সাহিত্য পাঠ • ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

একটি পতাকার জন্য কত রক্ত চাই! একটি মানচিত্রের জন্য কত অশ্রু চাই! রক্তের বুদবুদ ওঠে বিষণ্ণ বাতাসেচির সবুজের দেশে আপ্লুত আমুদে। জলপাই রঙের ট্যাংক বেড়ায় দাপিয়ে, শহরে কী বন্দরে সময়-অসময় । গর্জে উঠেছে সন্তান ভয়হীন সপ্রাণ,বাহুতে কলিজা বেঁধে করেছে সংগ্রাম।

  1. ক)

    'কমলবন' শব্দটির অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “এ-রঙের বিপরীতে আছে অন্য রং।" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটিতে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের কবি ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবি একই মন্ত্রে দীক্ষিত।" মন্তব্যটির সত্যতা বিচার করো

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'কমলবন' শব্দটির অর্থ পদ্মফুল বা পদ্মের বন (পদ্মবন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত চরণটি দ্বারা শহিদদের পবিত্র আত্মদানের রঙের বিপরীতে পাকিস্তানি শোষক-হানাদার বাহিনীর চাপিয়ে দেওয়া শোষণ, অত্যাচার ও মৃত্যুর কৃষ্ণবর্ণকে বোঝানো হয়েছে।

    'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় সালাম, বরকত প্রমুখ শহিদদের তাজা রক্তের রং কৃষ্ণচূড়া ফুলের মতো লাল হয়ে স্মৃতি ও চেতনায় ফুটে উঠেছে। কিন্তু এই আত্মত্যাগ ও প্রতিবাদের পবিত্র লালের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে ঘাতক পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বর্বর নির্যাতন, অন্যায় শাসন এবং তাদের লেলিয়ে দেওয়া মৃত্যুর প্রতিচ্ছবি, যা এদেশের মানুষের জীবনকে বিষাদময় ও রক্তাক্ত করে রেখেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটিতে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার দেশপ্রেম, রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগ এবং অন্যায়-শোষণের বিরুদ্ধে গণসংগ্রামের দিকটি ফুটে উঠেছে।

    'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সাধারণ জনতার আত্মদান ও সাহসিকতাকে চিত্রিত করেছেন। সেখানে পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে নির্ভীক ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করেছে এবং নিজেদের জীবন বাজি রেখে অধিকার আদায় করেছে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, একটি স্বাধীন ভূখণ্ড ও পতাকার জন্য অকাতরে রক্ত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শাসকগোষ্ঠীর জলপাই রঙের ট্যাংকের আতঙ্ক ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে নির্ভীক সন্তানরা 'বাহুতে কলিজা বেঁধে' প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। উদ্দীপকের এই বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম, নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং রক্তদানের মহিমা 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সংগ্রামী চেতনার প্রতিফলন ঘটায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের কবি ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবি একই মন্ত্রে দীক্ষিত"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবি শামসুর রাহমান মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিসংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ। তিনি পাকিস্তানি অপশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের তীব্র গণজাগরণ, মৃত্যুভয়হীন সংগ্রাম এবং রক্তের মূল্যে অর্জিত চেতনাকে কবিতার মূল উপজীব্য করেছেন। তাঁর বিশ্বাসে বরকত ও সালামদের রক্ত যেমন বৃথা যায়নি, তেমনি ১৯৬৯-এর রাজপথের মিছিলই স্বাধিকার ও স্বাধীনতার ভিত্তি নির্মাণ করেছিল।

    উদ্দীপকের কবিও অনুরূপভাবে দেশমাতৃকার মুক্তি ও জাতীয় পরিচয়ের জন্য আত্মত্যাগের মন্ত্রকে তুলে ধরেছেন। একটি পতাকা ও মানচিত্রের জন্য যে ত্যাগ ও রক্তক্ষরণ প্রয়োজন, উদ্দীপকের কবি তা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন। পাকিস্তানি জলপাই রঙের ট্যাংকের মুখোমুখি হয়ে বাংলার নির্ভীক সন্তানদের সাহসিকতার সাথে লড়াইয়ের চিত্র এঁকেছেন তিনি। উদ্দীপকের কবির মূল সুর হলো দেশপ্রেম, প্রতিরোধ এবং অধিকার অর্জনে অবিচল সংগ্রাম।

    দেখা যায়, উভয় কবিই দেশকে পরাধীনতা ও শোষণের নাগপাশ থেকে মুক্ত করার অভিন্ন জাতীয়তাবাদী চেতনা ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত। অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং রক্তের বিনিময়ে বিজয় ছিনিয়ে আনার এই আদর্শিক মিলের কারণে বলা যায়, উভয় কবিই একই মুক্তিকামী মন্ত্রে দীক্ষিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন