বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
তথ্যছক-ক | তথ্যছক-খ
- বিহার, বারাণসি পর্যন্ত রাজ্যসীমা বৃদ্ধি * শৈব ধর্মের উপাসক * মহাসামন্ত | * রাজত্বকাল (৭৮১–৮২১) * ভাগলপুরে মঠ নির্মাণ * বিক্রমশীল
- ক)(1)
বল্লাল সেন কোন ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন?
- খ)(2)
“কৈবর্ত বিদ্রোহ” কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
তথ্যছক-ক। বাংলার প্রাচীন যে রাজার সাথে সম্পর্কিত তার রাজত্বকাল বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর তথ্যছক-খ এর ইঙ্গিতকৃত পাল রাজার কারণেই বৌদ্ধধর্ম পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বল্লাল সেন হিন্দু (ব্রাহ্মণ্য) ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- খ)
পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালের শাসনামলে অত্যাচার ও অব্যবস্থায় প্রজারা অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে। এই সুযোগে উচ্চপদস্থ কর্মচারী কৈবর্ত নেতা দিব্য বা দিব্বোক বিদ্রোহ করে মহীপালকে হত্যা করে বরেন্দ্র দখল করেন। এরপর দিব্যর ভাই রুদ্রক ও তাঁর পুত্র ভীম বরেন্দ্র শাসন করেন। পরে পাল রাজা রামপাল ভীমকে পরাজিত করে বরেন্দ্র পুনরুদ্ধার করেন।
- গ)
তথ্যছক-ক শশাঙ্কের সঙ্গে সম্পর্কিত, কারণ তিনি গৌড়ের শৈব ধর্মাবলম্বী শাসক ছিলেন এবং প্রথমে গুপ্তদের মহাসামন্ত ছিলেন।
১. শশাঙ্ক প্রথমে মহাসামন্ত থেকে স্বাধীন শাসক হয়ে ওঠেন এবং কর্ণসুবর্ণকে রাজধানী করেন।
২. তাঁর সময় গৌড় রাজ্যের সীমা উত্তর ও পশ্চিমে বিহার ও বারাণসী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
৩. তিনি মৌখরিদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান এবং থানেশ্বর-কনৌজের হর্ষবর্ধনের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
৪. তিনি সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে শাসন করেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। - ঘ)
তথ্যছক-খ-এর সময়কাল (৭৮১–৮২১) এবং বিক্রমশীল বিহার নির্মাণ দেখে বোঝা যায় রাজাটি ধর্মপাল।
১. ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি বিক্রমশীল ও সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করে বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র গড়ে তোলেন এবং নালন্দা বিহারেরও পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
২. তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু বৌদ্ধ পণ্ডিত আশ্রয় পান।
৩. তবে বৌদ্ধ ধর্মের পুনরুজ্জীবন একা তাঁর কৃতিত্ব নয়; পাল বংশের অন্য রাজারা, বিশেষ করে গোপাল ও দেবপালও বৌদ্ধ ধর্মের উন্নতিতে অবদান রেখেছেন।সুতরাং, ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্ম পুনরুজ্জীবনে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন, কিন্তু একমাত্র কারণ নন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও