যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি বাক্সের ১০টি সন্দেশের সবগুলো একটা একটা করে খাওয়ার পর সুমা বললো যে, প্রতিটি সন্দেশই সুস্বাদু। অতএব, এই বাক্সে সকল সন্দেশই সুস্বাদু।
- ক)(1)
সাদৃশ্যানুমান কী?
- খ)(2)
বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের আরোহের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত আরোহের সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি বিষয়ের মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য বা মিল লক্ষ্য করে তাদের একটির কোনো বিশেষ গুণ থাকলে অন্যটিতেও তা থাকতে পারে বলে যে অনুমান করা হয়, তাকে সাদৃশ্যানুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ার কারণ এটি আরোহের দুটি মৌলিক আকারগত ভিত্তি—প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এবং কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
বৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল কিছু দৃষ্টান্ত দেখেই ক্ষান্ত হওয়া হয় না, বরং ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি অপরিহার্য কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার ও প্রমাণ করা হয়। যেহেতু একই কারণে সর্বদা একই কার্য সংঘটিত হয় এবং প্রকৃতি সমজাতীয় অবস্থায় একই রূপ আচরণ করে, তাই কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের কোনো ব্যতিক্রম হতে পারে না। ফলে বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সর্বদা নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অপ্রকৃত আরোহের অন্যতম প্রকারভেদ 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' (Complete Induction)-এর ইঙ্গিত রয়েছে।
যে আরোহ প্রক্রিয়ায় একটি সার্বিক যুক্তিবাক্যের সিদ্ধান্তের অন্তর্গত প্রতিটি বিশেষ দৃষ্টান্তের সবগুলোকে পৃথক পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বা নিখুঁত আরোহ বলে।
উদ্দীপকে সুমা একটি বাক্সের মোট ১০টি সন্দেশের 'সবগুলো একটা একটা করে' খেয়ে পরীক্ষা করেছে এবং দেখেছে প্রতিটি সন্দেশই সুস্বাদু। অর্থাৎ এখানে সম্ভাব্য কোনো দৃষ্টান্ত পরীক্ষা করা বাকি রাখা হয়নি; সবগুলো একক ঘটনা নিরীক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে যে 'এই বাক্সে সকল সন্দেশই সুস্বাদু'। যেহেতু এখানে কোনো আরোহমূলক লম্ফ নেই এবং সমুদয় দৃষ্টান্ত পরীক্ষা করা হয়েছে, তাই এটি পূর্ণাঙ্গ আরোহের যথার্থ দৃষ্টান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত পূর্ণাঙ্গ আরোহের সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের সুনির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে। নিম্নে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আরোহমূলক লম্ফ: পূর্ণাঙ্গ আরোহে কোনো আরোহমূলক লম্ফ বা ঝুঁকি থাকে না; কারণ এতে সকল দৃষ্টান্তই একে একে প্রত্যক্ষ করা হয় (যেমন বাক্সের ১০টি সন্দেশই খেয়ে দেখা হয়েছে)। কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহের মূল ভিত্তিই হলো আরোহমূলক লম্ফ, যেখানে 'কিছু' জানা দৃষ্টান্ত দেখে 'সকল' অজানা সম্পর্কে নিশ্চিত সার্বিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২. কার্যকারণ নিয়ম: বৈজ্ঞানিক আরোহ আবশ্যিকভাবে কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের কোনো প্রয়োজন বা প্রচেষ্টা থাকে না; এটি কেবল গণনামূলক প্রক্রিয়া।
৩. সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র: পূর্ণাঙ্গ আরোহ কেবল সীমিত ও নির্দিষ্ট পরিসরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (যেমন বাক্সের ১০টি সন্দেশ)। কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহের পরিসর অসীম ও উন্মুক্ত; এটি যেকোনো সামগ্রিক প্রাকৃতিক ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারে।
৪. সিদ্ধান্তের রূপ: পূর্ণাঙ্গ আরোহে সিদ্ধান্তের সত্যতা সহজে পরীক্ষাযোগ্য এবং এতে নতুন কোনো জ্ঞান পাওয়া যায় না, কেবল পৃথক তথ্যগুলোকে সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়। পক্ষান্তরে, বৈজ্ঞানিক আরোহে একটি মৌলিক ও সার্বিক নতুন জ্ঞান অর্জিত হয়।
৫. শ্রেণিবিভাগ: পূর্ণাঙ্গ আরোহ আরোহমূলক লম্ফ না থাকায় যুক্তিবিদ মিলের মতে 'অপ্রকৃত আরোহ'। পক্ষান্তরে, বৈজ্ঞানিক আরোহ হলো আরোহের সকল লক্ষণযুক্ত একটি 'প্রকৃত আরোহ'।
সুতরাং, উদ্দীপকের পূর্ণাঙ্গ আরোহের চেয়ে বৈজ্ঞানিক আরোহ গঠনগত ও যৌক্তিক মর্যাদার দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও উচ্চতর স্তরের।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও