জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
উদ্দীপকটি লক্ষ্য করঃ

- ক)(1)
প্লাজমা কী?
- খ)(2)
রক্তে O₂ এর ভারসাম্য রক্ষা হয় কীভাবে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'Z' অংশে যদি দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না হয় তাহলে কী কী সমস্যা দেখা যায়?
- ঘ)(4)
'X' ও 'Y' এর আলোকে উদ্দীপকের সংবহন প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা (plasma) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রক্তে O₂-এর ভারসাম্য মূলত ব্যাপন প্রক্রিয়া ও হিমোগ্লোবিনের সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে রক্ষিত হয়। ফুসফুসের অ্যালভিওলাইয়ে O₂-এর আংশিক চাপ বেশি থাকায় তা রক্তে প্রবেশ করে লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে অস্থায়ী অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে। পরবর্তীতে দেহকোষে যেখানে O₂-এর ঘনত্ব বা চাপ কম থাকে, সেখানে অক্সিহিমোগ্লোবিন ভেঙে O₂ মুক্ত হয়ে কোষে প্রবেশ করে। এভাবে দেহের চাহিদা অনুযায়ী রক্তে O₂-এর ভারসাম্য বজায় থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'Z' চিহ্নিত অংশটি হলো মানবদেহের হৃদপিণ্ড (Heart)। হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট করোনারি ধমনি রয়েছে। এই অংশে যদি দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না হয় (মায়োকার্ডিয়াল ইস্কেমিয়া), তবে নিম্নলিখিত শারীরিক সমস্যাগুলো দেখা দেয়:
১. এনজাইনা (Angina): হৃদপেশিতে অক্সিজেন ঘাটতির কারণে বুকে তীব্র চাপ, ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, যা বাম বাহু, কাঁধ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
২. হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (Heart Attack): দীর্ঘ সময় রক্ত সরবরাহ বন্ধ থাকলে হৃদপেশির নির্দিষ্ট অংশের কোষগুলো অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবে ধ্বংস বা নেক্রোসিস হয়ে যায়, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক ঘটে।
৩. হার্ট ফেইলিউর (Heart Failure): ক্ষতিগ্রস্ত হৃদপেশি দুর্বল হয়ে পড়ায় সারা দেহে পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি এবং ফুসফুস ও পায়ে পানি জমার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
৪. কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া: রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটলে হৃদস্পন্দনের ছন্দ নষ্ট হয়ে অনিয়মিত ও মারাত্মক হৃদস্পন্দন হতে পারে, এমনকি হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মৃত্যুও হতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'Z' হলো হৃদপিণ্ড, 'X' হলো ফুসফুস এবং 'Y' হলো সমগ্র দেহ। চিত্রটিতে হৃদপিণ্ডের মাধ্যমে দ্বি-সংবহন (Double Circulation) প্রক্রিয়াটি প্রদর্শিত হয়েছে, যা দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত:
১. পালমোনারি সংবহন (Z থেকে X):
হৃদপিণ্ডের ডান নিলয় (Right Ventricle) থেকে CO₂ সমৃদ্ধ রক্ত পালমোনারি ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে (X) পৌঁছায়। ফুসফুসে গ্যাসীয় বিনিময়ের মাধ্যমে রক্ত থেকে CO₂ বের হয়ে যায় এবং O₂ রক্তে যুক্ত হয়। পরবর্তীতে এই O₂ সমৃদ্ধ রক্ত পালমোনারি শিরার মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের বাম অলিন্দে (Left Atrium) ফিরে আসে।২. সিস্টেমিক সংবহন (Z থেকে Y):
হৃদপিণ্ডের বাম নিলয় (Left Ventricle) থেকে O₂ সমৃদ্ধ রক্ত প্রধান ধমনি বা মহাধমনির (Aorta) মাধ্যমে সারা দেহে (Y) বাহিত হয়। দেহের টিস্যু বা কোষে O₂ ব্যবহৃত হয়ে বিপাকীয় বর্জ্য হিসেবে CO₂ উৎপন্ন হয়। এই CO₂ সমৃদ্ধ রক্ত কৈশিক জালিকা থেকে শিরা এবং ঊর্ধ ও নিম্ন মহাশিরা হয়ে পুনরায় হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দে (Right Atrium) প্রবেশ করে।এভাবে 'X' (ফুসফুস) এবং 'Y' (দেহ)-এর সমন্বয়ে হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে রক্ত দ্বি-সংবহন পদ্ধতিতে চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে দেহের স্বাভাবিক গ্যাসীয় ভারসাম্য ও সংবহন বজায় রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও