অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

'R' দেশ বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাপান ও চীন থেকে ঋণ গ্রহণ করে পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র স্থাপন করে। একইসাথে দেশটির সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবং বন্ড বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে ICT তে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

  1. ক)

    ফি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পরোক্ষ কর তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সরকারি ঋণের উৎসগুলোর ধরন ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঋণের উৎসগুলোর তুলনামূলক সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সরকার কর্তৃক প্রদত্ত কোনো বিশেষ সেবা বা সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে নাগরিকগণ সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ প্রদান করে, তাকে ফি (Fee) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরোক্ষ কর করদাতার কাছে সহজে অনুভূত হয় না এবং এটি দ্রব্যের মূল্যের সাথে অন্তর্ভুক্ত থাকে বলে তা তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয় ও সহজে আদায়যোগ্য।

    প্রত্যক্ষ করের মতো এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ দিতে হয় না বলে পরোক্ষ করে করদাতার ওপর প্রত্যক্ষ কোনো আর্থিক মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় না। সাধারণ মানুষ পণ্য কেনার সময় অজ্ঞাতসারেই মূল্যের সাথে এই কর প্রদান করে। ফলে এই কর দিতে মানুষ সহজে আপত্তি বা অসন্তোষ প্রকাশ করে না, কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাও কম থাকে। এই কর প্রদানের সহজসাধ্যতার কারণেই কর কর্তৃপক্ষের কাছে এটি তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'R' দেশের সরকারের ঋণের উৎসগুলোকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা যায়: বৈদেশিক বা বাহ্যিক ঋণের উৎস এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের উৎস।

    ১. বৈদেশিক ঋণের উৎস: উদ্দীপকে 'R' দেশ পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ (আন্তর্জাতিক সংস্থা) এবং জাপান ও চীন (দ্বিপাক্ষিক বিদেশি সরকার) থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে। এগুলো হলো বৈদেশিক ঋণের উদাহরণ। কোনো দেশ যখন নিজ দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশের সরকার বা বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে শর্তসাপেক্ষে ঋণ সংগ্রহ করে, তখন তাকে বৈদেশিক বা বাহ্যিক ঋণ বলা হয়।

    ২. অভ্যন্তরীণ ঋণের উৎস: ICT-তে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য দেশটির সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে এবং বন্ড বিক্রির মাধ্যমে জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে। এটি হলো অভ্যন্তরীণ ঋণের উদাহরণ। দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরকার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ব্যবস্থা ও জনগণের কাছ থেকে গৃহীত ঋণকে অভ্যন্তরীণ ঋণ বলা হয়।

    অতএব, উদ্দীপকে সরকার বৃহৎ অবকাঠামোতে বৈদেশিক উৎস এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে অভ্যন্তরীণ উৎস ব্যবহার করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'R' দেশ বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক উৎস এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে। এ দুটি উৎসের তুলনামূলক সুবিধা ও অসুবিধা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বৈদেশিক ঋণের সুবিধা ও অসুবিধা:

    • সুবিধা: পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও বিশাল ব্যয়বহুল অবকাঠামোগত প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে বিপুল মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
    • অসুবিধা: এই ঋণের ফলে বৈদেশিক মুদ্রায় সুদসহ আসল পরিশোধের দায় সৃষ্টি হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কঠিন শর্ত মানতে হয়, যা দেশের সার্বভৌম নীতি নির্ধারণে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    ২. অভ্যন্তরীণ ঋণের সুবিধা ও অসুবিধা:

    • সুবিধা: অভ্যন্তরীণ ঋণ (যেমন- বাণিজ্যিক ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা বন্ড বিক্রয়) দেশের মুদ্রায় পরিশোধিত হয়, ফলে কোনো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়ে না। এই ঋণে কোনো রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক অনাকাঙ্ক্ষিত শর্ত থাকে না এবং সংকটকালে দ্রুত সংগ্রহ করা যায়।
    • অসুবিধা: সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক বা জনগণের কাছ থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যায় (Crowding-out effect)। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ (টাকা ছাপানো) করলে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে মারাত্মক মূল্যস্ফীতি তৈরি হতে পারে।

    উপসংহার:
    তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৈদেশিক ঋণের সাহায্যে মেগা প্রকল্প সহজে বাস্তবায়ন করা গেলেও তা পরনির্ভরশীলতা বাড়ায়। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ ঋণ তুলনামূলক নিরাপদ ও শর্তহীন হলেও অতিরিক্ত নির্ভরতা মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ মন্দার ঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং, উভয় উৎসের সুষম ব্যবহারই দেশের জন্য মঙ্গলজনক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন