অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

দবির মিয়া একজন কৃষক। তিনি তার কৃষিখামারে সারা বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উৎপাদন করেন এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করেন। ফড়িয়াদের নিকট বিক্রয় করেন বলে তিনি তার উৎপাদিত পণ্যের আশানুরূপ দাম পান না। দবিরের মামা ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সবজি বিক্রির কথা বলতেই তিনি দবিরকে জানান ঢাকার সবজির বাজার দর গ্রামের তুলনায় অনেক বেশি।

  1. ক)

    কৃষি প্রযুক্তি কী?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের কৃষি কী প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দবির মিয়া কেন উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না?

    (3)
  4. ঘ)

    দবির মিয়ার মতো কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষিকাজে ব্যবহৃত আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচ ব্যবস্থাপনাসহ উৎপাদন বৃদ্ধির সকল উন্নত কৌশল ও পদ্ধতিকে কৃষি প্রযুক্তি বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের কৃষি মূলত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। এ দেশের কৃষিকাজ প্রধানত অনুকূল আবহাওয়া ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে হওয়া বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে ফসল ভালো হয়, কিন্তু অনাবৃষ্টি বা খরার কারণে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। আবার প্রতি বছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়। আধুনিক সেচ ব্যবস্থার বিস্তার ঘটলেও এখনো সিংহভাগ কৃষক প্রকৃতির মেজাজের ওপর নির্ভর করে চাষাবাদ করে থাকেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দবির মিয়া উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রধান কারণ হলো কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য, সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব এবং সরাসরি বৃহৎ বাজারের সাথে যোগাযোগের ঘাটতি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক দবির মিয়া স্থানীয় বাজারে ফড়িয়াদের কাছে শাকসবজি বিক্রি করেন। শাকসবজি পচনশীল পণ্য হওয়ায় এগুলো বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব হয় না। পরিবহন ও আধুনিক সংরক্ষণাগারের সুবিধার অভাবে প্রান্তিক কৃষকরা পণ্য দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন। মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়ারা কৃষকদের এই নিরুপায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে অত্যন্ত কম দামে পণ্য কিনে নেয় এবং পরবর্তীতে শহরের বাজারে অধিক মূল্যে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করে। ফলে উৎপাদক দবির মিয়া ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দবির মিয়ার মতো কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। নিচে এ বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হলো:

    ১. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস: সরকারি উদ্যোগে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং উন্মুক্ত বা সমবায়ভিত্তিক কৃষক বাজার স্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের প্রভাব কমে।
    ২. যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন: গ্রাম থেকে শহরের বাজারে সহজে ও স্বল্প খরচে শাকসবজি পরিবহনের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা (যেমন- শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মালবাহী ট্রেন বা ট্রাক) চালু করা।
    ৩. আধুনিক সংরক্ষণাগার ও হিমাগার স্থাপন: শাকসবজি পচনশীল পণ্য হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণ করা উচিত, যাতে কৃষকরা পণ্য মজুত রেখে পরে লাভজনক মূল্যে বিক্রি করতে পারেন।
    ৪. বাজার তথ্যের সহজলভ্যতা: ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন বাজারের তাৎক্ষণিক দরদাম জানার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।
    ৫. সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সমবায় বিপণন: কৃষকদের তাৎক্ষণিক আর্থিক সংকট কাটাতে সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রদান এবং কৃষকদের নিয়ে সমবায় বিপণন সমিতি গঠন করা।

    সুতরাং, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে দবির মিয়ার মতো প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত মূল্য পাবেন এবং কৃষিক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন