জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মানুষের বক্ষগহ্বরে দু'পাশে অসংখ্য বায়ুপ্রকোষ্ঠযুক্ত অঙ্গ আছে, যা O2 ও CO2 গ্যাস বিনিময় ঘটায়।
- ক)(1)
প্লুরা কী?
- খ)(2)
সাইনোসাইটিস বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের অঙ্গটির ক্ষুদ্রতম এককের গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষোক্ত গ্যাসটির পরিবহনের শরীরবৃত্ত ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফুসফুসকে আবৃতকারী দ্বিস্তরী সেরাস পর্দাকে প্লুরা (Pleura) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাইনাস বা প্যারানাসাল সাইনাসের মিউকাস পর্দার প্রদাহকে সাইনোসাইটিস (Sinusitis) বলে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ অথবা অ্যালার্জির কারণে সাইনাসের স্বাভাবিক নালি বন্ধ হয়ে তরল জমে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো মাথাব্যথা, মুখে বা চোখে চাপ অনুভূত হওয়া এবং নাক বন্ধ থাকা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো ফুসফুস এবং এর গঠনগত ও কার্যকরী ক্ষুদ্রতম একক হলো অ্যালভিওলাস (Alveolus)।
অ্যালভিওলাসের গঠন নিম্নরূপ:
১. আকৃতি ও সংখ্যা: অ্যালভিওলাসগুলো দেখতে অতি সূক্ষ্ম গোল বা বহুভুজাকৃতির থলির মতো। মানুষের দুটি ফুসফুসে প্রায় ৭০ কোটি অ্যালভিওলাস থাকে।
২. প্রাচীর: অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা (প্রায় ০.১-০.৫ মাইক্রোমিটার) এবং এটি একস্তরী স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত। প্রাচীরটি বেসমেন্ট মেমব্রেন বা ভিত্তি পর্দার ওপর অবস্থিত।
৩. কৈশিক জালক: প্রতিটি অ্যালভিওলাসের বাইরে পালমোনারি কৈশিক জালকের একটি ঘন জাল বিছানো থাকে, যা গ্যাসীয় বিনিময়ে ভূমিকা রাখে।
৪. সারফ্যাকট্যান্ট নিঃসরণ: অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের বিশেষ কোষ (টাইপ-২ নিউমোসাইট) 'সারফ্যাকট্যান্ট' নামক ফসফোলিপিড ও প্রোটিন মিশ্রিত রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে। এটি তরলের পৃষ্ঠটান কমিয়ে শ্বাসত্যাগের সময় অ্যালভিওলাসকে সংকুচিত বা চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
৫. ম্যাক্রোফেজ: প্রাচীরের ভেতরে ফ্যাগোসাইটিক ম্যাক্রোফেজ থাকে, যা প্রবেশকৃত রোগজীবাণু বা ধূলিকণা ধ্বংস করে অ্যালভিওলাসকে জীবাণুমুক্ত রাখে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষোক্ত গ্যাসটি হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড ()। কলাকোষে বিপাকের ফলে উৎপন্ন রক্তরসের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে পৌঁছায়। রক্তে পরিবহন তিনটি প্রধান উপায়ে সম্পন্ন হয়:
১. ভৌত দ্রবণ রূপে (প্রায় ৫%):
রক্তরসের পানির সাথে বিক্রিয়া করে মৃদু কার্বনিক এসিড () গঠন করে এবং এই রূপে পরিবাহিত হয়:
২. কার্বামিনো যৌগ রূপে (প্রায় ১০-২৭%):
লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন এবং রক্তরসের প্রোটিনের অ্যামিনো গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বামিনো যৌগ গঠন করে:- কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন:
- কার্বামিনো-প্রোটিন:
৩. বাইকার্বনেট যৌগ রূপে (প্রায় ৬৫-৮৫%):
সর্বাধিক পরিমাণ বাইকার্বনেট লবণ হিসেবে পরিবাহিত হয়।
লোহিত কণিকায় কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ (Carbonic anhydrase) এনজাইমের উপস্থিতিতে দ্রুত উৎপন্ন হয়, যা ভেঙে ও আয়ন তৈরি করে:
- প্লাজমা প্রোটিন এবং হিমোগ্লোবিন বাফার হিসেবে কাজ করে আয়ন প্রশমিত করে।
- আয়ন লোহিত কণিকা থেকে প্লাজমায় চলে আসে এবং তড়িৎ সমতা রক্ষার জন্য প্লাজমা থেকে আয়ন লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে, যাকে ক্লোরাইড শিফট (বা হ্যামবার্গার) বিক্রিয়া বলে।
- প্লাজমায় সোডিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে সোডিয়াম বাইকার্বনেট () হিসেবে এবং লোহিত কণিকায় পটাশিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে পটাশিয়াম বাইকার্বনেট () হিসেবে পরিবাহিত হয়।
ফুসফুসে পৌঁছে বিপরীত বিক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্ত হয়ে অ্যালভিওলাসে প্রবেশ করে এবং প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে থেকে বাইরে নির্গত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও