পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
দাদু প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে নাতিরাজুকে বললেন, " দাদুভাই, আমার জীবনে এমন একটি নির্বাচন দেখেছি, যে নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ। তিনি আরও বললেন, "অনেকগুলো রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও বাঙালিরা একটি রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছিল। কিন্তু পরবর্তী শাসক কোনোভাবে জয়ী দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে জনগণের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়।
- ক)(1)
কে ৬-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট সম্পর্কে কী জান?
- গ)(3)
উদ্দীপকে দাদু কোন নির্বাচনের কথা বলেছেন? তোমার পাঠ্যপুস্তক এর আলোকে উক্ত নির্বাচনের ফলাফল লেখ।
- ঘ)(4)
উক্ত নির্বাচনের ফলাফল পাকিস্তানের ভাঙ্গন ত্বরান্বিত করে- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে লাহোরে ঐতিহাসিক ৬-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র ও নিরীহ বাঙালি জাতির ওপর যে পরিকল্পিত ও নৃশংস গণহত্যা পরিচালনা করে, তার সামরিক সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। এর মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং বাঙালি পুলিশ ও সেনাদের নিশ্চিহ্ন করে বাঙালিদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়া। এ রাতে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দাদু ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের কথা বলেছেন।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই নির্বাচনে বাঙালিরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে।
১. জাতীয় পরিষদে: পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসনে (১৬০টি সরাসরি এবং ৭টি সংরক্ষিত নারী আসন) জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
২. প্রাদেশিক পরিষদে: পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের মোট ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। এই ঐতিহাসিক ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, বাঙালি জাতি পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি এবং ৬ দফার পক্ষে একতাবদ্ধ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল পাকিস্তানের অখণ্ডতা বিনষ্ট এবং বিভাজনকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক নিয়মেই তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রভাবশালী নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তারা ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন।
এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পূর্ব বাংলায় শুরু হয় তীব্র অসহযোগ আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে কার্যত স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আলোচনা প্রহসনে রূপ নেয় এবং ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বরোচিত হামলা (অপারেশন সার্চলাইট) চালায়। এই গণহত্যার ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিভাজন চূড়ান্ত রূপ পায় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। অতএব, নির্বাচনের ফলাফল এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ পাকিস্তানের ভাঙনকে দ্রুততর ও নিশ্চিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও