ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ এর প্রোডাকশন ডিরেক্টর সানজিদা তাবাসসুম প্রশাসক হিসেবে তার কর্মীদের কাছে এক অদ্ভুত চরিত্র। ভুলের কারণে তিনি তাদের বিন্দুমাত্র ক্ষমা করেন না। ভয়-ভীতি, বেতন কাটা; সাসপেন্ড থেকে শুরু করে কর্মীদের ছাঁটাই পর্যন্ত করেন তিনি। এজন্য কর্মীরা ভয় পেলেও শ্রদ্ধাও করেন। কারণ প্রত্যেক কর্মীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, জানেন, খোঁজ-খবর রাখেন, বিপদে-আপদে তাদের পাশে দাঁড়ান। সাহায্য-সহযোগিতা করেন। কঠোরতা ও কোমলতার তিনি এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ।

  1. ক)

    নির্দেশনা কী?

    (1)
  2. খ)

    “ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন” — ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    নেতৃত্বের বিচারে সানজিদা কোন ধরনের নেতা বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সানজিদার মধ্যে নেতৃত্বের কোন কোন গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে? উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধীনস্থদের কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য আদেশ, উপদেশ, পরামর্শ প্রদান ও তাদের তত্ত্বাবধান করার প্রক্রিয়াকে নির্দেশনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন” কথাটি দ্বারা বোঝায় যে, ব্যবস্থাপনা শুধু ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবার, সমাজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রসহ সর্বক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য ও অপরিহার্য।

    গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস সর্বপ্রথম মত প্রকাশ করেন যে ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন। দলবদ্ধভাবে মানুষ যেখানেই কোনো অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে, সেখানেই পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থাপকীয় কার্যাবলির প্রয়োজন পড়ে। উদ্দেশ্যহীন বা সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো দলগত কার্যক্রমই সফল হতে পারে না বলে ব্যবস্থাপনাকে সর্বজনীন বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ বিবেচনায় সানজিদা একজন 'পিতৃসুলভ নেতা' (Paternalistic leader) এবং কিছুটা স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের সংমিশ্রণে পরিচালিত নেতা, তবে সামগ্রিক বৈশিষ্ট্যে তিনি মূলত 'পিতৃসুলভ নেতা'।

    যে নেতৃত্ব পদ্ধতিতে নেতা কর্মীদের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রেখে কঠোর আচরণ করেন, ভুল করলে শাস্তি দেন, কিন্তু একই সাথে পিতার মতো তাদের স্নেহ, খোঁজখবর রাখা এবং বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে কল্যাণ নিশ্চিত করেন, তাকে পিতৃসুলভ নেতৃত্ব বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সানজিদা তাবাসসুম কাজের ভুলের জন্য অত্যন্ত কঠোর—ভয়ভীতি প্রদর্শন, বেতন কাটা বা ছাঁটাইয়ের মতো পদক্ষেপ নেন। আবার অন্যদিকে তিনি প্রত্যেক কর্মীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নেন এবং বিপদে পাশে দাঁড়ান। কঠোর শাসন এবং গভীর মমত্ববোধের এই যুগপৎ উপস্থিতি পিতৃসুলভ নেতৃত্বের নির্দেশক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সানজিদার মধ্যে নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও নিয়মনিষ্ঠা (কঠোরতা) এবং মানবিকতা ও সহমর্মিতার (কোমলতা) মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

    একজন সফল নেতার অন্যতম গুণ হলো শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষমতা ও দৃঢ় মানসিকতা। উদ্দীপকে সানজিদা কাজের মান ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিন্দুমাত্র ছাড় দেন না। ভুল সংশোধনে তিনি ভয়-ভীতি দেখানো, সাসপেন্ড বা ছাঁটাইয়ের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেন, যা তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে।

    অপরদিকে, একজন কার্যকর নেতার প্রধান মানবিক গুণ হলো সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক রক্ষার ক্ষমতা। সানজিদা কেবল কঠোর প্রশাসকই নন, তিনি প্রতিটি কর্মীকে ব্যক্তিগতভাবে জানেন, তাদের সার্বিক খোঁজ-খবর রাখেন এবং ব্যক্তিগত বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ান। ফলে কর্মীরা ভয় পেলেও তাকে মনেপ্রাণে শ্রদ্ধা করে।

    অতএব, উদ্দীপক বিশ্লেষণে দেখা যায় সানজিদার মধ্যে একদিকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার কঠোর মনোভাব এবং অন্যদিকে অধস্তনদের প্রতি পিতৃসুলভ স্নেহ ও সহমর্মিতার মতো বিরল গুণাবলির চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন