সাহিত্য পাঠ • আত্মচরিত • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

আশফাক সাহেব তাঁর সমগ্র জীবন ধরেই সমাজসচেতনতামূলক ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক কাজ করে চলেছেন। তাঁর আন্তরিক চেষ্টা ও নিরলস পরিশ্রমের কারণে সমাজে বহু অসংগতি দূর হয়েছে এবং বৃক্ষরোপণের প্রতিও মানুষের মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন অনেক প্রতিষ্ঠিত মানুষ আছেন, যারা ছাত্র অবস্থায় তাঁর সাহায্য নিয়ে বড়ো হয়েছেন। এর পরেও সমাজে এক শ্রেণির মানুষ আছে যারা তাঁর সমালোচনা করে। এসব শুনে আশফাক সাহেব বলেন, 'সমালোচনাকে ভয় করলে মহৎ কাজ সাধন করা যায় না।

  1. ক)

    'আমার পথ' প্রবন্ধ অনুযায়ী আত্মাকে চিনলেই কী আসে?

    (1)
  2. খ)

    প্রাবন্ধিক নিজেকে 'অভিশাপ রথের সারথি' বলে অভিহিত করেছেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আশফাক সাহেব 'আমার পথ' প্রবন্ধের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'সমালোচনাকে যারা উপেক্ষা করতে পারে, তারাই সামনে এগিয়ে যেতে পারে।'উদ্দীপক ও 'আমার পথ' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আমার পথ' প্রবন্ধ অনুযায়ী আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার, মিথ্যা ও ভণ্ডামিকে ধ্বংস করে সত্যের জয়গান গাওয়ার জন্য নিজেকে 'অভিশাপ রথের সারথি' বলে অভিহিত করেছেন।

    লেখক সত্যের পূজারি হয়ে সমাজের অন্যায়, অনাচার ও গোলামির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তিনি চান ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করতে। যুগাবতার বা পরিবর্তনকামী বিপ্লবীরা সমাজের পুরোনো ঘুণে ধরা রীতি ভেঙে নতুন পথ রচনা করেন বলে সমাজপতিদের কাছে তা অভিশাপের মতো মনে হয়। তাই তিনি নিজেকে সেই বিপ্লবের রথচালক বা 'অভিশাপ রথের সারথি' হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আশফাক সাহেব 'আমার পথ' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলামের বলিষ্ঠ আত্মপ্রত্যয়ী ব্যক্তিসত্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সত্যের ওপর অটল থেকেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, সমাজে সত্যের পথ ও আত্মমর্যাদার পথ চলা সহজ নয়; চারপাশের মানুষের অজ্ঞতা, ভণ্ডামি ও মিথ্যা অহমিকা পথরোধ করতে চায়। কিন্তু যিনি সত্যের সাধক ও আত্মবিশ্বাসী, তিনি কোনো মিথ্যা তোয়াজ বা বিরোধিতাকে পরোয়া করেন না এবং নির্ভীকভাবে নিজ আদর্শে অবিচল থাকেন।

    উদ্দীপকের আশফাক সাহেবও সমাজের নানাবিধ অসংগতি দূর করতে এবং পরিবেশ রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বহু মানুষ তাঁর সাহায্যে উপকৃত হলেও সমাজে কিছু মানুষ তাঁর অযৌক্তিক সমালোচনা করে। কিন্তু আশফাক সাহেব সেই সমালোচনাকে ভয় না পেয়ে নিজ মহৎ কর্তব্যে অবিচল থাকেন। তাঁর এই আত্মপ্রত্যয়, পরোপকার ও সত্যের প্রতি নিষ্ঠা 'আমার পথ' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের স্পষ্টবাদিতা ও সত্যনিষ্ঠ চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সমালোচনাকে যারা উপেক্ষা করতে পারে, তারাই সামনে এগিয়ে যেতে পারে'—উদ্দীপক ও 'আমার পথ' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    'আমার পথ' প্রবন্ধে লেখক স্পষ্ট করে বলেছেন যে, সত্যের পথে চলতে গেলে মানুষের নানা ভুল ধারণা ও বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়। প্রাবন্ধিক সমাজের অন্ধ অনুকরণ ও পরনির্ভরশীলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় নিজের সত্যকে প্রকাশ করেছেন। তিনি কাউকে খুশি করতে গিয়ে মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেননি এবং লোকের ভুল ব্যাখ্যা বা নিন্দাকে পাত্তা না দিয়ে সত্যের আলোকবর্তিকা নিয়ে এগিয়ে গেছেন। লেখক বিশ্বাস করেন, অন্তরের সত্যকে জানলে ও আত্মবিশ্বাসী হলে বাইরের কোনো সমালোচনা পথকে রুদ্ধ করতে পারে না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, আশফাক সাহেব আজীবন নিঃস্বার্থভাবে সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছেন এবং বহু মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তা সত্ত্বেও এক শ্রেণির সংকীর্ণমনা মানুষ তাঁর কাজের সমালোচনা করে। কিন্তু তিনি সেই নিন্দাকে উপেক্ষা করে নিজ লক্ষ্যে দৃঢ় থাকেন এবং উপলব্ধি করেন যে, সমালোচনাকে ভয় পেলে মহৎ কাজ সম্ভব নয়।

    সুতরাং, উদ্দীপক ও 'আমার পথ' প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই সত্য, কল্যাণ ও মহৎ কর্মসাধনে সমালোচনার ভয়কে জয় করার দিকটি প্রতিভাত হয়েছে। নিন্দুকের সমালোচনায় কান না দিয়ে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে এগিয়ে চলাই সাফল্যের মূলমন্ত্র, তাই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন