যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: মফিজ বললো, আমি এ যাবৎ যত ছাত্র দেখেছি তারা সকলেই মেধাবী, সুতরাং সকল ছাত্র হয় মেধাবী।
দৃশ্যকল্প-২ : একদল গবেষক একটি গ্রামের মোট ৪৫টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করে দেখল, প্রত্যেকটি নলকূপের পানি আর্সেনিকমুক্ত। তখন তারা সিদ্ধান্ত করল উক্ত গ্রামের সবকটি নলকূপ আর্সেনিকমুক্ত।
- ক)(1)
সংকট উত্তরক পরীক্ষণ কী?
- খ)(2)
অবৈধ সার্বিকীকরণ অনুপপত্তি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের আরোহ পদ্ধতি নির্দেশিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর আরোহ পদ্ধতির মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? আলোচনা করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে নিরীক্ষণ বা পরীক্ষণের মাধ্যমে কোনো প্রকল্পের পক্ষে বা বিপক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রকল্পটিকে প্রমাণ বা বাতিল করা যায়, তাকে সংকট-উত্তরক পরীক্ষণ (Crucial Experiment) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরোহ অনুমানে অপর্যাপ্ত বা সীমিত দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করে কোনো কার্যকর সম্বন্ধ বা কারণ আবিষ্কার না করেই তাড়াহুড়া করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত স্থাপন করলে যে যুক্তিদোষ ঘটে, তাকে অবৈধ সার্বিকীকরণ অনুপপত্তি (Fallacy of Hasty Generalization) বলে। যেমন: অল্প কয়েকজন অসৎ মানুষকে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যে 'সব মানুষই অসৎ'।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ আরোহের 'অপূর্ণাঙ্গ আরোহ' (Imperfect Induction) পদ্ধতিটি নির্দেশিত হয়েছে।
যে আরোহ অনুমানে একটি শ্রেণির অন্তর্গত কিছু দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এবং কার্যকারণ সম্পর্কের অনুসন্ধান ছাড়াই সমগ্র শ্রেণিটির বিষয়ে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য গঠন করা হয়, তাকে অপূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ মফিজ বাস্তবে যতজন ছাত্র দেখেছে তাদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, "সকল ছাত্র হয় মেধাবী"। এখানে পৃথিবীর সকল ছাত্রকে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি এবং ছাত্র হওয়া ও মেধাবী হওয়ার মধ্যে কোনো নিশ্চিত কার্যকারণ সম্পর্কও নির্ণয় করা হয়নি। শুধু কিছু দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করে একটি আরোহমূলক লম্ফের মাধ্যমে সমগ্র ছাত্র জাতি সম্পর্কে সাধারণীকরণ করা হয়েছে। তাই এটি অপূর্ণাঙ্গ আরোহের যথার্থ দৃষ্টান্ত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর আরোহ পদ্ধতির মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। দৃশ্যকল্প-১ নির্দেশ করছে 'অপূর্ণাঙ্গ আরোহ' এবং দৃশ্যকল্প-২ নির্দেশ করছে 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' (Perfect Induction)।
এদের মধ্যকার মূল পার্থক্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. দৃষ্টান্তের সংখ্যা: দৃশ্যকল্প-১ এর অপূর্ণাঙ্গ আরোহে কিছুসংখ্যক ছাত্রের দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করে সার্বিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ গ্রামের নির্দিষ্ট মোট ৪৫টি নলকূপের প্রত্যেকটি পরীক্ষা করেই সার্বিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পূর্ণাঙ্গ আরোহের বৈশিষ্ট্য।
২. আরোহমূলক লম্ফ: অপূর্ণাঙ্গ আরোহে জানা থেকে অজানায় যাওয়ার একটি 'আরোহমূলক লম্ফ' (Inductive Leap) থাকে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে সকল দৃষ্টান্ত সরাসরি পরীক্ষা করা হয় বলে এতে কোনো লম্ফ থাকে না। ফলে যুক্তিবিদ মিলের মতে দৃশ্যকল্প-২ হলো যুক্ত্যাভাস বা অপ্রকৃত আরোহ।
৩. নিশ্চয়তার মাত্রা: দৃশ্যকল্প-১ এর সিদ্ধান্ত কেবল সম্ভাব্য, কারণ ভবিষ্যতে কোনো অমেধাবী ছাত্র দেখা যেতেই পারে। পক্ষান্তরে দৃশ্যকল্প-২ এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত, কারণ কোনো নলকূপই পরীক্ষার বাইরে ছিল না।
৪. নতুন জ্ঞানের বিস্তার: দৃশ্যকল্প-১ এর মাধ্যমে নতুন তথ্যের সম্প্রসারণ ঘটে, কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ কেবল পূর্বের নিরীক্ষিত সত্যের সমষ্টি মাত্র।সুতরাং দৃশ্যকল্প-১ হলো প্রকৃত আরোহ এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো অপ্রকৃত আরোহের প্রকারভেদ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও