জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রাফিয়ার মা নেকটার, পানি ও রেণু ইত্যাদি দ্বারা তৈরি এক ধরনের প্রাকৃতিক মিষ্টিজাতীয় বস্তুর সাথে ডিম ও পাউরুটিসহকারে সকাল বেলা নাস্তা তৈরি করেন।

  1. ক)

    স্ক্লেরাইট কী?

    (1)
  2. খ)

    ওভিপজিটর এর কাজ লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মিষ্টিজাতীয় এবং প্রাণিজ খাদ্য সৃষ্টিকারী প্রাণীদ্বয়ের নটোকর্ডভিত্তিক পার্থক্য আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মিষ্টিজাতীয় বস্তু সৃষ্টিকারী প্রাণীরা চরমভাবে অ্যালটুইস্টিক- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের (যেমন- ঘাসফড়িং) বহিঃকঙ্কালের প্রতিটি শক্ত কিউটিকুলার প্লেট বা পাতকে স্ক্লেরাইট (sclerite) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ওভিপজিটর হলো স্ত্রী ঘাসফড়িং বা স্ত্রী কীটপতঙ্গের উদরের পশ্চাৎপ্রান্তে অবস্থিত ডিম পাড়ার বিশেষ অঙ্গ। এর প্রধান কাজগুলো হলো:
    ১. ডিম পাড়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ (যেমন- নরম মাটি বা উদ্ভিদের কলা) খনন করা বা ছিদ্র তৈরি করা।
    ২. সংগৃহীত ও পরিপক্ব ডিমগুলোকে নিরাপদে মাটির গর্তে বা নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন ও বিন্যস্ত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক মিষ্টিজাতীয় বস্তু হলো মধু, যার সৃষ্টিকারী প্রাণী হলো মৌমাছি। অন্যদিকে ডিম হলো প্রাণিজ খাদ্য, যার সৃষ্টিকারী প্রাণী হলো পাখি (যেমন মুরগি)। মৌমাছি নন-কর্ডাটা এবং পাখি কর্ডাটা পর্বের অন্তর্ভুক্ত। এদের নটোকর্ডভিত্তিক পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:

    ১. নটোকর্ডের উপস্থিতি: মৌমাছির ভ্রূণাবস্থায় বা পূর্ণাঙ্গ দশায় কখনোই কোনো নটোকর্ড উপস্থিত থাকে না। পক্ষান্তরে, পাখির ভ্রূণাবস্থায় পৃষ্ঠীয় মধ্যরেখা বরাবর একটি স্থিতিস্থাপক ও নমনীয় নটোকর্ড বিদ্যমান থাকে।

    ২. মেরুদণ্ডে রূপান্তর: মৌমাছির ক্ষেত্রে নটোকর্ড না থাকায় মেরুদণ্ডে রূপান্তরের কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে, পাখির ভ্রূণীয় নটোকর্ডটি পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় অস্থিময় কশেরুকা দ্বারা গঠিত মেরুদণ্ড (vertebral column) দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়।

    ৩. পর্বের অবস্থান: নটোকর্ড সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকায় মৌমাছি নন-কর্ডাটা (আর্থ্রোপোডা পর্বভুক্ত)। অপরদিকে ভ্রূণাবস্থায় নটোকর্ড থাকায় এবং পরবর্তীতে তা মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হওয়ায় পাখি কর্ডাটা পর্বের ভার্টিব্রাটা উপপর্বের অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রাকৃতিক মিষ্টিজাতীয় বস্তু (মধু) প্রস্তুতকারী প্রাণী হলো মৌমাছি। মৌমাছিরা সামাজিক পতঙ্গ এবং এদের সমাজে চরম মাত্রায় পরার্থপরতা বা অ্যালটুইজম (Altruism) পরিলক্ষিত হয়। কোনো প্রাণীর নিজের প্রজনন ও ব্যক্তিগত সুবিধার কথা না ভেবে দলের বা অন্য সদস্যদের কল্যাণে আত্মত্যাগী আচরণকে অ্যালটুইজম বলে।

    মৌমাছির কলোনিতে মূলত তিন ধরনের মৌমাছি থাকে: রানি, ড্রোন (পুরুষ) এবং বন্ধ্যা স্ত্রী শ্রমিক মৌমাছি। শ্রমিক মৌমাছিদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অ্যালটুইজমের চরম রূপ প্রকাশিত হয়:
    ১. প্রজনন ত্যাগ: শ্রমিক মৌমাছিরা নিজেরা প্রজননে অংশ না নিয়ে আজীবন রানি মৌমাছির সেবা এবং তার ডিম থেকে ফুটে বের হওয়া লার্ভাদের (ভবিষ্যৎ বংশধরদের) লালন-পালনে নিয়োজিত থাকে।
    ২. শ্রম ও নিরাপত্তা বিধান: শ্রমিক মৌমাছিরা সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে নেকটার ও রেণু সংগ্রহ করে মধু ও মোম তৈরি করে, মৌচাক পরিষ্কার রাখে এবং মৌচাকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
    ৩. আত্মাহুতি প্রদান: মৌচাক কোনো শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে শ্রমিক মৌমাছিরা হুল ফুটিয়ে আত্মরক্ষামূলক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। হুল ফোটানোর পর তাদের হুলসহ পেটের কিছু অভ্যন্তরীণ অংশ ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে তাদের নিজের মৃত্যু ঘটে।

    এভাবে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন, প্রজনন এবং অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে কলোনির অস্তিত্ব ও বংশরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে মৌমাছিরা চরমভাবে অ্যালট্রুইস্টিক বা পরার্থপর আচরণ প্রদর্শন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন