পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
প্রজাতন্ত্র কাকে বলে?
- খ)(2)
সংসদীয় সরকারব্যবস্থা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
চিত্রে উল্লিখিত 'ক' চিহ্নিত স্থান সরকারের কোন বিভাগকে নির্দেশ করে?
- ঘ)(4)
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় উত্ত বিভাগের গুরুত্ব মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের প্রধান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের দ্বারা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা লাভ করেন না, তাকে প্রজাতন্ত্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংসদীয় সরকারব্যবস্থা বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসন বিভাগ তাদের যাবতীয় কাজের জন্য আইনসভা বা সংসদের কাছে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী থাকে।
এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান কেবল নামমাত্র বা আলংকারিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রকৃত শাসন ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে এ সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রে উল্লিখিত চিহ্নিত স্থানটি সরকারের 'বিচার বিভাগ'-কে নির্দেশ করে।
সরকারের তিনটি প্রধান অঙ্গ বা বিভাগের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম। উদ্দীপকের চিত্রে দেখানো বৈশিষ্ট্যগুলো—জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করা এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করা—হলো বিচার বিভাগের প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলি। বিচার বিভাগ আইনের সঠিক প্রয়োগ ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে অপরাধীর শাস্তি এবং নিরপরাধ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। একই সাথে দেশের সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে এবং কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তা রক্ষায় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সুতরাং, উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোকে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে এটি সরকারের বিচার বিভাগকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে নির্দেশিত সরকারের বিচার বিভাগের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা এবং সমাজে সাম্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এর গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো:
১. নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ: আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবিধান কর্তৃক নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। সরকার বা কোনো ব্যক্তি কর্তৃক নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতের আশ্রয় নিতে পারে। বিচার বিভাগ রিট জারি বা আদেশের মাধ্যমে অধিকার পুনর্বহাল করে।
২. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: বিচার বিভাগ নিরপেক্ষভাবে বিরোধ মীমাংসা করে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীকে শাস্তি ও নির্দোষকে মুক্তি দেয়। এর মাধ্যমে দুর্বল ও শক্তিশালী উভয়ই সমান বিচার পায়, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূল শর্ত।
৩. সংবিধানের অভিভাবকত্ব: বিচার বিভাগ সংবিধানের সঠিক ব্যাখ্যা দেয় এবং আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন সংবিধানবিরোধী হলে তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে। ফলে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ পায়।
৪. দুর্বল শ্রেণির সুরক্ষা: সমাজে ধনী ও প্রভাবশালীদের শোষণ থেকে দুর্বল ও অনগ্রসর শ্রেণিকে সুরক্ষা প্রদান করে সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখে বিচার বিভাগ।
পরিশেষে বলা যায়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা ব্যতীত গণতান্ত্রিক শাসন ও নাগরিকের স্বস্তি বজায় রাখা অসম্ভব। তাই নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও