অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

ইদানিং বাজারে জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। যার ফলশ্রুতিতে অর্থনীতিতে নানা ধরনের প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই যা নেতিবাচক। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার আর্থিক ও রাজস্ব নীতিসহ বিভিন্ন ধরনের নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করছে।

  1. ক)

    ব্যাংক হার কী?

    (1)
  2. খ)

    মজুদদার ও চোরাচালান ক্ষতিকর কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে অর্থনীতির যে বিষয়টিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের কোনো একক পদ্ধতি যথেষ্ট কি? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে ঋণ প্রদান করে অথবা প্রথম শ্রেণির বিল বা সিকিউরিটিজ বাট্টাকরণ করে, তাকে ব্যাংক হার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মজুদদাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় বাজারে পণ্য সরবরাহ কমিয়ে দেয়, ফলে পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। অপরদিকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশের পণ্য অবৈধভাবে বাইরে চলে যায় এবং অননুমোদিত পণ্যের লেনদেনে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়। ফলে বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়ে সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায় এবং দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে অর্থনীতির অতি পরিচিত সমস্যা ‘মুদ্রাস্ফীতি’ (Inflation)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    অর্থনীতিতে যখন সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক জোগানের ভারসাম্যহীনতার কারণে দ্রব্যসামগ্রীর দাম ক্রমাগত বা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, তখন তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে—ইদানিং বাজারে জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত বাড়ছে এবং এর ফলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের এই একটানা বৃদ্ধিই নির্দেশ করে যে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করছে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায় এবং সমাজে আয় বৈষম্য প্রকট হয়ে ওঠে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো একক পদ্ধতি যথেষ্ট নয়; বরং আর্থিক নীতি, রাজস্ব নীতি ও প্রত্যক্ষ ব্যবস্থার সমন্বিত প্রয়োগ প্রয়োজন। উদ্দীপকের আলোকেও এ অভিমতটি যথার্থ।

    মুদ্রাস্ফীতি মূলত দুটি কারণে সৃষ্টি হতে পারে—চাহিদা বৃদ্ধিজনিত এবং ব্যয় বৃদ্ধিজনিত। একক কোনো নীতি দিয়ে উভয় উৎসকে প্রশমিত করা যায় না। যেমন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতির মাধ্যমে (ব্যাংক হার বৃদ্ধি, খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রয়, জমার অনুপাত বৃদ্ধি) বাজারে অর্থের জোগান ও ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে চাহিদা কমানো সম্ভব হলেও উৎপাদন খরচ বা সরবরাহ সংকট এতে দূর হয় না।

    অপরদিকে সরকারের রাজস্ব নীতির মাধ্যমে (কর হার বৃদ্ধি, অনুৎপাদনশীল সরকারি ব্যয় হ্রাস) জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় কমিয়ে সামগ্রিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু সরবরাহজনিত মুদ্রাস্ফীতি বা অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি রোধে উৎপাদন বৃদ্ধি, মজুদদারি ও চোরাচালান প্রতিরোধ, সরাসরি মূল্য নির্ধারণ এবং রেশনিংয়ের মতো প্রত্যক্ষ সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন। উদ্দীপকেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে সরকার আর্থিক ও রাজস্ব নীতিসহ বিভিন্ন ধরনের নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করছে। অতএব, বিভিন্ন নীতির সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া একক কোনো নীতি দিয়ে মুদ্রাস্ফীতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন