অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তিনটি পণ্যের রপ্তানি আয়ের (মিলিয়ন মার্কিন ডলারে) গতি-প্রকৃতি নিচে দেওয়া হলো:
২০১৯-২০২০ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৫,৮৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জার্মানিতে ৫,০৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।
বর্তমান সরকার কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন- রপ্তানি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পুনর্গঠন ইত্যাদি।

- ক)(1)
বিশ্বায়ন কী?
- খ)(2)
"উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল লক্ষ্য"—বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্যের ভিত্তিতে কাঁচা পাট, পাটজাত দ্রব্য ও জুতার গতি-প্রকৃতি স্তম্ভ লেখের সাহায্যে দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো ব্যতীত আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে? — তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যকার পারস্পরিক যোগাযোগ, মিথস্ক্রিয়া ও নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন (Globalization) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশ তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর যে অতিরিক্ত পণ্য বা সেবা অবশিষ্ট থাকে, তাকে উদ্বৃত্ত পণ্য বলে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো এই উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা।
অভ্যন্তরীণ বাজারে অতিরিক্ত পণ্য অবিক্রিত থাকলে দাম হ্রাস পায় এবং উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রতিটি দেশ তার তুলনামূলক সুবিধাপ্রাপ্ত উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্য আমদানি করার সামর্থ্য অর্জন করে। এজন্য উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল লক্ষ্য বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ২০১৮-২০১৯ এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের তিনটি পণ্য—কাঁচা পাট, পাটজাত দ্রব্য ও জুতার রপ্তানি আয়ের (মিলিয়ন মার্কিন ডলারে) তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হয়েছে। এই তথ্য স্তম্ভ লেখের (Bar Diagram) মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়।
স্তম্ভ লেখ অঙ্কন পদ্ধতি:
১. একটি লেখচিত্রের অনুভূমিক অক্ষে (X-অক্ষ) তিনটি পণ্য—'কাঁচা পাট', 'পাটজাত দ্রব্য' ও 'জুতা' স্থাপন করি।
২. উল্লম্ব অক্ষে (Y-অক্ষ) রপ্তানি আয় (মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পরিমাপ করি, যেখানে প্রতি ১ সেমি = ১০০ মিলিয়ন ডলার স্কেল নির্ধারণ করা যায় (০ থেকে ৮০০ পর্যন্ত)।
৩. প্রতিটি পণ্যের জন্য পাশাপাশি দুটি ভিন্ন নকশার স্তম্ভ (যেমন- ২০১৮-১৯ এর জন্য সাদা স্তম্ভ এবং ২০১৯-২০ এর জন্য ছায়াবৃত্ত স্তম্ভ) অঙ্কন করি:- কাঁচা পাট: ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্তম্ভের উচ্চতা হবে ১১২ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে হবে ১৩০।
- পাটজাত দ্রব্য: ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্তম্ভের উচ্চতা হবে ৭০৪ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে হবে ৭৬২।
- জুতা: ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্তম্ভের উচ্চতা হবে ২৭২ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে হবে ২৭৭।
বিশ্লেষণ:
স্তম্ভ লেখ থেকে দেখা যায় যে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে কাঁচা পাট (১১২ থেকে ১৩০), পাটজাত দ্রব্য (৭০৪ থেকে ৭৬২) এবং জুতা (২৭২ থেকে ২৭৭)—তিনটি পণ্যেরই রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রপ্তানি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পুনর্গঠনের মতো প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল ও সম্প্রসারিত করতে এই পদক্ষেপগুলো ছাড়াও বেশ কিছু বাস্তবমুখী ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
নিম্নে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ: বাংলাদেশ দীর্ঘদিন যাবৎ তৈরি পোশাক ও সামান্য কিছু পণ্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। আইসিটি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও প্লাস্টিক সামগ্রীর মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে প্রণোদনা দিয়ে পণ্যের বহুমুখীকরণ করা জরুরি।
২. নতুন বাজার অনুসন্ধান: বর্তমানে রপ্তানি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে কেন্দ্রীভূত। এ নির্ভরতা কমাতে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, আসিয়ান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।
৩. উৎপাদন খরচ হ্রাস ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন: বন্দর ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং লজিস্টিক সাপোর্ট উন্নত করার মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
৪. দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি: এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) স্বাক্ষর করা অপরিহার্য।
৫. পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক সনদ: রপ্তানি পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব ও সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।সুতরাং, উল্লিখিত নীতি ও কৌশলগত পদক্ষেপগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য কেবল সংকট উত্তরণই করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাপক সম্প্রসারিত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও