‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

২০১৫ সালের জুলাই মাসে A দেশের মোট ১০,০০০ কোটি টাকার মূলধন ছিল । ২০১৬ সালের জুন মাসে দেশের মোট মূলধনের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ১৪,০০০ কোটিতে দাঁড়ালো। উক্ত সময়ে মূলধনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১,৫০০ কোটি টাকা। এদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথে প্রধান বাধা হলো মূলধনের সমস্যা। এক্ষেত্রে সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মূলধন গঠনের পথে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ যেমন— স্বল্প আয়, জানমালের নিরাপত্তাহীনতা, অপর্যাপ্ত ব্যাংকিং কাঠামো, অশিক্ষা ইত্যাদি সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

  1. ক)

    মূলধন কী?

    (1)
  2. খ)

    অনুন্নত দেশে মূলধন গঠনের হার কম কেন?

    (2)
  3. গ)

    মূলধন গঠন ও নিট মূলধন বৃদ্ধির পরিমাণ নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে সরকার বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিরাজমান সমস্যাসমূহ সমাধানে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের শ্রম দ্বারা উৎপাদিত উৎপাদনের যে অংশ সরাসরি ভোগ না করে পুনরায় অধিকতর উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়, তাকে মূলধন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অনুন্নত দেশে মূলধন গঠনের হার কম হওয়ার মূল কারণ হলো জনগণের স্বল্প আয় এবং এর ফলে সৃষ্ট 'দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র'। অনুন্নত দেশে মাথাপিছু আয় কম হওয়ায় জনগণের সঞ্চয় করার ক্ষমতা অত্যন্ত কম থাকে। স্বল্প সঞ্চয়ের কারণে বিনিয়োগ কম হয় এবং ফলস্বরূপ মূলধন গঠন ব্যাহত হয়। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভাব, নিরাপত্তার অভাব ও সচেতনতার অভাবে সঞ্চিত ক্ষুদ্র অর্থও ফলপ্রসূ বিনিয়োগে রূপ নিতে পারে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী:
    প্রাথমিক মূলধন (২০১৫ সালের জুলাই) = ১০,০০০ কোটি টাকা
    পরবর্তী মূলধন (২০১৬ সালের জুন) = ১৪,০০০ কোটি টাকা
    মূলধনের অবচয় বা ক্ষয়জনিত ক্ষতি (Depreciation) = ১,৫০০ কোটি টাকা

    (১) মোট মূলধন গঠন (Gross Capital Formation):
    নির্দিষ্ট সময়ে মূলধনের মোট বৃদ্ধির পরিমাণই হলো মোট মূলধন গঠন।
    মোট মূলধন গঠন = ২০১৬ সালের মূলধন - ২০১৫ সালের মূলধন
    = ১৪,০০০ কোটি টাকা - ১০,০০০ কোটি টাকা
    = ৪,০০০ কোটি টাকা।

    (২) নিট মূলধন বৃদ্ধি বা নিট মূলধন গঠন (Net Capital Formation):
    নিট মূলধন বৃদ্ধি = মোট মূলধন গঠন - ক্ষয়জনিত ব্যয় (অবচয়)
    = ৪,০০০ কোটি টাকা - ১,৫০০ কোটি টাকা
    = ২,৫০০ কোটি টাকা।

    অতএব, উদ্দীপকে মূলধন গঠনের পরিমাণ ৪,০০০ কোটি টাকা এবং নিট মূলধন বৃদ্ধির পরিমাণ ২,৫০০ কোটি টাকা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে A দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পথে প্রধান অন্তরায় হলো মূলধন গঠনের দুর্বলতা, স্বল্প আয়, জানমালের নিরাপত্তাহীনতা, দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং অশিক্ষা। এ সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে পারে:

    ১. মাথাপিছু আয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণের উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়াতে হবে।
    ২. ব্যাংকিং ও আর্থিক কাঠামোর সম্প্রসারণ: গ্রামাঞ্চলসহ দেশের সর্বত্র আধুনিক ও সহজলভ্য ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে, যাতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় একত্রিত হয়ে মূলধনে রূপান্তরিত হতে পারে। পাশাপাশি আকর্ষণীয় সুদের হার নিশ্চিত করতে হবে।
    ৩. আইন-শৃঙ্খলা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: বিনিয়োগকারীদের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাশীল করবে।
    ৪. শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি: জনগণকে সঞ্চয়ী মানসিকতাসম্পন্ন করতে কার্যকর আর্থিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে।
    ৫. অবকাঠামো উন্নয়ন ও নীতি সহায়তা: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব কর সুবিধা ও ঋণ প্রাপ্তি সহজ করতে হবে।

    উক্ত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশে মূলধন গঠন বৃদ্ধি পাবে এবং একটি সুষ্ঠু বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন