বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রবন্ধ রচনা
12.1.
যুদ্ধ নয় শান্তি
12.2.
চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
12.3.
স্বদেশপ্রেম
12.4.
পোশাক শিল্প : সমস্যা ও সম্ভাবনা
12.5.
মেট্রোরেল : নগরজীবনের নতুন দিগন্ত।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১২.১. যুদ্ধ নয় শান্তি
ভূমিকা:
মানবসভ্যতার ইতিহাস যেমন সৃষ্টি ও অর্জনের ইতিহাস, তেমনি যুদ্ধ ও ধ্বংসের রক্তক্ষয়ী আখ্যান। মানুষ যখন হিংসা ও আগ্রাসনে মত্ত হয়, তখন নেমে আসে যুদ্ধ; আর যখন সম্প্রীতি ও বিবেকের জয় হয়, তখন প্রতিষ্ঠিত হয় শান্তি। যুদ্ধ কেবল প্রাণহানি ও রক্তপাত ঘটায়, কিন্তু শান্তি দেয় জীবনের নিরাপত্তা ও প্রগতির নিশ্চয়তা। তাই আজকের সভ্য জগতের এক ও অভিন্ন দাবি—যুদ্ধ নয়, শান্তি।
যুদ্ধের ভয়াবহতা:
যুদ্ধের পরিণাম অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা, হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরমাণু ধ্বংসযজ্ঞ মানবজাতিকে চিরতরে ক্ষতবিক্ষত করেছে। সাম্প্রতিক বিশ্বেও আমরা দেখেছি ফিলিস্তিন, ইউক্রেনসহ নানা অঞ্চলের যুদ্ধপীড়িত মানুষের অবর্ণনীয় কান্না। যুদ্ধ মানেই হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু, নারী ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্মম নিপীড়ন এবং একটি জাতির দশকের পর দশক পিছিয়ে পড়া। যুদ্ধ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে না, বরং তা জন্ম দেয় নতুন বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার।
শান্তির প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য:
মানবজাতির টিকে থাকা এবং টেকসই উন্নয়নের একমাত্র পূর্বশর্ত হলো শান্তি। শান্তিময় পরিবেশে শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশ ঘটে। শান্তি মানবমনে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। বিশ্বের সকল প্রধান ধর্ম ও মহান দার্শনিকগণ শান্তির বাণী প্রচার করেছেন। শান্তিই মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব:
আধুনিক যুদ্ধে ব্যবহৃত সমরাস্ত্র পৃথিবীর পরিবেশ ও প্রতিবেশকে চিরতরে দূষিত করছে। যুদ্ধের কারণে খাদ্যসংকট, জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি সারা বিশ্বকে গ্রাস করে। যে বিপুল অর্থ মারণাস্ত্র তৈরিতে ও যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যয় হয়, তা যদি ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও রোগ দূরীকরণে ব্যয় করা হতো, তবে পৃথিবী আজ এক স্বর্গরাজ্যে পরিণত হতো।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় করণীয়:
১. পারস্পরিক সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সকল আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক বিরোধ নিষ্পত্তি করা।
২. পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা পরিহার করা এবং মারণাস্ত্র তৈরি ও বিস্তার রোধ করা।
৩. জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থাগুলোকে পক্ষপাতহীন ও শক্তিশালী করা।
৪. প্রতিটি মানুষের মনে পরমতসহিষ্ণুতা, মানবিক মূল্যবোধ ও বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করা।
উপসংহার:
যুদ্ধ কখনো বিজয়ী তৈরি করে না, যুদ্ধে কেবল পরাজিত হয় মানবতা। এই সুন্দর পৃথিবী ধ্বংসের জন্য নয়, মানবজাতির সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য। কবি সুকান্তের ভাষায় আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাওয়ার। তাই রণহুংকার নয়, বিশ্বজুড়ে ধ্বনিত হোক শান্তির অনুপম সুর।
(পরীক্ষায় অন্য যেকোনো একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা, মূল বিষয়বস্তু, গুরুত্ব/প্রভাব এবং উপসংহার বিন্যাসে ধারাবাহিকভাবে প্রবন্ধটি সাজিয়ে লিখতে হবে। যেমন—স্বদেশপ্রেম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পোশাক শিল্প অথবা মেট্রোরেল)।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও