‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' ঔপনিবেশিক দেশের একটি রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয় নেতা। তিনি তার দলের সম্মেলনে নিজস্ব জনগণের জন্য ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি উত্থাপন করেন। তার প্রস্তাবের মধ্যে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ইঙ্গিত ছিল।

  1. ক)

    অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে তার মূল বক্তব্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো ১৯৩৯ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক প্রচারিত একটি রাজনৈতিক মতবাদ। এ তত্ত্বের মূল কথা হলো—ভারতে বসবাসকারী হিন্দু ও মুসলমান কেবল দুটি পৃথক ধর্মীয় সম্প্রদায় নয়, বরং তারা কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের দিক থেকে দুটি ভিন্ন ও স্বতন্ত্র জাতি। তাই তাদের জন্য আলাদা আবাসভূমি বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা আবশ্যক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'-এর (১৯৪০) ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর সম্মেলনে অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক এই ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

    লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য ছিল:
    ১. ভৌগোলিক সংলগ্ন অঞ্চলসমূহকে পৃথক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা।
    ২. ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ (Independent States) গঠন করা, যেখানে অন্তর্ভুক্ত ইউনিটগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
    ৩. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য সংবিধানে সুস্পষ্ট ও পর্যাপ্ত রক্ষাকবচ রাখা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    লাহোর প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোকে নিয়ে একাধিক 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর ফলে ভৌগোলিকভাবে পূর্বাঞ্চলীয় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা তথা বাংলা বা পূর্ববঙ্গ একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু ১৯৪৬ সালে দিল্লির কনভেনশনে জিন্নাহ চক্রান্ত করে 'States' শব্দের পরিবর্তে 'State' বসিয়ে এক পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেন।

    পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য ও শোষণের শিকার হতে থাকে। বাঙালিরা অনুধাবন করে যে, লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনাকে লঙ্ঘন করে তাদের ওপর উপনিবেশ কায়েম করা হয়েছে। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে এবং বাঙালিরা লাহোর প্রস্তাবের স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্বের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা দাবি এবং পরবর্তীতে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।

    সুতরাং বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবের একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের ধারণাই পরবর্তীকালে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা বা ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন