অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব লোকমানের নারায়ণগঞ্জে একটি হোসিয়ারি কারখানা আছে। তার কারখানায় ৭০ জন শ্রমিক কাজ করে। তিনি তাঁর দ্রব্য তৈরির কাজে বিদ্যুৎ চালিত সেলাই মেশিন ও কাটিং মেশিন ব্যবহার করেন। তার কারখানার স্থায়ী মূলধনের পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। প্রতি বছর তিনি তার ব্যবসা থেকে ভালো মুনাফা করছেন। জনাব লোকমানের মতো আরো অনেক উদ্যোক্তা এ ধরনের শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হলে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হতে পারে।
- ক)(1)
শিল্প কী?
- খ)(2)
আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল কিভাবে দেশকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে জনাব লোকমানের কারখানাটি কোন ধরনের শিল্পের আওতাধীন? উক্ত শিল্পের বৈশিষ্ট্যগুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্প বিকশিত হলে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিভাবে ত্বরান্বিত হতে পারে বলে তুমি মনে করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে, সমজাতীয় বা কাছাকাছি পণ্য ও সেবা উৎপাদনকারী ফার্মগুলোর সমষ্টিকে একত্রে শিল্প বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল হলো পূর্বে বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো এমন পণ্যসামগ্রী দেশের ভেতরেই উৎপাদনের ব্যবস্থা করা।
এই কৌশলের ফলে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়, যার ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি, দেশীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হয়, অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে দেশ স্বনির্ভর হয়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে জনাব লোকমানের কারখানাটি 'ক্ষুদ্র শিল্প' (Small Industry)-এর আওতাধীন।
বাংলাদেশের জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে যেসকল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা কিংবা যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৩১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব লোকমানের হোসিয়ারি কারখানায় ৭০ জন শ্রমিক কর্মরত এবং তাঁর কারখানার স্থায়ী মূলধনের পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকা। শ্রমিক সংখ্যার মানদণ্ডে (৩১-১২০ জন) এটি স্পষ্টভাবে ক্ষুদ্র শিল্পের সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উক্ত শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. শ্রমিক সংখ্যা: উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্পে সাধারণত ৩১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক কাজ করে।
২. মূলধনের পরিমাণ: এতে মাঝারি ধরনের মূলধন বিনিয়োগ করা হয় (জমি ও ভবন বাদে ৭৫ লক্ষ থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত)।
৩. প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার: হস্তচালিত যন্ত্রের পাশাপাশি বিদ্যুৎচালিত আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটে (যেমন- উদ্দীপকে বিদ্যুৎচালিত সেলাই ও কাটিং মেশিন)।
৪. শ্রমঘন উৎপাদন পদ্ধতি: বৃহৎ শিল্পের তুলনায় এতে অপেক্ষাকৃত বেশি শ্রমঘন উৎপাদন কৌশল প্রয়োগ করা হয়।
৫. সহজ ব্যবস্থাপনা: এ ধরনের কারখানার মালিক বা উদ্যোক্তা নিজেই সাধারণত প্রত্যক্ষ তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো 'ক্ষুদ্র শিল্প'। এ ধরনের শিল্প বিকশিত হলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হতে পারে। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাংলাদেশ একটি শ্রমবহুল ও জনবহুল দেশ। ক্ষুদ্র শিল্প মূলত শ্রমঘন প্রকৃতির হওয়ায় অল্প পুঁজিতে অধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, যা বেকারত্ব দূরীকরণে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
২. স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার: ক্ষুদ্র শিল্পে স্থানীয় কাঁচামাল এবং সম্পদের সর্বাধিক সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয়, ফলে অভ্যন্তরীণ সম্পদের অপচয় রোধ হয়।
৩. আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন: কর্মসংস্থান সৃষ্টির ফলে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের আয় বাড়ে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার দারিদ্র্য দূরীকরণে গতি আসে।
৪. জাতীয় আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধি: হোসিয়ারি ও পোশাক শিল্পের মতো ক্ষুদ্র শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব, যা জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
৫. উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও সুষম বণ্টন: স্বল্প পুঁজিতে এই ধরনের শিল্প স্থাপন সম্ভব হওয়ায় তরুণ ও স্থানীয় পর্যায়ে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয় এবং সম্পদের বিকেন্দ্রীকরণ ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
সুতরাং, জনাব লোকমানের মতো উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে এবং সরকারি নীতিগত সহায়তা পেলে ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও