অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ বর্তমানে মধ্যম আয়ের দেশ। বিভিন্ন খাতের মতো কৃষির অবদান যথেষ্ট। আগে অধিকাংশ জমি ছিল এক ফসলি। এখন কোনো জমি পতিত নেই। প্রতিটি জমিতে বছরে তিন/চার ফসলও উৎপন্ন হয়। আলুর সাথে মিষ্টিকুমড়া ও ভুট্টা হয়। ফলে কৃষকের আয় বাড়ছে, নতুন কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ছে, কৃষকের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। সরকার ও কৃষকের জন্য আর্থিক প্রণোদনাসহ বীজ, কীটনাশক সরবরাহ করে কৃষকদের সহায়তা করছে।

  1. ক)

    কৃষি প্রযুক্তি কী?

    (1)
  2. খ)

    বাণিজ্যিক ও জীবননির্বাহী খামারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পার্থক্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে শস্য বহুমুখীকরণের সুবিধাসমূহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    শস্য বহুমুখীকরণে সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ কি যথেষ্ট? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষিকাজে উৎপাদন বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক কলাকৌশল, উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারকে কৃষি প্রযুক্তি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাণিজ্যিক ও জীবননির্বাহী খামারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পার্থক্য হলো:
    ১. উদ্দেশ্যগত পার্থক্য: জীবননির্বাহী খামারের প্রধান উদ্দেশ্য পরিবারের সদস্যদের জীবনধারণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; অন্যদিকে বাণিজ্যিক খামারের মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা।
    ২. উৎপাদনের উপকরণ ও পদ্ধতির পার্থক্য: জীবননির্বাহী খামারে সাধারণত সনাতন প্রযুক্তি এবং পরিবারের নিজস্ব শ্রম ব্যবহার করা হয়; পক্ষান্তরে বাণিজ্যিক খামারে আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি এবং ভাড়াটে দক্ষ শ্রম ব্যবহার করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কৃষিতে শস্য বহুমুখীকরণের প্রতিফলন ঘটেছে। একই জমিতে বছরে একাধিক ও বিভিন্ন জাতের ফসল (যেমন—আলুর সাথে মিষ্টিকুমড়া ও ভুট্টা) ফলানোই হলো শস্য বহুমুখীকরণ। উদ্দীপকের আলোকে এর সুবিধাসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. কৃষকের আয় বৃদ্ধি: জমিতে সারা বছর পালাক্রমে বিভিন্ন ধরনের লাভজনক ফসল উৎপাদন করায় কৃষকের মোট উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং তাদের নিয়মিত আয় বৃদ্ধি পায়।
    ২. মাটির উর্বরতা রক্ষা: একই জমিতে ক্রমাগত একই ফসল চাষ না করে বৈচিত্র্যময় ফসল চাষ করলে মাটির পুষ্টিগুণ বজায় থাকে এবং উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
    ৩. ঝুঁকি হ্রাস: কোনো একটি ফসল প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রোগবালাইয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য ফসল থেকে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, ফলে কৃষকের আর্থিক ঝুঁকি হ্রাস পায়।
    ৪. সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও আধুনিকায়ন: কোনো জমি পতিত না রেখে কার্যকর ব্যবহারের ফলে কৃষিতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ত্বরান্বিত হয় এবং কৃষকের মৌলিক চাহিদা পূরণ সহজতর হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষকদের আর্থিক প্রণোদনা, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ শস্য বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সার্বিক বিবেচনায় সরকার কর্তৃক গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণ পর্যাপ্ত নয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকারের আর্থিক প্রণোদনা, মানসম্মত বীজ ও কীটনাশক সরবরাহের ফলে কৃষকরা একই জমিতে তিন-চারটি ফসল ফলাতে পারছে, যার ফলে তাদের আয় ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ছে। এগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

    তবে শস্য বহুমুখীকরণকে দেশব্যাপী টেকসই ও কার্যকর রূপ দিতে আরও কিছু জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন:
    ১. আধুনিক সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন: আলু, শাকসবজি ও ভুট্টা সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকলে কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়।
    ২. সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ: ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সরাসরি কৃষিঋণ পৌঁছানো জরুরি।
    ৩. বিপণন ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের জন্য লাভজনক বিপণন চেইন গড়ে তোলা প্রয়োজন।
    ৪. কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প সম্প্রসারণ: উৎপাদিত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে শস্য বহুমুখীকরণ আরও গতিশীল হবে।

    অতএব, সরকারি সহায়তা ইতিবাচক সূচনা তৈরি করলেও শস্য বহুমুখীকরণের স্থায়ী সুবিধার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজারজাতকরণ ও ঋণের সুযোগ আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন