost Good Faith) চুক্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিমা চুক্তির 'অংশগ্রহণ নীতি' বা 'যুগ্ম বিমা নীতি' (Principle of Contribution) এবং 'ক্ষতিপূরণের নীতি'র আলোকে বিমা কোম্পানি দুটি মি. মুহিতকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।

    অংশগ্রহণ নীতি অনুযায়ী, কোনো বিমাগ্রহীতা যদি একই সম্পত্তি একাধিক বিমাকারীর কাছে বিমা করেন (দ্বৈত বিমা), তবে কোনো ক্ষতি সংঘটিত হলে বিমা কোম্পানিগুলো ক্ষতির পরিমাণ যৌথভাবে আনুপাতিক বা সমান হারে ভাগ করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে, যাতে বিমাগ্রহীতা প্রকৃত ক্ষতির বেশি অর্থ না পায়।

    উদ্দীপকে মি. মুহিত তার কারখানার জন্য 'আলফা' ও 'বিটা' নামক দুটি ভিন্ন বিমা কোম্পানির সাথে বিমা করেন। দুর্ঘটনায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হলে উভয় কোম্পানি যৌথভাবে সমান হারে (১ লক্ষ টাকা করে) ক্ষতিপূরণ দেয়। এখানে অংশগ্রহণ নীতির যথাযথ প্রয়োগ ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত উভয় বিমা কোম্পানির বিক্রয়মূল্যের ওপর দাবি উপস্থাপন সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং আইনসম্মত।

    বিমা আইনের একটি অন্যতম মৌলিক নীতি হলো 'স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি' (Principle of Subrogation)। এই নীতি অনুসারে, বিমাকৃত সম্পত্তির কোনো ক্ষতি হলে বিমাকারী যদি বিমাগ্রহীতাকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ওপর বিমাগ্রহীতার আর কোনো মালিকানা স্বত্ব থাকে না; ওই অবশিষ্টাংশ বা পরিত্যক্ত সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিমাকারীর ওপর বর্তায়। বিমাগ্রহীতা যাতে ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে লাভবান না হতে পারেন, সেজন্যই এ নীতি প্রয়োগ করা হয়।

    উদ্দীপকে মি. মুহিতের ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হওয়ায় বিমা কোম্পানিদ্বয় যৌথভাবে তাকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে যে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়, ক্ষতিপূরণ নীতির কারণে তা মি. মুহিতের পাওয়ার কোনো আইনি অধিকার নেই; কারণ তিনি তা গ্রহণ করলে অতিরিক্ত লাভবান হতেন।

    সুতরাং, স্থলাভিষিক্তকরণ নীতির ভিত্তিতে উভয় বিমা কোম্পানির ওই ৫০ হাজার টাকার ওপর সমান অনুপাতে দাবি উপস্থাপন আইনত সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন