যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
বিপ্লব স্যার ক্লাসে বললেন যে, বাজারে দ্রব্যের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যায়। আবার সরবরাহ কমলে দাম বাড়ে। তবে সবসময় এ নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য হয় না । মাঝেমধ্যে সরবরাহ বাড়লে বা কমলেও দাম স্থিতিশীল থাকে ।
- ক)(1)
যুক্তিবাক্য কী?
- খ)(2)
স্বকীয় নামবাচক পদগুলি কিভাবে জাত্যর্থক?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্রব্যমূল্যের হ্রাসবৃদ্ধি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যতিক্রমের বিষয়টি তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি পদের মধ্যে কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিজ্ঞাপক বিবৃতিকে যুক্তিবাক্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বকীয় নামবাচক পদের সাধারণত কেবল ব্যক্ত্যর্থ থাকে, জাত্যর্থ থাকে না—এটি প্রচলিত মত। তবে দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, কোনো কোনো স্বকীয় নামবাচক পদের বিশেষ প্রেক্ষাপটে গুণের ইঙ্গিত দেওয়ার ক্ষমতা থাকে। আধুনিক অনেক যুক্তিবিদ মনে করেন, কোনো স্বকীয় নাম (যেমন: শেক্সপিয়র, নজরুল) যখন বিশেষ কোনো গুণের আধার হিসেবে প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয় (যেমন: 'তিনি তো একজন শেক্সপিয়র' অর্থাৎ মহান নাট্যকার), তখন তা জাত্যর্থ নির্দেশ করে। এভাবেই নির্দিষ্ট গুণের পরিচায়ক হিসেবে স্বকীয় নামবাচক পদগুলি জাত্যর্থক হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্রব্যমূল্যের হ্রাসবৃদ্ধির মাধ্যমে পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী বা বিপরীত অনুপাতের হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।
যুক্তিবিদ্যায় পদের ব্যক্ত্যর্থ (পরিমাণ) এবং জাত্যর্থ (গুণ)-এর সম্পর্ক বিপরীতমুখী। একটি পদ সম্পর্কে এই নিয়মটি হলো:
১. ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে,
২. ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে,
৩. জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে,
৪. জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে।উদ্দীপকে বিপ্লব স্যার দেখিয়েছেন বাজারে দ্রব্যের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে এবং সরবরাহ কমলে দাম বাড়ে। এই যে পরিমাণের ওঠানামার সাথে মূল্যের বিপরীতমুখী পরিবর্তন, তা পাঠ্যবইয়ে ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীত অনুপাতের পরিবর্তনের নিয়মটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যতিক্রমের বিষয়টি হলো ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী পরিবর্তনের নিয়মের ব্যতিক্রম বা সীমাবদ্ধতা। পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিষয়টি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
যুক্তিবিদ্যায় সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থ একে অপরের বিপরীত অনুপাতে পরিবর্তিত হয়। তবে উদ্দীপকে বিপ্লব স্যার উল্লেখ করেছেন যে সবসময় এ নিয়ম প্রযোজ্য হয় না, মাঝেমধ্যে সরবরাহ বাড়লে বা কমলেও দাম অপরিবর্তিত থাকে। যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রেও ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা বা ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়:
১. নিয়মটি কেবল আসন্নতম জাতি ও উপজাতির সম্পর্কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়; যে কোনো উদ্দেশ্যহীন বা সম্পর্কহীন পদের ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না।
২. কোনো পদের নতুন গুণ আবিষ্কৃত হলে বা যুক্ত হলে তার ব্যক্ত্যর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে না, যদি না সেই গুণের ভিত্তিতে উপজাতি গঠিত হয়।
৩. দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন ছাড়াই কেবল ব্যক্ত্যর্থ বা জাত্যর্থের কৃত্রিম হ্রাস-বৃদ্ধিতে অন্যটির বাস্তব পরিবর্তন নাও ঘটতে পারে।
৪. ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীত অনুপাত গাণিতিক নিয়মের মতো হুবহু বা নিখুঁত অনুপাতে বাড়ে বা কমে না।সুতরাং, বাজারে দ্রব্যের সরবরাহ ও দামের পরিবর্তন যেমন সব সময় সমান নিয়মে চলে না, ঠিক তেমনি ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাসবৃদ্ধির নিয়মটিও সার্বজনীন বা সবক্ষেত্রে গাণিতিকভাবে কঠোর নয়; এর কিছু নির্দিষ্ট যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা ও ব্যতিক্রম রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও