পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

জনাব কায়সার উচ্চ শিক্ষার জন্য কানাডায় গমন করেন। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পরে সেদেশে সরকারি চাকরি লাভ করেন এবং দীর্ঘদিন চাকরি করার পর সেদেশের নাগরিকত্ব লাভের জন্য আবেদন করেন এবং সেদেশের নাগরিকত্ব লাভ করার কিছুদিন পর স্ত্রী ও সন্তানদেরকে কানাডায় নিয়ে যান। তারাও সেদেশের নাগরিকত্ব লাভ করে।

  1. ক)

    নাগরিক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈত নাগরিকতা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জনাব কায়সার যে পদ্ধতিতে কানাডার নাগরিকত্ব লাভ করল- তা বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের জনাব কায়সার পরিবার কি ভাবে কানাডায় বসবাসের অনুমতি পেলা?? উক্ত নাগরিকত্ব লাভের নীতি গুলা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যিনি কোনো রাষ্ট্রের স্থায়ী অধিবাসী, রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত এবং রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করেন ও দায়িত্ব পালন করেন, তাকে নাগরিক বলে।

  2. খ)

    একই ব্যক্তি একই সময়ে দুটি রাষ্ট্রের নাগরিক হলে তাকে দ্বৈত নাগরিকতা (Dual Citizenship) বলে। যেমন, কোনো বাংলাদেশি আমেরিকার নাগরিকত্ব নিলেও যদি তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বজায় থাকে। রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে নাগরিকত্ব নীতির পার্থক্যের কারণেও এটি হতে পারে। এ অবস্থায় ব্যক্তি দুই রাষ্ট্রের অধিকার ভোগ করে, আবার দুই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বও পালন করে।

  3. গ)

    জনাব কায়সার অনুমোদন বা আবেদনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভ (Naturalization) পদ্ধতিতে কানাডার নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

    উদ্দীপকে তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য কানাডায় গিয়ে সেখানে সরকারি চাকরি পান এবং দীর্ঘদিন বসবাস ও চাকরির পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। রাষ্ট্র শর্ত পূরণ হয়েছে দেখে তাকে নাগরিকত্ব দেয়। এটি জন্মসূত্রে নয়, পরবর্তীতে অর্জিত নাগরিকত্ব। দীর্ঘকালীন বসবাস, সরকারি চাকরি, আবেদন ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি এ পদ্ধতির শর্ত।

  4. ঘ)

    জনাব কায়সারের স্ত্রী ও সন্তানরা তার নাগরিকত্ব লাভের সূত্র ধরে (পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে) কানাডায় বসবাসের অনুমতি ও নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

    ১. স্ত্রী: স্বামী কানাডার নাগরিক হওয়ার পর বিবাহসূত্রে স্ত্রী সেদেশের নাগরিকত্ব লাভের আবেদন করতে পারেন। বিয়ে নাগরিকত্ব অর্জনের একটি পদ্ধতি।

    ২. সন্তান: অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা পিতা বা মাতার নাগরিকত্বের সূত্রে সহজেই নাগরিকত্ব পায়, কারণ পরিবারের ঐক্য ও রক্তের সম্পর্ক বিবেচনা করা হয়।

    ৩. নাগরিকত্ব লাভের নীতি: নাগরিকত্ব দুভাবে পাওয়া যায়—জন্মসূত্রে (রক্তসম্পর্ক ও জন্মস্থান নীতি) এবং অনুমোদনের মাধ্যমে (দীর্ঘ বসবাস, সরকারি চাকরি, বিবাহ, সম্পত্তি ক্রয়, আবেদন ইত্যাদি)। কায়সারের পরিবার দ্বিতীয় নীতিতে নাগরিকত্ব লাভ করেছে।

    সুতরাং, কায়সার অনুমোদনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর স্ত্রী বিবাহসূত্রে এবং সন্তানরা পারিবারিক সূত্রে কানাডার নাগরিকত্ব লাভ করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন