ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
ইফাত, সিফাত ও রিফাত মৌখিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি অংশীদারি ব্যবসায় স্থাপন করেন। তিনজনেই সমপরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করেন। মুনাফা ও সমান হারে ভোগ করেন। চুক্তির শর্ত অনুসারে রিফাত শুধু মূলধনের সমপরিমাণ দায় বহন করবে। সম্প্রীতি একজন দেনাদার প্রতিষ্ঠায় পাওনা ৫০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে গড়িমসি করছেন। এজন্য অংশীদাররা পাওনা আদায় আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছে।
- ক)(1)
চুক্তি কি?
- খ)(2)
সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় কি? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের অংশীদারী সংগঠন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উল্লেখিত পরিস্থিতিতে "পাওনা আদায়ের আদালতের আশ্রয় নেওয়া উত্তম"- তুমি কি একমত যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য বা আইনগত বাধ্যবাধকতা সৃষ্টিকারী পারস্পরিক সম্মতি বা প্রতিশ্রুতির সমঝোতাকে চুক্তি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অংশীদারি ব্যবসায়ে অন্তত একজন অংশীদারের দায় সীমাবদ্ধ থাকে এবং অন্যূন একজন অংশীদারের দায় অসীম থাকে, তাকে সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
সাধারণত কোনো অংশীদারের দায় তার বিনিয়োগকৃত মূলধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার শর্তে এরূপ ব্যবসায় গঠিত হয়। তবে সীমাবদ্ধ অংশীদারের কোনো পরিচালনাগত কর্তৃত্ব থাকে না এবং তার মৃত্যু বা দেউলিয়াত্বে সাধারণত ব্যবসায়টি বিলুপ্ত হয় না। অংশীদারদের বিশেষ নিরাপত্তা বিধানের উদ্দেশ্যেই এরূপ সংগঠন গড়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি একটি 'সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায়' সংগঠন।
যে অংশীদারি কারবারে সাধারণ অংশীদারদের পাশাপাশি অন্তত একজন অংশীদারের দায় চুক্তি অনুযায়ী তার বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তাকে সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় বলে। এতে কমপক্ষে একজন অংশীদারের দায় অসীম থাকা বাধ্যতামূলক।
উদ্দীপকে ইফাত, সিফাত ও রিফাত সমপরিমাণ মূলধন ও সমান হারে মুনাফা বণ্টনের ভিত্তিতে একটি অংশীদারি ব্যবসায় শুরু করেন। কিন্তু চুক্তির শর্তানুসারে রিফাতের দায় কেবল তার মূলধনের সমপরিমাণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ রিফাত একজন সীমাবদ্ধ অংশীদার। বাকি দুই অংশীদার ইফাত ও সিফাতের দায় সাধারণ নিয়মে অসীম। ব্যবসায়ে একজন সীমাবদ্ধ অংশীদার থাকায় এটি একটি সীমাবদ্ধ অংশীদারি সংগঠন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে "পাওনা আদায়ে আদালতের আশ্রয় নেওয়া উত্তম"—এ সিদ্ধান্তের সাথে আমি একমত নই। কারণ প্রতিষ্ঠানটি একটি অনিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায়।
১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইনের ৬৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো অনিবন্ধিত অংশীদারি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১০০ টাকার অধিক পাওনা আদায়ের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইফাত, সিফাত ও রিফাত মৌখিক সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসায়টি স্থাপন করেছিলেন। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির কোনো লিখিত ও সরকার-নিবন্ধিত চুক্তিপত্র নেই; এটি সম্পূর্ণ অনিবন্ধিত। ফলে প্রতিষ্ঠানের দেনাদারের কাছে থাকা ৫০ লক্ষ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য তারা সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করার আইনগত অধিকার রাখেন না। অনিবন্ধিত অবস্থায় আদালতে গেলে তাদের আবেদন আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
অতএব, আদালতের আশ্রয় না নিয়ে অংশীদারদের উচিত হবে পারস্পরিক আলোচনা, দেনাদারের সাথে আপস-মীমাংসা কিংবা সালিসের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা, অথবা প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত নিবন্ধন করে আইনগত সক্ষমতা অর্জন করা। সুতরাং অনিবন্ধিত অবস্থায় সরাসরি আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্তটি সমীচীন নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও