অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

রহিম মিয়া চরাঞ্চলের একজন কৃষক। পূর্বে তার জমি থেকে প্রাপ্ত ফসল নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করতে পারত। কিন্তু বর্তমানে অপরিকল্পিত শিল্প কারখানা স্থাপন ও অন্যান্য কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সি. এফ. সি ও মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, খরা, জলোচ্ছ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে রহিম মিয়ার ফসলের উৎপাদন পূর্বের তুলনায় অনেক কম হচ্ছে।

  1. ক)

    কৃষি ঋণ কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃষকেরা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ কম পায় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রহিম মিয়ার সমস্যা সমাধানে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে তুমি মনে করো?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষিকাজ পরিচালনার উদ্দেশ্যে বীজ, সার, কীটনাশক ও কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় কিংবা কৃষির আনুষঙ্গিক উন্নয়নের জন্য কৃষকরা যে ঋণ গ্রহণ করে, তাকে কৃষি ঋণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষকেরা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ কম পাওয়ার মূল কারণ হলো পর্যাপ্ত জামানতের অভাব এবং ঋণ প্রাপ্তির জটিল প্রক্রিয়া। প্রাতিষ্ঠানিক উৎস (যেমন- ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান) থেকে ঋণ পেতে হলে জমির দলিল বা মূল্যবান সম্পদের জামানত এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র দাখিল করতে হয়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ কৃষক দরিদ্র, ভূমিহীন অথবা নিরক্ষর হওয়ায় তারা এসব শর্ত ও জটিল আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করতে পারে না, ফলে তারা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ থেকে বঞ্চিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মূল কারণগুলো হলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন, যা মূলত মানুষের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ফসল।

    উদ্দীপক অনুসারে, অপরিকল্পিতভাবে শিল্প কারখানা স্থাপনের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (CFC) এবং মিথেন (CH₄)-এর মতো ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এসব গ্যাস বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যাকে গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া বা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলা হয়।

    এই উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। ফলে সময়মতো বৃষ্টিপাত না হয়ে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিচ্ছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূলত গ্রিনহাউস গ্যাসের অতিরিক্ত নিঃসরণই উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রধান কারণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রহিম মিয়ার ফসল উৎপাদন হ্রাসের সমস্যা সমাধানে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

    নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:
    ১. পরিবেশ-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন ও চাষ: রহিম মিয়ার এলাকাটি চরাঞ্চল এবং সেখানে খরা ও জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ রয়েছে। তাই বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ফসল চাষ করতে হবে।
    ২. আধুনিক সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা: খরার সময় ফসল রক্ষার জন্য দক্ষ সেচ ব্যবস্থা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
    ৩. টেকসই কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ: রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সার এবং সমন্বিত বালাইনাশক ব্যবস্থাপনা (IPM) ব্যবহার করতে হবে।
    ৪. চরাঞ্চলের বাঁধ নির্মাণ ও বনায়ন: জলোচ্ছ্বাসের পানি যেন ফসল নষ্ট না করতে পারে, সেজন্য টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং উপকূলীয় এলাকায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে।
    ৫. প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান: রহিম মিয়া যেন দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে সেজন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।

    উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে রহিম মিয়ার কৃষিজ উৎপাদন হ্রাস সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব বলে আমি মনে করি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন