অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

অর্থনীতির শিক্ষক জনাব হাসান শ্রেণিকক্ষে সরকারের আয়ের বিভিন্ন উৎস নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি বললেন, সরকার আয়কর, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক, জরিমানা, ফি, অনুদান ইত্যাদি বিভিন্ন খাত থেকে আয় করে থাকেন। সরকার তার ব্যয় মিটানোর জন্য বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উৎস থেকে ঋণও গ্রহণ করে থাকেন।

  1. ক)

    সরকারি অর্থ ব্যবস্থা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ফি ও কর এক নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব হাসান যেসব কর রাজস্বের খাত উল্লেখ করেছেন তা চিহ্নিত কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লেখিত উৎসের মধ্যে কোনটি থেকে ঋণ গ্রহণ করা দেশের জন্য উত্তম বলে মনে করো? তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতির যে শাখায় রাষ্ট্রের বা সরকারের আয়, ব্যয়, ঋণ এবং এ সংক্রান্ত আর্থিক নীতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফি ও কর এক নয় কারণ এদের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কর হলো সরকারকে প্রদত্ত এক প্রকার বাধ্যতামূলক প্রদান, যার বিনিময়ে সরকার করদাতাকে প্রত্যক্ষ কোনো বিশেষ সুবিধা প্রদান করার নিশ্চয়তা দেয় না। পক্ষান্তরে, ফি হলো সরকার কর্তৃক প্রদত্ত কোনো বিশেষ সেবা বা সুযোগ গ্রহণের বিনিময়ে জনসাধারণ কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ (যেমন—লাইসেন্স ফি, কোর্ট ফি)। কর না দিলে শাস্তি পেতে হয়, কিন্তু কোনো বিশেষ সেবা গ্রহণ না করলে ফি প্রদানের প্রয়োজন হয় না। তাই ফি ও কর এক নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব হাসান সরকারের যে সমস্ত আয়ের উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে কর রাজস্ব এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব—উভয় খাতের উপাদান রয়েছে।

    যেসব খাত থেকে সরকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ করের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে, তাকে কর রাজস্ব বলে। উদ্দীপকে উল্লিখিত উৎসগুলোর মধ্যে কর রাজস্বের খাতগুলো হলো:
    ১. আয়কর (Income Tax): এটি একটি প্রত্যক্ষ কর, যা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর ধার্য করা হয়।
    ২. মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট (Value Added Tax - VAT): এটি একটি পরোক্ষ কর, যা পণ্য বা সেবার উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিভিন্ন স্তরে মূল্যের সংযোজনের ওপর আরোপিত হয়।
    ৩. আবগারি শুল্ক (Excise Duty): এটি দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত বিশেষ কিছু দ্রব্যের ওপর আরোপিত পরোক্ষ কর।

    (উল্লেখ্য, উদ্দীপকে উল্লেখিত জরিমানা, ফি ও অনুদান হলো কর-বহির্ভূত রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত)। সুতরাং, উদ্দীপকে জনাব হাসান কর্তৃক উল্লিখিত কর রাজস্বের খাতগুলো হলো—আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও আবগারি শুল্ক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সরকারের ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে দুটি উৎসের কথা বলা হয়েছে: অভ্যন্তরীণ উৎস (যেমন—জনগণ, বাণিজ্যিক ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক) এবং বাহ্যিক বা বৈদেশিক উৎস (যেমন—বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, বিদেশি সরকার)।

    দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক বিবেচনায় বাহ্যিক ঋণের চেয়ে ‘অভ্যন্তরীণ উৎস’ থেকে ঋণ গ্রহণ করা অধিকতর উত্তম বলে আমি মনে করি। নিম্নে এর স্বপক্ষে মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বৈদেশিক মুদ্রার চাপ হ্রাস ও ঝুঁকিহীনতা: অভ্যন্তরীণ ঋণ দেশের নিজস্ব মুদ্রায় (টাকা) গৃহীত ও পরিশোধিত হয়। ফলে মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনের ঝুঁকি থাকে না এবং ঋণ পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হয় না।

    ২. জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও শর্তহীনতা: বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিলে বিভিন্ন কঠোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শর্তারোপের সম্মুখীন হতে হয়, যা দেশের নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতাকে খর্ব করতে পারে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ ঋণে কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ বা সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্নকারী শর্ত থাকে না।

    ৩. অভ্যন্তরীণ মূলধনের সঞ্চালন: অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের সময় সুদসহ মূল অর্থ দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির মধ্যেই আবর্তিত হয়, ফলে দেশের সম্পদ দেশের বাইরে চলে যায় না।

    তবে এটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের ফলে যেন ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত (crowding-out effect) না হয় কিংবা মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি না হয়।

    অতএব, আন্তর্জাতিক শর্তের কড়াকড়ি ও বৈদেশিক রিজার্ভের ঝুঁকি বিবেচনা করলে বৈদেশিক উৎসের তুলনায় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করাই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অধিকতর নিরাপদ ও উত্তম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন