জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    টায়ালিন কি?

    (1)
  2. খ)

    মানুষের দন্ত সংকেত লেখ?

    (2)
  3. গ)

    শর্করা বিপাকে উদ্দীপকের 'A' অংশের ভূমিকা বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    শর্করা ও আমিষ জাতীয় খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাকে উদ্দীপকের 'B' অংশের ভূমিকাই মুখ্য- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    টায়ালিন হলো মানুষের লালারসে উপস্থিত একটি শর্করা পরিপাককারী এনজাইম (স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ), যা জটিল শর্করাকে মল্টোজে পরিণত করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একজন পূর্ণাঙ্গ সুস্থ মানুষের চোয়ালের প্রতি অর্ধাংশে মোট ৮টি এবং দুই চোয়াল মিলে মোট ৩২টি দাঁত থাকে।

    মানুষের পূর্ণাঙ্গ দন্ত সংকেতটি নিম্নরূপ:
    I22 C11 P22 M33=1616=32I\frac{2}{2}\ C\frac{1}{1}\ P\frac{2}{2}\ M\frac{3}{3} = \frac{16}{16} = 32

    এখানে,
    I = কর্তন দাঁত (Incisor)
    C = ছেদন দাঁত (Canine)
    P = অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar)
    M = পেষণ দাঁত (Molar)

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত 'A' অংশটি হলো যকৃত (Liver)। শর্করা বিপাকে (Carbohydrate metabolism) যকৃতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তা বর্ণনা করা হলো:

    ১. গ্লাইকোজেনেসিস (Glycogenesis): রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে যকৃত কোষ অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে সঞ্চিত রাখে।

    ২. গ্লাইকোজেনোলাইসিস (Glycogenolysis): রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে গ্লুকাগন হরমোনের প্রভাবে যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভেঙে পুনরায় গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তে সরবরাহ নিশ্চিত করে।

    ৩. গ্লুকোনিওজেনেসিস (Gluconeogenesis): দীর্ঘকালীন অনাহারে বা কার্বোহাইড্রেটের ঘাটতি হলে যকৃতে অশর্করা উৎস (যেমন: অ্যামিনো অ্যাসিড, গ্লিসারল, ল্যাকটিক অ্যাসিড) থেকে নতুন গ্লুকোজ তৈরি হয়।

    ৪. ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাকটোজ রূপান্তর: খাদ্যের সাথে গৃহীত অন্যান্য মনোস্যাকারাইড যেমন ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাকটোজকে যকৃতে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করা হয়।

    সুতরাং, রক্তের গ্লুকোজের সাম্যাবস্থা বা হোমিওস্ট্যাসিস বজায় রেখে শর্করা বিপাকে যকৃত মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'B' অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনাম (ক্ষুদ্রান্ত্র)। শর্করা ও আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক মুখবিবর ও পাকস্থলীতে আংশিক হলেও এর চূড়ান্ত পরিপাক সম্পন্ন হয় মূলত ক্ষুদ্রান্ত্র তথা ডিওডেনামে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. শর্করা খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক:
    মুখবিবরে টায়ালিন দ্বারা শর্করা আংশিক বিশ্লেষিত হয় এবং পাকস্থলীতে অ্যাসিডিক পরিবেশের কারণে শর্করা পরিপাককারী কোনো এনজাইম কাজ করতে পারে না। কিন্তু ক্ষুদ্রান্ত্রে অগ্ন্যাশয় রস ও আন্ত্রিক রসের ক্ষারীয় মাধ্যমে বিভিন্ন এনজাইম জটিল শর্করাকে সরল উপাদানে পরিণত করে:

    • অ্যামাইলেজ স্টার্চ ও গ্লাইকোজেনকে মল্টোজে পরিণত করে।
    • মল্টেজ মল্টোজকে ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তর করে।
    • সুক্রেজ সুক্রোজকে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে এবং ল্যাক্টেজ ল্যাকটোজকে গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজে পরিণত করে।
      ফলে সমস্ত শর্করা দেহে শোষণোপযোগী একক 'গ্লুকোজ' বা সরল মনোস্যাকারাইডে রূপান্তরিত হয়।

    ২. আমিষ খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক:
    পাকস্থলীতে পেপসিন আমিষকে আংশিক ভেঙে পেপটোনে পরিণত করে। পরবর্তীতে ক্ষুদ্রান্ত্রের লুমেন ও গাত্রে নিম্নলিখিত প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত পরিপাক সম্পন্ন হয়:

    • অগ্ন্যাশয় রসের ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং কার্বোক্সিপেপটাইডেজ পেপটাইডগুলোকে ক্ষুদ্র পেপটাইডে পরিণত করে।
    • আন্ত্রিক রসের অ্যামিনোপেপটাইডেজ এবং ডাইপেপটাইডেজ পেপটাইডসমূহকে ভেঙে প্রোটিনের চূড়ান্ত শোষণযোগ্য একক 'অ্যামিনো অ্যাসিড'-এ পরিণত করে।

    যেহেতু ক্ষুদ্রান্ত্র বা 'B' অংশেই শর্করা ও আমিষের সকল জটিল গঠন ভেঙে সরলতম একক (গ্লুকোজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড) তৈরি হয় এবং এখান থেকেই তা শোষিত হয়, তাই বলা যায় শর্করা ও আমিষ জাতীয় খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাকে 'B' অংশের ভূমিকাই মুখ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন