ভূগোল এবং পরিবেশ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৬

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: ক্লাসে শিক্ষক আমাদের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে পাঠদান করছিলেন, যা আমাদের পাঠ্যক্রমের এক বিশেষ অংশ।
দৃশ্যকল্প-২: একদল শিক্ষার্থী দেশের সর্ব দক্ষিণ অঞ্চলে গিয়ে দেখল কূল-কিনারাবিহীন এক বিশাল জলরাশি যেখানে অনেক সামুদ্রিক সম্পদ রয়েছে।

  1. ক)

    প্রাকৃতিক ভূগোল কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মহীঢালের প্রশস্ততা কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    শিক্ষকের আলোচ্য বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২; এর জলরাশির সম্পদসমূহ চিহ্নিতপূর্বক তা বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে কীরূপ ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ভূগোলের যে শাখায় ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কর্মরত বিভিন্ন প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল (Physical geography) বলে।

  2. খ)

    মহীসোপানের শেষ সীমা থেকে ভূভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের গভীর তলদেশের সঙ্গে মিশে গেছে, এই ঢালু অংশকে মহীঢাল (Continental slope) বলে।
    মহীঢালের ঢাল অনেক বেশি খাড়া। অল্প দূরত্বের মধ্যেই এর গভীরতা ২০০ মিটার থেকে প্রায় ৩,০০০ মিটারে পৌঁছে যায়।
    খাড়া হওয়ার কারণে এটি সমুদ্রের তলদেশে বেশি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত হতে পারে না। তাই মহীঢালের প্রশস্ততা কম, গড়ে প্রায় ১৬ থেকে ৩২ কিলোমিটার।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ শিক্ষক আমাদের চারপাশের পরিবেশ নিয়ে পাঠদান করছিলেন। অতএব তাঁর আলোচ্য বিষয়টি হলো পরিবেশ (Environment)।
    কোনো জীব বা বস্তুর চারপাশে যা কিছু আছে এবং যা তার জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে, তাকেই পরিবেশ বলে। পরিবেশের দুটি প্রধান উপাদান আছে।
    ১. প্রাকৃতিক উপাদান: জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, মাটি, নদী-সাগর, উদ্ভিদ, প্রাণী ও খনিজ সম্পদ। এগুলো মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে।
    ২. মানবসৃষ্ট উপাদান: ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শহর-বন্দর, অফিস-আদালত ও কলকারখানা। মানুষ এগুলো তৈরি করে পরিবেশের পরিবর্তন ঘটায়।
    মানুষ ও পরিবেশের এই পারস্পরিক সম্পর্ক ভূগোলের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। তাই এটি পাঠ্যক্রমের বিশেষ অংশ।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ শিক্ষার্থীরা দেশের সর্ব দক্ষিণে যে কূল-কিনারাবিহীন বিশাল জলরাশি দেখল, সেটি বঙ্গোপসাগর। এটি আমাদের দেশের জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
    সম্পদসমূহ:
    ১. মৎস্য সম্পদ: ইলিশ, চিংড়িসহ নানা রকম সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী।
    ২. খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ: সমুদ্রতলদেশ ও উপকূলে প্রাকৃতিক গ্যাসসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা এবং সমুদ্রের পানি থেকে লবণ।
    ৩. যোগাযোগ ও বাণিজ্যপথ: জাহাজ চলাচলের জলপথ হিসেবে সমুদ্র ব্যবহৃত হয়। এর উপকূলে চট্টগ্রাম ও মোংলার মতো সমুদ্রবন্দর আছে।
    জাতীয় আয়ে ভূমিকা:
    ১. সামুদ্রিক মাছ ও চিংড়ি দেশের চাহিদা মেটায় এবং রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়।
    ২. লবণ উৎপাদন ও জ্বালানি সম্পদ আমদানি-নির্ভরতা কমায়।
    ৩. বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলে। এতে শুল্ক ও রাজস্ব আয় হয় এবং মৎস্য আহরণ, বন্দর ও পরিবহন খাতে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়।
    সুতরাং, বঙ্গোপসাগরের সম্পদ সুষ্ঠুভাবে আহরণ ও ব্যবহার করতে পারলে তা বাংলাদেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন