সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

সহপাঠ প্রশ্ন

লক্ষীপুর গ্রামের দাহির ও পারুলের আজ সাত বছরের সংসার। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো তাদের কোনো সন্তান নেই। এজন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চরম হতাশায় নিমজ্জিত। এমন অবস্থায় তারা শুনতে পায়, পাশের গ্রামের চেয়ারম্যানের বাড়িতে এক কামেল পির সাহেব এসেছে। তাদের মনে যেন আশার আলো জ্বলে। স্ত্রী পারুলকে সাথে নিয়ে পরদিনই দাহির পির সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করে। পির সাহেব পারুলকে অনেকক্ষণ নিরীক্ষণ করে জানায়, “পেটে বেড়ি পড়ে বইলাই তো স্ত্রীলোকদের সন্তান হয় না।”

  1. ক)

    ‘লালসালু’ উপন্যাস কত সালে প্রকাশিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    “শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি।”- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দাহির ও পারুলের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন কোন চরিত্রের সাদৃশ্য আছে? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের পির সাহেব ‘লালসালু’ উপন্যাসে বর্ণিত পির সাহেবের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী নয়।” এ মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘লালসালু’ উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি।”—উক্তিটি দ্বারা ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ গ্রামীণ জনপদের চরম অভাব-অনটন এবং সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের অন্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস ও অজ্ঞতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।

    মজিদের পূর্বের অঞ্চলটিতে ফসলের উৎপাদন ছিল অপ্রতুল, কিন্তু মানুষের মুখে মুখে ধর্মের প্রকাশ বা টুপি ছিল শস্যের চেয়েও বেশি। সেখানে মানুষের ধর্মীয় চেতনার সঠিক বিকাশ ঘটেনি; বরং নানা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ভণ্ডামির আগাছা সমাজে ছড়িয়ে পড়েছিল। মানুষ প্রকৃত ধর্মের মর্মার্থ না বুঝে ধর্মের বাহ্যিক রূপ ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিল—উক্তিটিতে এই দিকটিই নির্দেশ করা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দাহির ও পারুলের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী ও তার প্রথমা স্ত্রী আমেনা বিবির চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

    ‘লালসালু’ উপন্যাসে দেখা যায়, খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির তেরো বছরের বিবাহিত জীবনে কোনো সন্তান হয়নি। সমাজের চাপে ও মাতৃত্বের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় আমেনা বিবি নিঃসন্তান হওয়ার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিল। তাই নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান লাভের আশা তাদের পিরের দ্বারস্থ করে। খালেক ব্যাপারীও স্ত্রীর প্রতি মায়াবশত প্রথমে তার এই সন্তান কামনার বিষয়টিতে সমর্থন জুগিয়েছিল এবং আওয়ালপুরের পিরের কাছে পানি পড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, দাহির ও পারুল দম্পতির সাত বছরের বিবাহিত জীবনে কোনো সন্তান না থাকায় তারা চরম হতাশায় ভোগে। সন্তান লাভের তীব্র আশায় পারুলকে নিয়ে দাহির পাশের গ্রামের চেয়ারম্যানের বাড়িতে আসা কামেল পির সাহেবের শরণাপন্ন হয়। সুতরাং নিঃসন্তান থাকার বেদনা এবং সন্তান কামনায় পিরের ওপর নির্ভর করার দিক থেকে উদ্দীপকের দাহির ও পারুল ‘লালসালু’ উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী ও আমেনা বিবির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের পির সাহেব ‘লালসালু’ উপন্যাসে বর্ণিত পির সাহেবের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী নয়।”—মন্তব্যটি যথার্থ।

    ‘লালসালু’ উপন্যাসে দুই ধরনের পির চরিত্র দেখা যায়—একজন স্বঘোষিত মাজারকেন্দ্রিক মজিদ এবং অন্যজন আওয়ালপুরের খ্যাতিমান পির সাহেব। বিশেষ করে আওয়ালপুরের পির সাহেবের প্রভাব ও প্রতিপত্তি ছিল অত্যন্ত প্রবল। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত তাঁর কাছে আসত এবং তাঁর ক্ষমতা ও অলৌকিক শক্তির প্রতি সাধারণ মানুষের অখণ্ড বিশ্বাস ছিল। এমনকি মহব্বতনগর গ্রামের অন্যতম মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর প্রথমা স্ত্রী আমেনাও তাঁর ভক্ত হয়ে সন্তান কামনায় পানি পড়া চেয়ে পাঠায়। পিরের উপস্থিতি ও প্রভাব সমগ্র অঞ্চলে এক বিশাল ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

    অন্যদিকে উদ্দীপকে বর্ণিত পির সাহেব পাশের গ্রামের চেয়ারম্যানের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া একজন ধর্মব্যবসায়ী। সে পারুলকে দেখে কেবল সনাতন গ্রামীণ কুসংস্কারমূলক অপব্যাখ্যা দেয় যে, “পেটে বেড়ি পড়ে বইলাই তো স্ত্রীলোকদের সন্তান হয় না।” তার প্রভাব চেয়ারম্যানের বাড়ির আঙিনায় বা একটি নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যেই সীমিত এবং তার অলৌকিক আধিপত্য উপন্যাসোক্ত আওয়ালপুরের পিরের মতো ব্যাপক ও প্রভাবশালী নয়।

    সুতরাং দেখা যায়, প্রভাব-প্রতিপত্তি, জনসমর্থনের বিস্তার এবং সমাজকে প্রভাবিত করার মাত্রার দিক দিয়ে উদ্দীপকের পির সাহেব ‘লালসালু’ উপন্যাসের প্রতিপত্তিশালী পির সাহেবের চেয়ে কোনোভাবেই বেশি ক্ষমতাশালী নন। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন