ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. কাইমউদ্দীন নূরগঞ্জ এলাকার জমিদার ছিলেন। তাঁর স্ত্রী। জুলেখা বেগম ছিলেন যেমন অপরূপা সুন্দরী তেমনি বুদ্ধিমতী ও সুনিপুণা। অল্প সময়ের মধ্যেই জুলেখা বেগম জমিদার মি. কাইমউদ্দীনের প্রিয়পাত্রী হয়ে ওঠেন। ফলে আরামপ্রিয় জমিদারের ওপর তার স্ত্রী প্রভাব বিস্তার করেন এবং পর্দার আড়ালে প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারিণী হন।

  1. ক)

    কত খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    মনসবদারি প্রথা সম্পর্কে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জুলেখা বেগমের সাথে মুঘল আমলের কোন মহীয়সী। নারীর মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত মহীয়সী নারীর কৃতিত্ব পর্যালোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সম্রাট আকবর ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মনসবদারি প্রথা হলো মুঘল সম্রাট আকবর প্রবর্তিত একটি সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনিক পদমর্যাদাভিত্তিক ব্যবস্থা। আরবি 'মনসব' শব্দের অর্থ পদ বা পদমর্যাদা। এই প্রথা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করা হতো এবং তাঁদের পদমর্যাদা অনুযায়ী বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্য পোষণের দায়িত্ব নির্ধারিত থাকত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জুলেখা বেগমের সাথে মুঘল আমলের মহীয়সী নারী নূরজাহানের মিল পাওয়া যায়।

    সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহান ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, রূপসী ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন নারী। সম্রাট জাহাঙ্গীর আরামপ্রিয় ও বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত থাকায় সাম্রাজ্যের শাসনকাজে নূরজাহানের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে নূরজাহান পর্দার অন্তরালে থেকেই মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন এবং তাঁর নামাঙ্কিত মুদ্রাও চালু করা হয়। উদ্দীপকের জুলেখা বেগমও রূপ ও বুদ্ধির জোরে জমিদার মি. কাইমউদ্দীনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে পর্দার আড়ালে প্রকৃত ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেন। তাই তাঁর সাথে নূরজাহানের স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুঘল ইতিহাসের রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের কৃতিত্ব ছিল অপরিসীম।

    প্রথমত, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নূরজাহান অসাধারণ প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেন। জাহাঙ্গীরের অসুস্থতা ও দুর্বলতার সুযোগে তিনি একটি শক্তিশালী চক্র (জান্তা) গঠন করে সাম্রাজ্য পরিচালনা করেন। খসরু ও খুররমের বিদ্রোহ দমন, মহাবত খানের বন্দিদশা থেকে কৌশল করে সম্রাটকে মুক্ত করা নূরজাহানের রাজনৈতিক কূটকৌশল ও সাহসিকতার বড় প্রমাণ।

    দ্বিতীয়ত, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি নতুন নতুন পোশাক, অলঙ্কার ও সুগন্ধির প্রবর্তন করেন এবং তৎকালীন সমাজে ফ্যাশন ও রুচির ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। দরিদ্র ও অসহায় নারীদের পুনর্বাসন এবং বহু অনাথ মেয়ের বিবাহের ব্যবস্থা করে তিনি জনকল্যাণে ভূমিকা রাখেন।

    সুতরাং বলা যায়, নূরজাহান শুধু ক্ষমতার চর্চাই করেননি, বরং যোগ্যতা, দূরদর্শিতা ও মানবহিতৈষী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুঘল ইতিহাসের এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন