যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

সমগ্র সৃষ্টিরাজির মধ্যে মানুষ আলাদা। কারণ তার রয়েছে জীববৃত্তি ক্ষমতার পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা। বুদ্ধির কারণেই মানুষ চিন্তা করতে পারে। চিন্তাশক্তি বিকশিত হওয়ায় জ্ঞানচর্চার একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে মানুষ পদ্ধতিগতভাবে যুক্তি প্রদান ও যুক্তি মূল্যায়ন শুরু করে। ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর পূর্বে বিষয়টির সূচনা হয়েছে।

  1. ক)

    যুক্তিবিদ্যা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তিবিদ্যা কেন আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান? বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি সম্পর্কে এরিস্টটলের ধারণা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির পরিধি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে ব্যবহারিক বিজ্ঞান ভ্রান্তিকে পরিহার করে সত্যকে অর্জন করার উদ্দেশ্যে সঠিক যুক্তিপদ্ধতি বা চিন্তাপ্রক্রিয়া এবং তার সহায়ক নিয়মাবলি সম্পর্কে আলোচনা করে, তাকে যুক্তিবিদ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যাকে একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়, কারণ এটি কোনো বিষয়কে কেবল 'যা আছে' সেভাবে বর্ণনা করে না, বরং 'কেমন হওয়া উচিত'—সেই আদর্শের আলোকে মূল্যায়ন করে। যুক্তিবিদ্যার মূল আদর্শ বা লক্ষ্য হলো 'সত্যকে অর্জন করা এবং মিথ্যাকে বর্জন করা'। সঠিক যুক্তিপদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত এবং সত্যতার মানদণ্ডে যুক্তি কীভাবে গঠিত হবে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট নিয়ম ও আদর্শ প্রণয়ন করে যুক্তিবিদ্যা সঠিক ও ভুল চিন্তার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে। তাই যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি হলো 'যুক্তিবিদ্যা'। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলকে যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হয়। তাঁর মতে, যুক্তিবিদ্যা হলো সকল বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি বা জ্ঞান অর্জনের প্রাথমিক হাতিয়ার (Organon)।

    এরিস্টটলের ধারণা অনুযায়ী, চিন্তার সঠিক নিয়মাবলি আবিষ্কার ও প্রণয়নই যুক্তিবিদ্যার প্রধান লক্ষ্য। তিনি যুক্তিবিদ্যাকে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে প্রথম সুসংবদ্ধ করেন। এরিস্টটল অবরোহ যুক্তিপদ্ধতি ও সহানুমানের (Syllogism) নিয়মাবলি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, যুক্তিবিদ্যা কোনো বিশেষ বিষয়ের বাস্তব বিজ্ঞান নয়, বরং এটি সকল প্রকার চিন্তার রূপগত শুদ্ধতা নির্ণয়ের একটি সহায়ক পদ্ধতি বা শাস্ত্র। এরিস্টটলের এই চিন্তাধারা তাঁর বিখ্যাত সংকলন 'অর্গানন' (Organon)-এ স্থান পেয়েছে, যা মানবচিন্তার যৌক্তিক কাঠামোকে পদ্ধতিগত রূপ প্রদান করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি হলো 'যুক্তিবিদ্যা'। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে নিম্নে যুক্তিবিদ্যার পরিধি বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অনুমানের নিয়মাবলি: যুক্তিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয় হলো অনুমান। অনুমান মূলত দুই প্রকার—অবরোহ ও আরোহ অনুমান। এদের বিভিন্ন রূপ, নিয়ম এবং বৈধতা-অবৈধতা যাচাই করা যুক্তিবিদ্যার পরিধির অন্তর্ভুক্ত।

    ২. ভাষা ও ব্যাকরণগত উপাদান: চিন্তার প্রকাশ ঘটে ভাষার মাধ্যমে। তাই পদ, বাক্য, বিধেয়, বিধেয়ক ইত্যাদি ব্যাকরণগত ও যৌক্তিক প্রত্যয় যুক্তিবিদ্যার পরিধিভুক্ত।

    ৩. সংজ্ঞায়ন ও বিভাগ: যেকোনো ধারণাকে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন করার জন্য যৌক্তিক সংজ্ঞা এবং যৌক্তিক বিভাগের নিয়মাবলি বিশদভাবে যুক্তিবিদ্যায় আলোচিত হয়।

    ৪. অনুপপত্তি (Fallacy): সঠিক যুক্তি গঠনের পাশাপাশি যুক্তিপ্রক্রিয়ায় যে সকল ভুল বা ত্রুটি দেখা দেয়, অর্থাৎ অনুপপত্তি শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা যুক্তিবিদ্যার পরিধির একটি প্রধান বিষয়।

    ৫. সত্যের অনুসন্ধান: যুক্তিবিদ্যা রূপগত (Formal) ও বস্তুগত (Material) উভয় প্রকার সত্যতা নিয়েই আলোচনা করে। বিশেষত আরোহ যুক্তির ভিত্তি হিসেবে কার্যকারণ নিয়ম ও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিও এর পরিধির মধ্যে পড়ে।

    অতএব, যুক্তিবিদ্যা কেবল অনুমান প্রক্রিয়াই নয়, বরং চিন্তার সঠিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সকল সহায়ক প্রক্রিয়া ও নিয়মের সমন্বয়ে একটি সুবিস্তৃত পরিধি ধারণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন