বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

সীমা শৈশবে মা-বাবাকে হারিয়ে চাচার আশ্রয়ে ছিল। সেখানে থাকাকালীন তার বাল্যবিবাহ হয়। স্বামীর ঘরে অত্যাচার-নির্যাতন, পরে তালাক। চাচার তেমন সহযোগিতা না পেলেও দমেনি সীমা। টিউশনি করে লেখাপড়া চালিয়ে যায় সে। সীমা এখন মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।

  1. ক)

    'মাসি-পিসি' গল্পটির লেখক কে?

    (1)
  2. খ)

    আহ্লাদি স্বামীর বাড়ি যেতে চায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চাচা ও 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসি চরিত্রের তুলনামূলক অলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের সীমা এবং ‘মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি উভয়েই নির্যাতিত নারী সমাজের প্রতিনিধি।”—বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মাসি-পিসি' গল্পটির লেখক হলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বামীর বাড়িতে আহ্লাদির ওপর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। তাকে পেট পুরে খেতে পর্যন্ত দেওয়া হতো না। যৌতুক ও অন্যান্য কারণে সেখানে সে অবহেলা আর নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। এমনকি তার অসহায় অবস্থায় স্বামী জগু তাকে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল। স্বামীর ঘরের সেই ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের তিক্ত স্মৃতির কারণেই আহ্লাদি আর স্বামীর বাড়ি ফিরে যেতে চায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চাচা ও 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসি চরিত্রের মধ্যে অসহায় নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্বশীলতার দিক থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী রূপ লক্ষ করা যায়।

    'মাসি-পিসি' গল্পে দেখা যায়, আহ্লাদি পিতৃ-মাতৃহীন হয়ে অসহায় অবস্থায় পড়লে তার বিধবা মাসি ও পিসি তাকে পরম মমতায় বুকে টেনে নেয়। তারা নিজেরা কঠোর কায়িক পরিশ্রম করে আহ্লাদির ভরণপোষণ জোগায় এবং সমাজপতি ও লম্পট স্বামীর হাত থেকে তাকে রক্ষা করার জন্য লাঠি-বঁটি হাতে সাহসিকতার সাথে রুখে দাঁড়ায়। আহ্লাদির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে অটল ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকে সীমার চাচা পিতৃহীন সীমাকে আশ্রয় দিলেও তার প্রতি যথার্থ দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি সীমাকে বাল্যবিবাহ দেন এবং স্বামীর বাড়ি থেকে নির্যাতিত হয়ে ফিরে আসার পর ও তালাকের পর তাকে কোনো কার্যকর সহযোগিতা করেননি। বিপদের দিনে যেখানে মাসি-পিসি পরম নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল, সেখানে সীমার চাচা ছিলেন উদাসীন ও নিষ্ক্রিয়। তাই বলা যায়, মাসি-পিসি ছিল প্রকৃত অভিভাবক ও রক্ষক, আর উদ্দীপকের চাচা ছিলেন দায়িত্বহীন ও সহযোগিতাহীন এক চরিত্র।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের সীমা এবং ‘মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি উভয়েই নির্যাতিত নারী সমাজের প্রতিনিধি”— মন্তব্যটি যথার্থ।

    পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা যে বিভিন্নভাবে বঞ্চনা, অত্যাচার এবং পারিবারিক ও সামাজিক নিপীড়নের শিকার হয়, তা উদ্দীপকের সীমা এবং 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি উভয়ের জীবনচিত্রেই ফুটে উঠেছে।

    'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদি একজন অভিভাবকহীন অসহায় নারী। তার বাবা-মা, ভাই কেউ বেঁচে নেই। তার বিয়ে হয় জগু নামের এক অত্যাচারী ও লোভী যুবকের সাথে। শ্বশুরবাড়িতে আহ্লাদির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চলে, তাকে অর্ধাহারে রাখা হয়। পিতৃভিটায় ফিরে আসার পরও তার নিস্তার মেলে না; তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য সমাজের লম্পট ও জোতদার শ্রেণির কুদৃষ্টি পড়ে তার ওপর। এভাবে সে সমাজের নিপীড়িত ও অসহায় নারীর প্রতীক হয়ে উঠেছে।

    অনুরূপভাবে, উদ্দীপকের সীমাও শৈশবে বাবা-মাকে হারিয়ে চাচার আশ্রয়ে বড় হয় এবং অল্প বয়সে বাল্যবিয়ে নামের সামাজিক অভিশাপের শিকার হয়। স্বামীর ঘরে গিয়ে সে শিকার হয় নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতনের, যার শেষ পরিণতি ঘটে তালাকের মধ্য দিয়ে। এদিক থেকে সীমাও আহ্লাদির মতো পারিবারিক ও দাম্পত্য নির্যাতনের নির্মম শিকার।

    তবে পরবর্তী জীবনে সীমা নিজের অদম্য মনোবল ও টিউশনি করে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে মেডিকেল কলেজে পড়ে নিজের ভাগ্য বদলেছে, আর আহ্লাদি বেঁচে থাকার শক্তি ও নিরাপত্তা পেয়েছিল তার মাসি-পিসির প্রতিরক্ষার ভেতর দিয়ে। কিন্তু উৎপীড়নের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে উভয়েই পিতৃতান্ত্রিক শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সীমা এবং 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি উভয়েই সমকালীন নির্যাতিত নারী সমাজের জীবন্ত প্রতিনিধি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন