যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত-১ | দৃষ্টান্ত-২
শ্যামল হয় মরণশীল। | ঢাকার কাক হয় কালো।
কমল হয় মরণশীল। | কুমিল্লার কাক হয় কালো।
রনি হয় মরণশীল। | রংপুরের কাক হয় কালো।
∴\therefore সকল মানুষ হয় মরণশীল। | সুতরাং, সকল কাক হয় কালো।

  1. ক)

    প্রকৃত আরোহ কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    আরোহমূলক লম্ফকে রোহের প্রাণ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-২ এ কোন ধরনের আরোহের উল্লেখ রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পাঠ্যপুস্তকের আলোকে দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ এর পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ জে. এস. মিলের মতে প্রকৃত আরোহ তিন প্রকার: বৈজ্ঞানিক আরোহ, অবৈজ্ঞানিক আরোহ এবং সাদৃশ্যানুমান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে, বিশেষ থেকে সার্বিকে বা নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিতে উপনীত হওয়ার মানসিক উত্তরণ বা ঝুঁকিকে 'আরোহমূলক লম্ফ' বলা হয়।

    আরোহ অনুমানের মূল লক্ষ্যই হলো কিছু দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণ করে সমগ্র জাতি সম্পর্কে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। এই প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত জানা অবস্থা থেকে অজানা ক্ষেত্রে পদার্পণ না করলে কোনো আরোহ সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। আরোহমূলক লম্ফের উপস্থিতির কারণেই আরোহ অনুমান অবরোহ থেকে স্বতন্ত্র রূপ পায়। এজন্য আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বা মূল বৈশিষ্ট্য বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-২ এ 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ' (Unscientific Induction) এর উল্লেখ রয়েছে।

    যে আরোহ প্রক্রিয়ায় কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় না করে কেবল অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবং কোনো প্রতিকূল বা বিরোধী দৃষ্টান্তের অনুপস্থিতিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।

    দৃষ্টান্ত-২ এ ঢাকার কাক, কুমিল্লার কাক এবং রংপুরের কাক—কিছু কালো রঙের কাক দেখার অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে 'সকল কাক হয় কালো'। এখানে কাক ও কালো রঙের মধ্যে কোনো বৈজ্ঞানিক বা কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করা হয়নি; কেবল আজ পর্যন্ত কোনো ভিন্ন রঙের কাক না দেখার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। তাই এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাঠ্যপুস্তকের আলোকে দৃষ্টান্ত-১ হলো 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' এবং দৃষ্টান্ত-২ হলো 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ'। নিম্নে এদের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. কার্যকারণ সম্পর্ক: দৃষ্টান্ত-১ (বৈজ্ঞানিক আরোহ) প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। মানুষের মরণশীলতার ক্ষেত্রে জীবনধারণ ও শারীরিক ক্ষয়ের একটি অকাট্য কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে। পক্ষান্তরে, দৃষ্টান্ত-২ (অবৈজ্ঞানিক আরোহ) কোনো কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না; কাক এবং কালো রঙের মধ্যে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় ছাড়াই কেবল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ২. অভিজ্ঞতার প্রকৃতি: বৈজ্ঞানিক আরোহ সুপরিকল্পিত নিরীক্ষণ ও কার্যকারণ ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ কেবল অবাধ ও সাধারণ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

    ৩. সিদ্ধান্তের প্রকৃতি: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সর্বদাই নিশ্চিত ও সংশয়হীন, কারণ তা সুনির্দিষ্ট কার্যকারণ সূত্রের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য; ভবিষ্যতে কোনো একটি সাদা কাকের সন্ধান পাওয়া গেলেই 'সকল কাক হয় কালো' সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হতে পারে।

    ৪. বৈজ্ঞানিক মূল্য: যুক্তিশাস্ত্রে জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক থেকে দৃষ্টান্ত-১ এর বৈজ্ঞানিক মূল্য অত্যন্ত উচ্চ। অন্যদিকে দৃষ্টান্ত-২ এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দুর্বল এবং তা সাধারণ মানুষের সহজাত চিন্তাপ্রসূত।

    অতএব, দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ উভয়ই প্রকৃত আরোহের রূপভেদ হলেও এদের মধ্যকার কার্যকারণ সম্পর্ক ও নিশ্চয়তার মাত্রার পার্থক্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন