পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' অঞ্চলটি দীর্ঘদিন বিদেশি শক্তি দ্বারা শাসিত হয়ে আসছে। এ অঞ্চলের প্রধান দুটি সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে বিদেশি শক্তিকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে আসছিল। বিদেশী শক্তি এই ঐক্যবদ্ধ চেতনাকে নষ্ট করার জন্য 'ক' অঞ্চলটিকে ভৌগলিকভাবে এমনভাবে ভাগ করে যাতে সম্প্রদায় দুটি পরস্পরের সাথে স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উদ্ভব ঘটে এবং দলটি পরবর্তীতে একটি স্বাধীন ধর্ম রাষ্ট্র গঠন ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
কোন বিদ্রোহ ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায়?
- খ)(2)
১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অসাম্প্রদায়িক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলের ভৌগোলিক বিভাজন তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন ঘটনাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রাজনৈতিক দলের অনুরূপ পাঠ্য বইয়ের যে দলটি ভূমিকা পালন করেছিল তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস একটি সর্বভারতীয় ও অসাম্প্রদায়িক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও সময়ের সাথে সাথে এর নেতৃত্বে ও কার্যক্রমে হিন্দু আধিপত্য প্রবল হয়ে ওঠে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ করার আন্দোলনে কংগ্রেসের ভূমিকা এবং উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতাদের প্রাধান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। কংগ্রেস মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যর্থ হওয়ায় এটি কার্যকরভাবে অসাম্প্রদায়িক ভূমিকা বজায় রাখতে পারেনি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলের ভৌগোলিক বিভাজন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভারতের ১৯০৫ সালের 'বঙ্গভঙ্গ' ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
ব্রিটিশ শাসকরা ভারতে তাদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে 'বিভাজন ও শাসন' (Divide and Rule) নীতি গ্রহণ করে। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও আসাম নিয়ে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ওড়িশা নিয়ে আরেকটি প্রদেশ গঠন করেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলা হলেও মূল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করে ব্রিটিশবিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে দুর্বল করা, যা উদ্দীপকে বিদেশি শক্তির ভৌগোলিক বিভাজনের মাধ্যমে স্বার্থের সংঘাত তৈরির ঘটনার অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রাজনৈতিক দলটির অনুরূপ পাঠ্যবইয়ের দলটি হলো ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ'। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে দলটির গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মুসলমানদের রাজনৈতিক মঞ্চ গঠন: বঙ্গভঙ্গের পর মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা এবং কংগ্রেসে হিন্দু প্রাধান্য মোকাবেলার জন্য ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে ভারতীয় মুসলিমদের একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. পৃথক নির্বাচন অর্জন: মুসলিম লীগের সক্রিয় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা মেনে নেয়।
৩. স্বাধিকার ও পাকিস্তান আন্দোলন: শুরুতে ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত থাকলেও কালক্রমে কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ প্রধান মুসলিম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে দলটি মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবি তোলে।
৪. পাকিস্তান সৃষ্টি: ১৯৪৭ সালে এই মুসলিম লীগের আন্দোলনের ফলেই ভারত বিভক্ত হয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাকিস্তান নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।সুতরাং, উপমহাদেশের মুসলমানদের নিজস্ব রাজনৈতিক চেতনা ও ভৌগোলিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মুসলিম লীগের গুরুত্ব অপরিসীম ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও