অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা উন্নত নয়। দরিদ্রতা, অনুন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, গুদামজাতকরণ ও সংরক্ষণ সমস্যা এবং দুর্বল বাজার কাঠামোর কারণে কৃষকেরা ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কৃষিবিমা প্রচলন ও কৃষি তথ্য সার্ভিস চালুসহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
- ক)(1)
মাশরুম কী?
- খ)(2)
আমিষের অভাব পূরণে হাঁস-মুরগি পালন কীভাবে ভূমিকা রাখে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাশরুম হলো এক প্রকার ভোজ্য, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অঙ্গ (বা ব্যাসিডিওকার্প)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাঁস-মুরগি পালন মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। হাঁস ও মুরগির মাংস এবং ডিম সহজলভ্য ও উচ্চমানের প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস। এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং স্বল্প খরচে উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর করতে এবং দৈনন্দিন সুষম খাদ্যে আমিষের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে বিদ্যমান প্রধান সমস্যাগুলো নিচে চিহ্নিত করা হলো:
১. কৃষকের দারিদ্র্য ও আর্থিক অসচ্ছলতা: কৃষকরা দরিদ্র হওয়ায় ফসল তোলার সাথে সাথেই কম মূল্যে দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হয়।
২. অনুন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: দুর্গম অঞ্চল ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষিপণ্য দ্রুত ও কম খরচে শহরের বড় বাজারে পৌঁছানো যায় না, ফলে স্থানীয় বাজারে পানির দরে বিক্রি করতে হয়।
৩. গুদামজাতকরণ ও সংরক্ষণ সুবিধার অভাব: পচনশীল ফসল নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ বা আধুনিক গুদামের অভাব থাকায় ফসলের বড় অংশ নষ্ট হয় কিংবা কম মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
৪. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও দুর্বল বাজার কাঠামো: দালাল, ফড়িয়া ও আড়তদারদের মতো মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের কারণে প্রকৃত কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয় এবং মুনাফার সিংহভাগ মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি পদক্ষেপগুলোর (অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কৃষিবিমা, কৃষি তথ্য সার্ভিস) পাশাপাশি আরও কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত:
১. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস: উৎপাদক কৃষক এবং সরাসরি ভোক্তার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য সমবায় বিপণন ব্যবস্থা জোরদার করা এবং কৃষকের বাজার (Farmers' Market) চালু করা।
২. পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ: স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ও যৌথ উদ্যোগে আধুনিক হিমাগার ও গুদাম স্থাপন করা, যাতে কৃষক পণ্য সংরক্ষণ করে অফ-সিজনে বিক্রি করতে পারে।
৩. সরকারি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ও সরাসরি সংগ্রহ: প্রতিটি প্রধান ফসলের জন্য লাভজনক ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) ঘোষণা করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ফসল ক্রয় নিশ্চিত করা।
৪. সহজ শর্তে শস্য জামানতি ঋণ: ফসল তোলার সাথে সাথে অভাবের তাড়নায় ফসল বিক্রি ঠেকাতে সংরক্ষিত ফসলের রসিদের বিপরীতে কৃষকদের সহজ শর্তে স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদান করা।
৫. প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিস্তার: উদ্বৃত্ত ও পচনশীল কৃষি পণ্য ব্যবহার করে কৃষিনির্ভর প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা, যাতে অতিরিক্ত ফসলের যথাযথ ব্যবহার ও চাহিদা থাকে।সুতরাং, উল্লিখিত সমন্বিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করলে কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও