জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সিন্যাপসিস কী?
- খ)(2)
কোষচক্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের Q চিহ্নিত ধাপটির চিত্রসহ বর্ণনা দাও ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের R চিহ্নিত ধাপটি কীভাবে জীবজগতের উন্নয়ন ও বিবর্তনে ভূমিকা রাখে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ এর জাইগোটিন উপপর্যায়ে দুটি হোমোলোগাস (সমসংস্থ) ক্রোমোজোমের মধ্যে পরস্পর জোড় বাঁধার প্রক্রিয়াকে সিন্যাপসিস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি কোষের সৃষ্টি, এর বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিভাজনের মাধ্যমে নতুন কোষ সৃষ্টি পর্যন্ত যে চক্রাকার ঘটনাবলি আবর্তিত হয়, তাকে কোষচক্র (Cell cycle) বলে।
১৮৮৩ সালে হাওয়ার্ড ও পেল্ক (Howard and Pelc) সর্বপ্রথম কোষচক্রের প্রস্তাব করেন। কোষচক্র প্রধানত দুটি পর্যায় নিয়ে গঠিত: ইন্টারফেজ বা প্রস্তুতিমূলক পর্যায় (যা মোট সময়ের ৯০-৯৫%) এবং এম-ফেজ বা মাইটোটিক বিভাজন পর্যায় (যা মোট সময়ের ৫-১০%)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে P চিত্রটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ পর্যায়। তীরচিহ্ন নির্দেশিত P এর পরবর্তী Q চিহ্নিত ধাপটি হলো মাইটোসিসের মেটাফেজ (Metaphase) পর্যায়।
মেটাফেজ ধাপের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. মেটাকাইনেসিস: স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় বা নিরক্ষীয় অঞ্চলে ক্রোমোজোমগুলো এসে অবস্থান নেয়। এই প্রক্রিয়ায় ক্রোমোজোমের বিন্যস্ত হওয়াকে মেটাকাইনেসিস বলে।
২. সর্বোচ্চ খাটো ও মোটা: এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো সবচেয়ে বেশি ঘনীভূত হয়ে সর্বাধিক খাটো ও মোটা দেখায়। ফলে ক্রোমোজোমগুলোকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
৩. ক্রোমাটিডের স্পষ্টতা: সেন্ট্রোমিয়ার ছাড়া প্রতিটি ক্রোমোজোমের দুটি ক্রোমাটিড স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকে। সেন্ট্রোমিয়ারগুলো বিষুবীয় অঞ্চলে এবং বাহুগুলো মেরুমুখী হয়ে অবস্থান করে।
৪. নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন: এ পর্যায়ের শেষভাগে নিউক্লিওলাস এবং নিউক্লিয়ার মেমব্রেন সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
৫. সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন প্রস্তুতি: এ পর্যায়ের একেবারে শেষ ভাগে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন সূচিত হয়।(পরীক্ষায় পেন্সিল দিয়ে মেটাফেজ পর্যায়ের একটি উদ্ভিদ কোষের চিত্র এঁকে বিষুবীয় অঞ্চলে ক্রোমোজোম, স্পিন্ডল তন্তু ও সেন্ট্রোমিয়ার চিহ্নিত করতে হবে।)
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের R চিহ্নিত চিত্রে মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১-এর প্যাকাইটিন উপপর্যায়ে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে সংঘটিত ক্রসিং ওভার (Crossing over) দেখানো হয়েছে।
জীবজগতের উন্নয়ন ও বিবর্তনে ক্রসিং ওভারের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জিনগত পুনর্যোজন (Genetic Recombination): ক্রসিং ওভারের সময় দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের কায়াজমা অংশে খণ্ডবিনিময় ঘটে। এর ফলে মাতৃ ও পিতৃ ক্রোমোজোমের জিনের নতুন পুনর্বিন্যাস বা রিকম্বিনেশন ঘটে।
২. বৈচিত্র্য সৃষ্টি (Genetic Variation): জিনের নতুন বিন্যাসের কারণে অপত্য কোষে জিনগত প্রকরণ ঘটে, যার ফলে প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে নতুন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বা ভ্যারিয়েশনের সৃষ্টি হয়। বৈচিত্র্য ছাড়া কোনো জীব প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে পারে না।
৩. অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি: ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে সৃষ্ট নতুন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে জীব প্রতিকূল পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৪. বিবর্তন ও নতুন প্রজাতি সৃষ্টি: প্রকরণই হলো জৈব বিবর্তনের কাঁচামাল। হাজার হাজার বছর ধরে সঞ্চিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বংশানুক্রমিক প্রকরণ প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে পরিমার্জিত হয়ে একসময় নতুন প্রজাতির সৃষ্টি করে, যা জীবের বিবর্তনে প্রত্যক্ষ অবদান রাখে।
৫. ফসলের ও জীবের জাত উন্নয়ন: কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক ক্রসিং ওভার ঘটিয়ে কাঙ্ক্ষিত জিনের সমাবেশ ঘটিয়ে উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী উদ্ভিদ এবং প্রাণীর নতুন জাত উদ্ভাবন সম্ভব হচ্ছে।
অতএব, উদ্দীপকের R চিহ্নিত ধাপটি (ক্রসিং ওভার) জীবের জিনগত বৈচিত্র্য এনে জীবজগতের উন্নয়ন ও বিবর্তনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও