মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প - ১ঃ ড. এনাম একজন প্রথিতযশা বিজ্ঞানী। তিনি তার গবেষণাগারে পরিপূর্ণ বস্তুনিষ্ঠার নীতি অনুসরণ করেন।দৃশ্যকল্প-২ঃ
- ক)(1)
কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান কী?
- খ)(2)
মনোবিজ্ঞানকে জৈব-সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ ড. এনামের গবেষণাগারে অনুসৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আরো দুটি নীতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ C ও D চিহ্নিত স্থান দুটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনোবিজ্ঞানের যে ফলিত শাখায় ব্যক্তির মৃদু বা লঘু মানসিক সমস্যা, শিক্ষাগত ও পেশাগত জটিলতা এবং আবেগীয় অভিযোজন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়, তাকে কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনোবিজ্ঞান মানুষ ও প্রাণীর আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়া নিয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালায়। আচরণের মূলে রয়েছে স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো জৈবিক বা শারীরিক উপাদান। অন্যদিকে, মানুষ একটি সামাজিক জীব হওয়ায় তার আচরণ পরিবেশ ও সমাজ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। আচরণ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন জৈবিক উপাদানের প্রভাব বিবেচনা করতে হয়, তেমনি সামাজিক পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকেও বিবেচনায় নিতে হয়। আচরণে জৈবিক ভিত্তি এবং সামাজিক ভিত্তির যুগপৎ প্রভাবের কারণেই মনোবিজ্ঞানকে একটি 'জৈব-সামাজিক বিজ্ঞান' (Bio-social Science) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ বিজ্ঞানী ড. এনাম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির একটি অন্যতম নীতি 'বস্তুনিষ্ঠতা' (Objectivity) অনুসরণ করেন। বিজ্ঞানের অন্যান্য পদ্ধতির মতো মনোবিজ্ঞানে অনুসৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. যথার্থতা বা সুনিয়ন্ত্রণ (Control/Precision): বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পরিস্থিতিকে সুনিয়ন্ত্রিত রাখা। পরীক্ষণ পরিচালনাকালে গবেষক স্বাধীন চলকের প্রভাব নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সকল বাহ্যিক চলক (Extraneous variables) কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। সঠিক ও সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ছাড়া ফলাফলের কার্যকারণ সম্পর্ক নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।
২. পুনরাবৃত্তিকরণ বা যাঁচাইযোগ্যতা (Replicability/Verifiability): বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির যেকোনো তথ্য বা ফলাফল অপর গবেষক কর্তৃক একই শর্তাধীনে পুনরাবৃত্তি করে যাচাই করার সুযোগ থাকতে হয়। যদি একটি পরীক্ষার ফলাফল অন্য গবেষক একই পদ্ধতিতে পুনরায় পরীক্ষা করে সত্য প্রমাণ করতে না পারেন, তবে তা বিজ্ঞানসম্মত বলে গণ্য হয় না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এর ছকে কোনো বিষয়কে ‘বিজ্ঞান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যেসব অপরিহার্য শর্ত বা বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন হয়, তা তুলে ধরা হয়েছে। ছকটিতে বিজ্ঞান হিসেবে মনোবিজ্ঞানের চারটি মূল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দুটি (বিষয়বস্তু ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি) উল্লেখ রয়েছে এবং বাকি দুটি স্থান 'C' ও 'D' দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞান হিসেবে মনোবিজ্ঞানের মৌলিক শর্তাবলির আলোকে:
১. C চিহ্নিত স্থানটি হলো 'পরীক্ষাগার' (Laboratory)।
২. D চিহ্নিত স্থানটি হলো 'প্রয়োগযোগ্যতা' বা 'ব্যবহারিক উপযোগিতা' (Application/Utility)।বিশ্লেষণ:
-
C (পরীক্ষাগার): যেকোনো বিজ্ঞানকে তার তত্ত্ব ও অনুকল্প প্রমাণের জন্য সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ অর্থাৎ পরীক্ষাগারের ওপর নির্ভর করতে হয়। ১৮৭৯ সালে উইলহেম ভুন্ট জার্মানির লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম মনোবিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপনের মাধ্যমে মনোবিজ্ঞানকে স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। মনোবিজ্ঞানে প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত চলকের মাধ্যমে আচরণ পরিমাপ করতে পরীক্ষাগার অপরিহার্য।
-
D (প্রয়োগযোগ্যতা): বিজ্ঞানের অর্জিত জ্ঞানের মূল সার্থকতা নিহিত রয়েছে বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগের মধ্যে। মনোবিজ্ঞানের নীতি ও গবেষণা শিক্ষা, শিল্প, চিকিৎসা, অপরাধ দমন, শিশু বিকাশ এবং সামরিক ক্ষেত্রসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের কল্যাণ ও সমস্যা সমাধানে প্রত্যক্ষভাবে প্রযুক্ত হয়।
অতএব, পরীক্ষাগার এবং এর ব্যবহারিক প্রয়োগযোগ্যতার উপস্থিতিই মনোবিজ্ঞানকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে, যা ছকে C ও D দ্বারা সূচিত হয়েছে।
-
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও