কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
হাসু মিয়ার হাঁসের খামারে হঠাৎ করে কিছু সংখ্যক হাঁসের নাক-মুখ দিয়ে তরল পদার্থ বের হচ্ছিল এবং আলো দেখে ভয় পাচ্ছিল। এ দেখে তিনি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার শরণাপন্ন হন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাকে আদর্শ প্রতিপালন পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেন।
- ক)(1)
অধিক ডিম উৎপাদনকারী একটি ঘাঁসের জাতের নাম লেখো।
- খ)(2)
কবুতর পালন সুবিধাজনক কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
হাসু মিয়ার হাঁসের খামারে কী রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে? উত্ত রোগের কারণ ও লক্ষণগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী যাদু মিয়া তার খামারের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধিক ডিম উৎপাদনকারী একটি হাঁসের জাত হলো খাকি ক্যাম্পবেল (Khaki Campbell)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবুতর পালন অত্যন্ত সুবিধাজনক কারণ কবুতর পোষার জন্য খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না এবং বাড়ির আঙিনায় বা ঘরের ছাদে সহজেই এদের খাঁচা তৈরি করে রাখা যায়। এছাড়া কবুতর তাদের প্রয়োজনীয় খাবারের বড় একটি অংশ নিজেরাই বাইরে থেকে সংগ্রহ করে খায়, ফলে এদের খাদ্যের খরচ খুবই কম। কবুতরের রোগবালাই তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং এদের বৃদ্ধির হার দ্রুত হওয়ায় অল্প দিনেই পুষ্টিকর মাংস পাওয়া যায় ও বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাসু মিয়ার হাঁসের খামারে 'ডাক প্লেগ' (Duck Plague) রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।
রোগের কারণ:
ডাক প্লেগ একটি মারাত্মক সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। 'হার্পিস ভাইরাস' (Herpes virus) গোত্রের এক প্রকার ভাইরাসের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। সংক্রামিত হাঁসের সংস্পর্শে, দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।লক্ষণসমূহ:
১. আক্রান্ত হাঁসের নাক ও মুখ দিয়ে আঠালো বা লালা জাতীয় তরল পদার্থ বের হয়।
২. হাঁসের তীব্র আলোর প্রতি ভীতি সৃষ্টি হয় এবং এরা আলো এড়িয়ে ছায়াযুক্ত অন্ধকার স্থানে থাকতে পছন্দ করে।
৩. আক্রান্ত হাঁসের পাতলা ও সবুজাভ-সাদা রঙের মলত্যাগ হতে দেখা যায়।
৪. হাঁস দুর্বল হয়ে পড়ে, ক্ষুধা মন্দা দেখা দেয়, পালক এলোমেলো হয়ে যায় এবং মাথা নিচের দিকে ঝুলিয়ে রাখে।
৫. ডিম উৎপাদনকারী হাঁসের ডিম দেওয়া হঠাৎ মারাত্মকভাবে কমে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী হাসু মিয়ার খামারের হাঁসগুলোকে রক্ষা করতে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে আদর্শ প্রতিপালন পদ্ধতির আলোকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে:
১. আক্রান্ত হাঁস পৃথকীকরণ: খামারের যেসকল হাঁসের মধ্যে রোগের লক্ষণ দেখা গেছে, সেগুলোকে দ্রুত সুস্থ হাঁসগুলো থেকে আলাদা করে আইসোলেশনে রাখতে হবে।
২. মৃত হাঁস অপসারণ: খামারে কোনো হাঁস মারা গেলে সেটিকে উন্মুক্ত স্থানে না ফেলে মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে অথবা আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করতে হবে, যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
৩. টিকা প্রয়োগ ও চিকিৎসা: সুস্থ হাঁসগুলোকে দ্রুত ডাক প্লেগ প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ও ভিটামিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. খামার ও জলাশয় জীবাণুমুক্তকরণ: হাঁসের থাকার ঘর, খাদ্য ও পানির পাত্র এবং আশপাশের এলাকা নিয়মিত জীবাণুনাশক (যেমন: ব্লিচিং পাউডার বা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট) দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আক্রান্ত হাঁসকে কোনো উন্মুক্ত জলাশয় বা পুকুরে নামতে দেওয়া যাবে না।
৫. বায়োসিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তা জোরদার: খামারে বহিরাগত মানুষ বা পাখির প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং সর্বদা বিশুদ্ধ খাবার ও পরিষ্কার পানি সরবরাহ করতে হবে।
উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসু মিয়া তার খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে এবং রোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সক্ষম হবেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও