বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ লেখো:
12.1.
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
12.2.
মাতা-পিতার প্রতি কর্তব্য
12.3.
মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ
12.4.
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প
12.5.
পদ্মা সেতু ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১২.১. মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
ভূমিকা:
আধুনিক সভ্যতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে বিজ্ঞানের কল্যাণকর অবদানের ওপর। আদিম যুগের গুহাবাসী অসহায় মানুষ বিজ্ঞানের আলোকবর্তিকা হাতে পেয়ে আজ মহাবিশ্বের জয়যাত্রায় শামিল হয়েছে। বিজ্ঞান মানুষের চিন্তাভাবনায় এনেছে যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দৈনন্দিন জীবনে এনেছে অনাবিল স্বাচ্ছন্দ্য। তাই মানবকল্যাণ এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতি আজ পরস্পর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান:
সকালের ঘুমভাঙা অ্যালার্ম ঘড়ি থেকে শুরু করে রাতের বৈদ্যুতিক বাতি—আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত বিজ্ঞানের কৃপায় পরিচালিত। রান্নার গ্যাস, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন প্রভৃতি গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি মানুষের শ্রম লাঘব করেছে। বিদ্যুৎশক্তি আধুনিক সভ্যতার প্রাণভোমরায় পরিণত হয়েছে।
চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান:
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি মানবজাতিকে অকালমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে। বিভিন্ন মারণব্যাধির প্রতিষেধক টিকা, পেনিসিলিন, অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের ফলে কলেরা, প্লেগ, বসন্তের মতো মহামারি আজ নিয়ন্ত্রণে। এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, এমআরআই এবং সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় সহজ হয়েছে। আধুনিক শল্যচিকিৎসা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং জিন প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষকে দিয়েছে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা।
যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বিজ্ঞান:
যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান দূরকে এনেছে হাতের মুঠোয়। দ্রুতগামী ট্রেন, উড়োজাহাজ, দূরপাল্লার জলযান মানুষকে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে কয়েক ঘণ্টায়। আর তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন বিশ্বকে রূপান্তর করেছে এক 'গ্লোবাল ভিলেজে'। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও কনফারেন্সিং প্রভৃতির মাধ্যমে মানুষ মুহূর্তের মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান করতে পারছে।
কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে বিজ্ঞান:
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বিজ্ঞান কৃষি খাতে সূচনা করেছে 'সবুজ বিপ্লব'। উচ্চফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক এবং আধুনিক সেচযন্ত্রের প্রয়োগে কৃষিতে উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। একই সাথে স্বয়ংক্রিয় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে শিল্পকারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জিত হচ্ছে।
শিক্ষা ও গবেষণায় বিজ্ঞান:
শিক্ষা বিস্তারে বিজ্ঞানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম, ই-বুক ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। মহাকাশ গবেষণা, সমুদ্রবিজ্ঞান এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের মাধ্যমে নিত্যনতুন তথ্য আবিষ্কৃত হচ্ছে।
বিজ্ঞানের অপব্যবহার ও সতর্কতা:
বিজ্ঞান মূলত আশীর্বাদ হলেও মানুষের অসচেতনতা ও স্বার্থান্ধতার কারণে কখনো কখনো তা অভিশাপে পরিণত হয়। পারমাণবিক বোমা, আধুনিক মারণাস্ত্র এবং পরিবেশ দূষণ মানবজাতির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিজ্ঞানের এই ধ্বংসাত্মক দিক কখনোই মানবকল্যাণের পরিচায়ক নয়।
উপসংহার:
বিজ্ঞান মানুষের সেবক, প্রভু নয়। বিজ্ঞানের কল্যাণী রূপটিকেই মানুষের মঙ্গলের জন্য গ্রহণ করতে হবে। বিজ্ঞানকে যদি বিবেক, নীতি ও মানবিকতার সাথে পরিচালনা করা যায়, তবেই পৃথিবী হয়ে উঠবে শান্তিময়, সুন্দর এবং সমৃদ্ধিশালী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও