সাধারণ জ্ঞান • Literature, arts and culture • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন

আব্দাল মিয়া একজন কুমোর। সাত পুরুষ ধরে তার পরিবারের সবাই এই পেশায় জড়িত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মাটির তৈজসপত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় তার আর্থিক অবস্থা আর আগের মতো নেই। তবে সে ভেঙে পড়েনি। পরিবারের সকলের সহযোগিতা ও কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়ে সে অনেকটা আত্মনির্ভরশীল। পাশাপাশি সে সাত পুরুষের পেশাও ছাড়েনি। সময় পেলেই সে মাটির শৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করে বিক্রি করে।

  1. ক)

    "ধান্য তার বসুন্ধরা যার।"- উক্তিটি কে করেছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    'ধান ভানিতে শিবের গান'- কথাটি কেন বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'সময়ের পরিবর্তন' কথাটির সাথে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আব্দাল মিয়ার আত্মনির্ভরশীল হওয়ার কারণ হিসেবে 'চায়ার দুক্ষু' প্রবন্ধে যে বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ধান্য তার বসুন্ধরা যার।"— উক্তিটি করেছিলেন সম্রাট বাবর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাসঙ্গিক আলোচনার বাইরে অপ্রয়োজনীয় কথা তোলা অর্থে 'ধান ভানিতে শিবের গান' কথাটি বলা হয়েছে।

    'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তৎকালীন কৃষক সমাজের চরম দারিদ্র্য, অনাহার ও বস্ত্রহীনতার করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। এ দুরবস্থার মূল কারণ ও প্রতিকারের আলোচনা না করে সাধারণ কৃষকের কাছে অতিরিক্ত বিলাসবহুল বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করাকে তিনি 'ধান ভানিতে শিবের গান' প্রবাদের সাথে তুলনা করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'সময়ের পরিবর্তন' কথাটির সাথে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে কালের বিবর্তনে গ্রামীণ বাংলার স্বনির্ভরতা হারিয়ে দারিদ্র্যের কবলে পতিত হওয়ার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।

    'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে লেখিকা দেখিয়েছেন অতীতে ভারতবাসী বা বাংলার কৃষকরা সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী ছিল। তাদের ঘরে ধানের গোলা, পুকুরে মাছ এবং নারীদের কাটা সুতায় তৈরি কাপড়ে নিজেদের প্রয়োজন মিটত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিদেশি বিলাসবহুল ও সস্তা পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে দেশের তাঁতশিল্প, রেশমশিল্প প্রভৃতি ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে বাংলার কৃষিজীবী মানুষ ধীরে ধীরে নিঃস্ব ও দরিদ্র হয়ে পড়ে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আধুনিক যুগে মাটির তৈজসপত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় কুমোর আব্দাল মিয়ার পরিবারের আর্থিক অবস্থা আগের মতো নেই। অতীতে যেমন তাদের বংশপরম্পরায় তৈরি মাটির জিনিসপত্রের ব্যাপক কদর ছিল, কালের পরিবর্তনে তা আজ হুমকির মুখে। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে কালের চক্রে হস্তশিল্পের কদর হ্রাস পেয়ে কৃষকদের অর্থনৈতিক দুর্দশায় নিপতিত হওয়ার দিকটির সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আব্দাল মিয়ার আত্মনির্ভরশীল হওয়ার কারণ হিসেবে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে যে কর্মমুখী ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে লেখিকা রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে কেবল তথাকথিত ডিগ্রিধারী বা কেরানি তৈরির শিক্ষা কৃষক ও সাধারণ সমাজের দৈন্যদশা দূর করতে পারবে না। তিনি চাষাদের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দেন। যেমন— আধুনিক কৃষি পদ্ধতি শেখা, দেশীয় কুটির শিল্পের পুনরুজ্জীবন, নারীদের সুতা কাটা বা তাঁতবোনা শেখানো ইত্যাদি ব্যবহারিক কর্মদক্ষতার বিকাশই কৃষকদের আবার আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, আব্দাল মিয়া তার পৈতৃক মাটির তৈজসপত্র তৈরির ব্যবসায়ে মন্দা দেখা দিলে হতাশ হয়ে ভেঙে পড়েনি। সে সময়োপযোগী বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করে কর্মমুখী শিক্ষা লাভ করে এবং অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়ে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করে। একই সঙ্গে সে শৌখিন সামগ্রী তৈরির মাধ্যমে তার ঐতিহ্যবাহী পেশাকেও বাঁচিয়ে রাখে।

    সুতরাং, 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে দরিদ্র সমাজকে আত্মনির্ভর করার যে মূল উপায় হিসেবে কর্মমুখী ও প্রায়োগিক শিক্ষার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, আব্দাল মিয়ার সাফল্যের মধ্য দিয়ে ঠিক সেই বিষয়টিই বাস্তব রূপ লাভ করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন