‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

দুটি দ্রব্যের চাহিদা সূচি নিম্নরূপঃ

মূল্য | x দ্রব্যের চাহিদা | Y দ্রব্যের চাহিদা
20 | 24 | 40
40 | 20 | 10

  1. ক)

    চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতা কী?

    (1)
  2. খ)

    কেন বিলাসজাত দ্রব্য স্থিতিস্থাপক?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক হতে X দ্রব্যের দাম স্থিতিস্থাপকতা নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক হতে X এবং Y দ্রব্যের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দ্রব্যের দামের আপেক্ষিক বা শতকরা পরিবর্তনের ফলে তার চাহিদার যে আপেক্ষিক বা শতকরা পরিবর্তন ঘটে, তার অনুপাতকে চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব দ্রব্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য নয়, বরং আরাম-আয়েশ বা সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিলাসজাত দ্রব্য বলে।

    বিলাসজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে দামের সামান্য পরিবর্তনে চাহিদার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। কারণ দাম বাড়লে ভোক্তা অনায়াসেই এর ভোগ স্থগিত বা বর্জন করতে পারে, আবার দাম সামান্য কমলে ক্রেতারা তা ক্রয়ে বেশি উৎসাহিত হয়। ফলে দামের পরিবর্তনের হারের চেয়ে চাহিদার পরিবর্তনের হার বেশি হয় (Ep > 1)। এজন্য বিলাসজাত দ্রব্যের চাহিদা স্থিতিস্থাপক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুযায়ী, X দ্রব্যের ক্ষেত্রে:
    প্রাথমিক দাম (P) = ২০
    পরিবর্তিত দাম (P₁) = ৪০
    দামের পরিবর্তন (ΔP) = P₁ - P = ৪০ - ২০ = ২০

    প্রাথমিক চাহিদা (Q) = ২৪
    পরিবর্তিত চাহিদা (Q₁) = ২০
    চাহিদার পরিবর্তন (ΔQ) = Q₁ - Q = ২০ - ২৪ = -৪

    চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতা (E_d) নির্ণয়ের সূত্র:
    E_d = (ΔQ / ΔP) × (P / Q)
    মান বসিয়ে পাই,
    E_d = (-৪ / ২০) × (২০ / ২৪)
    = -৪ / ২৪
    = -১ / ৬ ≈ -০.১৬৭

    স্থিতিস্থাপকতার পরম মান গ্রহণ করলে, |E_d| = ০.১৬৭।
    অতএব, X দ্রব্যের চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতা হলো ০.১৬৭ (যা ১ অপেক্ষা কম, অর্থাৎ অস্থিতিস্থাপক)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে দেওয়া সূচি থেকে X এবং Y দ্রব্যের দাম স্থিতিস্থাপকতা নির্ণয় করে এদের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. X দ্রব্যের প্রকৃতি:
    'গ' হতে প্রাপ্ত, X দ্রব্যের চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতার পরম মান |E_d| = ০.১৬৭।
    যেহেতু |E_d| < 1 (স্থিতিস্থাপকতার মান এক অপেক্ষা কম), সেহেতু X দ্রব্যের চাহিদা অস্থিতিস্থাপক।
    অর্থনীতি অনুযায়ী, যেসব দ্রব্যের দামের পরিবর্তনের তুলনায় চাহিদার পরিবর্তন খুব কম হয়, সেগুলোকে সাধারণত 'নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য' (Necessary Goods) বলা হয়। অর্থাৎ X দ্রব্যটি একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য।

    ২. Y দ্রব্যের প্রকৃতি:
    প্রাথমিক দাম (P) = ২০, পরিবর্তিত দাম (P₁) = ৪০; সুতরাং ΔP = ৪০ - ২০ = ২০
    প্রাথমিক চাহিদা (Q) = ৪০, পরিবর্তিত চাহিদা (Q₁) = ১০; সুতরাং ΔQ = ১০ - ৪০ = -৩০

    চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতা (E_d) = (ΔQ / ΔP) × (P / Q)
    = (-৩০ / ২০) × (২০ / ৪০)
    = -৩০ / ৪০ = -০.৭৫
    পরম মান |E_d| = ০.৭৫।

    তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
    উভয় দ্রব্যের দাম স্থিতিস্থাপকতার পরম মান ১ অপেক্ষা কম হলেও Y দ্রব্যের স্থিতিস্থাপকতা (|E_d| = ০.৭৫) X দ্রব্যের স্থিতিস্থাপকতা (|E_d| = ০.১৬৭) অপেক্ষা অনেক বেশি সংবেদনশীল।
    তবে সামগ্রিকভাবে শতকরা পরিবর্তনের দিক থেকে:

    • দাম বৃদ্ধির হার = (২০ / ২০) × ১০০% = ১০০%
    • X দ্রব্যের চাহিদা হ্রাসের হার = (৪ / ২৪) × ১০০% = ১৬.৬৭%
    • Y দ্রব্যের চাহিদা হ্রাসের হার = (৩০ / ৪০) × ১০০% = ৭৫%

    সুতরাং, X দ্রব্যের তুলনায় Y দ্রব্যের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির কারণে চাহিদার সংকোচন অনেক দ্রুত ও তীব্র হয়। তাই তুলনামূলক বিচারে X দ্রব্যটি অধিক প্রয়োজনীয় বা অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য এবং Y দ্রব্যটি তুলনামূলক আরামদায়ক বা কম প্রয়োজনীয় দ্রব্যের প্রকৃতি নির্দেশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন