জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
গ্লুকোজ →ধাপQ \xrightarrow{\text{ধাপ}^{\text{Q}}} পাইরুভিক এসিড →ধাপR \xrightarrow{\text{ধাপ}^{\text{R}}} এসিটাইল কো-এ →ধাপSNADH2FADH2CO2→ধাপTATP \xrightarrow{\text{ধাপ}^{\text{S}}} \begin{matrix} \text{NADH}_2 \ \text{FADH}_2 \ \text{CO}_2 \end{matrix} \xrightarrow{\text{ধাপ}^{\text{T}}} \text{ATP}
- ক)(1)
পার্থোনোজেনেসিস কী?
- খ)(2)
অ্যাপোস্পোরি এবং অ্যাপোগ্যামি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের S ধাপটি ছকের মাধ্যমে দেখাও।
- ঘ)(4)
জীবজগতে উদ্দীপকটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিষেক ছাড়াই ডিম্বাণু থেকে সরাসরি ভ্রূণ বা নতুন অপত্য সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অ্যাপোস্পোরি (Apospory): মিয়োসিস ছাড়া অর্থাৎ রেণু সৃষ্টি ব্যতিরেকে স্পোরোফাইটের (ডিপ্লয়েড) কোনো দেহকোষ থেকে সরাসরি গ্যামিটোফাইট (ডিপ্লয়েড) সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে অ্যাপোস্পোরি বলে।
অ্যাপোগ্যামি (Apogamy): ডিম্বাণু বা জননকোষের নিষেক ছাড়াই গ্যামিটোফাইটের অন্য যেকোনো হ্যাপ্লয়েড কোষ থেকে সরাসরি স্পোরোফাইট সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে অ্যাপোগ্যামি বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'S' ধাপটি হলো ক্রেবস চক্র (Krebs cycle) বা সাইট্রিক এসিড চক্র। নিচে ছকের মাধ্যমে ধাপটি দেখানো হলো:
১. অক্সালোঅ্যাসিটিক এসিড (4C) + অ্যাসিটাইল কো-এ (2C) + H₂O → সাইট্রিক এসিড (6C) + CoA-SH [এনজাইম: সাইট্রেট সিন্থেস]
২. সাইট্রিক এসিড (6C) ⇌ সিস-অ্যাকোনিটিক এসিড (6C) + H₂O ⇌ আইসোসাইট্রিক এসিড (6C) [এনজাইম: অ্যাকোনিটেজ]
৩. আইসোসাইট্রিক এসিড (6C) + NAD⁺ → অক্সালোসাকসিনিক এসিড (6C) + NADH + H⁺ [এনজাইম: আইসোসাইট্রেট ডিহাইড্রোজিনেজ]
৪. অক্সালোসাকসিনিক এসিড (6C) → α-কিটোগ্লুটারিক এসিড (5C) + CO₂ [এনজাইম: ডিকার্বক্সিলেজ]
৫. α-কিটোগ্লুটারিক এসিড (5C) + CoA-SH + NAD⁺ → সাকসিনাইল কো-এ (4C) + CO₂ + NADH + H⁺ [এনজাইম: α-কিটোগ্লুটারেট ডিহাইড্রোজিনেজ]
৬. সাকসিনাইল কো-এ (4C) + GDP + Pi → সাকসিনিক এসিড (4C) + GTP + CoA-SH [এনজাইম: সাকসিনাইল কো-এ সিন্থেটেজ]
৭. সাকসিনিক এসিড (4C) + FAD → ফিউমারিক এসিড (4C) + FADH₂ [এনজাইম: সাকসিনেট ডিহাইড্রোজিনেজ]
৮. ফিউমারিক এসিড (4C) + H₂O → ম্যালিক এসিড (4C) [এনজাইম: ফিউমারেজ]
৯. ম্যালিক এসিড (4C) + NAD⁺ → অক্সালোঅ্যাসিটিক এসিড (4C) + NADH + H⁺ [এনজাইম: ম্যালট ডিহাইড্রোজিনেজ]এভাবে উৎপন্ন অক্সালোঅ্যাসিটিক এসিড পুনরায় নতুন অ্যাসিটাইল কো-এ-এর সাথে যুক্ত হয়ে চক্রটিকে সচল রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি হলো সবাত শ্বসন (Aerobic Respiration)। জীবজগতে এর গুরুত্ব অপরিসীম:
১. শক্তি উৎপাদন: শ্বসনের মূল উদ্দেশ্য হলো শক্তি উৎপন্ন করা। উদ্দীপকে ১ অণু গ্লুকোজ জারিত হয়ে সর্বমোট ৩০ থেকে ৩২ অণু এটিপি (বা জৈবশক্তি) উৎপন্ন করে, যা জীবের সকল জৈবনিক ক্রিয়াকলাপ (যেমন—বৃদ্ধি, চলন, প্রজনন ইত্যাদি) পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়।
২. গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষা: শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন গৃহীত হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করা হয়, যা পরিবেশের O₂ এবং CO₂-এর ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। নির্গত CO₂ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে।
৩. জৈব এসিড ও বিপাকীয় মধ্যবর্তী পদার্থ উৎপাদন: শ্বসনের ধাপগুলোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জৈব এসিড (যেমন—পাইরুভিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, α-কিটোগ্লুটারিক এসিড ইত্যাদি) তৈরি হয়, যা প্রোটিন, লিপিড ও অন্যান্য জৈব যৌগ সংশ্লেষের পূর্বসূরি হিসেবে কাজ করে।
৪. খনিজ লবণ পরিশোষণ: উদ্ভিদের মূলরোম দিয়ে সক্রিয় পরিশোষণে প্রয়োজনীয় বিপাকীয় শক্তি শ্বসন থেকেই সরবরাহ হয়।
৫. শিল্প ক্ষেত্রে ভূমিকা: শ্বসনের বিভিন্ন ধাপভিত্তিক প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে গাঁজন, বেকারি ও অ্যালকোহল শিল্প পরিচালিত হয়।
সুতরাং, উদ্দীপকে নির্দেশিত শ্বসন প্রক্রিয়াটি জীবজগতের অস্তিত্ব ও শক্তির প্রধান ভিত্তি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও