পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
হারুন স্যার 'ক' রাষ্ট্রের শোষণের ইতিহাসের আলোচনায় বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে এক যুগান্তকারী আইনের মাধ্যমে দুটি ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। ডোমেনিয়ন দুটিতে একজন করে গর্ভনর জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়, ভারত সচিব পদের অবসান হয়, ভারত সম্রাট পদবী বিলুপ্ত হয়।
- ক)(1)
দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
- খ)(2)
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ব্রিটিশ ভারতের কোন আইনের চিত্র প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আইনের তাৎপর্য মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে প্রদেশের অভ্যন্তরীণ শাসন পরিচালনার পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রাদেশিক সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো অনুচিত হস্তক্ষেপ থাকে না। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলোতে সীমিত পরিসরে এ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ব্রিটিশ ভারতের ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' (Indian Independence Act, 1947)-এর চিত্র প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ যুগান্তকারী আইনটি পাস হয়। উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো—দুটি পৃথক ডোমিনিয়ন (ভারত ও পাকিস্তান) প্রতিষ্ঠা, ডোমিনিয়নদ্বয়ে গভর্নর জেনারেল নিয়োগ, ভারত সচিব পদের বিলোপ এবং ব্রিটিশ রাজার 'ভারত সম্রাট' পদবী বিলুপ্তি—সরাসরি ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মূল ধারাগুলোকে নির্দেশ করে। এই আইনের মাধ্যমেই উপমহাদেশে প্রায় দুই শত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটেছিল। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনীতিতে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর তাৎপর্য মূল্যায়ন করা হলো:
১. ব্রিটিশ শাসনের অবসান: এই আইনের ফলে উপমহাদেশে প্রায় দুই শত বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতীয় ও পাকিস্তানিরা স্বশাসন ও স্বাধীনতার অধিকার লাভ করে।
২. দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম: আইনের বিধান অনুযায়ী ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত নামক দুটি পৃথক ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
৩. ক্ষমতা হস্তান্তর ও সংবিধান প্রণয়ন: উভয় দেশের জন্য পৃথক গণপরিষদ গঠন করা হয়, যাদের ওপর নিজ নিজ দেশের সংবিধান রচনার পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।
৪. দেশীয় রাজ্যগুলোর স্বাধীনতা: ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের অবসান ঘটিয়ে দেশীয় রাজ্যগুলোকে ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার অথবা স্বাধীন থাকার স্বাধীনতা প্রদান করা হয়।
৫. দ্বি-জাতি তত্ত্বের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন: হিন্দু ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারত বিভক্তির মাধ্যমে জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের চূড়ান্ত রাজনৈতিক বাস্তবায়ন ঘটে।যদিও এ আইনের ফলে বাংলা ও পাঞ্জাবের ব্যাপক রক্তক্ষয়ী দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, তবুও এটি ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্তির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ও সবচেয়ে প্রভাবশালী আইন হিসেবে বিবেচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও